গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল চারটা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।
এর আগে সোমবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন এবং সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
স্থানীয়দের তথ্য মতে, গতকাল সন্ধ্যায় পূর্ববিরোধের জেরে বিএনপির কর্মীরা বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের এক নেতাকে মারধর করলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা জুনদহ বাজারে জড়ো হলে একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে তাঁদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধে।
এতে পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুস সামাদসহ উভয় পক্ষের অন্তত আটজন আহত হন।
আহতদের মধ্যে তিনজনকে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং গুরুতর আহত বিএনপি সভাপতি আবদুস সামাদকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, সংঘর্ষের সময় জুনদহ বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু আলা মওদুদ মুঠোফোনে অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরাই বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের সভাপতিসহ তিনজনকে মারাত্মক আহত করেছে।
অন্যদিকে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিএনপির কর্মীরা প্রথমে শিবিরের এক নেতাকে মারধর করে এবং পরে দলবল নিয়ে এসে জামায়াতের শুরা সদস্যসহ চার-পাঁচজনকে পিটিয়ে আহত করে।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারওয়ার আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘জামায়াত-শিবিরের মেরুদণ্ডটা আবার ভেঙে দেন’