যুদ্ধে মিয়ানমারে ৬৩ লাখ শিশু স্কুলবঞ্চিত

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১২:০৫ এএম

মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ দেশটির শিশুদের ওপর ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জান্তা ও বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতে একদিকে যেমন অকালেই ঝরে যাচ্ছে অনেক শিশুপ্রাণ, অন্যদিকে এদের একটি বিশাল অংশকে থাকতে হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে। মিয়ানমারের থিংকট্যাংক ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পলিসি-মিয়ানমার (আইএসপি-মিয়ানমার) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্কুলে যেতে পারছে না ৬৩ লাখের বেশি শিশু। এই হিসাব অনুসারে, দেশটির মোট স্কুলগামী বয়সী শিশুর প্রায় অর্ধেক এখন শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে। এই পরিস্থিতির জন্য দারিদ্র্য, চলমান সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি এবং প্রশাসনিক জটিলতাকে দায়ী করা হয়েছে। থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম দ্য ইরাবতীর প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

আইএসপি-মিয়ানমারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জুন থেকে শুরু হওয়া নতুন শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে নিবন্ধিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬৭ লাখ। অথচ সামরিক অভ্যুত্থানের আগে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা ছিল ৯৭ লাখ। দেশটিতে বর্তমানে স্কুলগামী বয়সী শিশুর সংখ্যা আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লাখ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকট বহু পরিবারকে সন্তানদের স্কুল ছাড়তে বাধ্য করছে। ইয়াঙ্গুনের দুই সন্তানের এক মা ইরাবতীকে বলেন, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া মেয়েকে তিনি আর স্কুলে পাঠাতে পারছেন না। তিনি বলেন, স্কুলে কোনো ফি না থাকলেও বই ও ইউনিফর্মের খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। সে পড়তে চেয়েছিল, কিন্তু দিনমজুরির আয় দিয়ে আর সম্ভব নয়।

শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, যুদ্ধও শিক্ষাজীবন ভেঙে দিচ্ছে। ২০২১ সালের পর রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে থাকা দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য সম্প্রতি প্লেসমেন্ট পরীক্ষা চালু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে এই সুযোগ প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকায় উচ্চমাধ্যমিক বয়সী বহু শিক্ষার্থীর আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয়নি। অন্যদিকে সংঘাতে বাস্তুচ্যুত শিক্ষার্থীদের অনেকেই আগের স্কুলের সনদ বা শিক্ষাসংক্রান্ত নথি না থাকায় নতুন করে ভর্তি হতে পারছে না। সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা নিয়ন্ত্রিত শিক্ষাব্যবস্থা বর্জনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষা কাঠামো গড়ে তোলে ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট (এনইউজি)। মধ্য মিয়ানমারের প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পরিচালিত এই ব্যবস্থার আওতায় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৬ হাজার স্কুলে ৭ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেছে। তবে বিকল্প ব্যবস্থাও নিরাপদ নয়। সাগাইন অঞ্চলের প্রতিরোধ-নিয়ন্ত্রিত খিন ইউ টাউনশিপের শিক্ষা কমিটির এক সদস্য বলেন, নিরাপত্তা উদ্বেগে অনেক পরিবার সন্তানদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করেছে। কেউ কেউ আবার জান্তা-নিয়ন্ত্রিত স্কুলে যাচ্ছে, কারণ সেখানে অন্তত বিমান হামলার ঝুঁকি তুলনামূলক কম। ২০২৫ সালের মে মাসে সাগাইং অঞ্চলের দেপায়িন টাউনশিপে এনইউজি পরিচালিত একটি স্কুলে যুদ্ধবিমানের হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত