ব্যাটিং ব্যর্থতা ডুবাল বাংলাদেশকে

আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:১২ এএম

পাঁচ দিনের টেস্ট স্রেফ আড়াই দিনে শেষ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ও ৮৫ রানের হার কিছুতেই মানতে পারছে না বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। গতকাল হারের পর তার কণ্ঠে বিস্ময় ‘সম্পূর্ণভাবে ব্যাটিং ব্যর্থতা। আমরা মনে হয়, আমরা টেস্ট ম্যাচটা নিয়ে একটু বিভ্রান্তিতে ছিলাম।’ সে বিভ্রান্তি নিজেই পরিষ্কার করেন বাশার, ‘একদম ভালো ব্যাটিং করিনি। এভাবে ব্যাটিং করে আসলে টেস্ট ম্যাচ জেতা কিংবা টিকে থাকা কঠিন। বোলিং আরও ভালো হতে পারত। কিন্তু আমি মনে করি, মূল সমস্যা ব্যাটিংয়ে। দুই ইনিংসেই ব্যর্থ হয়েছি। প্রথম ইনিংসে ১৪০ রান করলে ওই টেস্টে টিকে থাকা খুবই কঠিন। দ্বিতীয় ইনিংসে আরও ভালো ব্যাটিং আশা করেছিলাম, সেখানেও হয়নি। টপ অর্ডারে রান আসেনি।’

হারারেতে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ১৪০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের জন্য এটাকেই কাঠ গড়ায় তোলেন সফরকারী অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও, ‘প্রথম ইনিংসে আমরা ভালো ব্যাটিং করিনি। সেটাই আমাদের ম্যাচটা হাত থেকে বের করে নিয়ে গেছে।’ একই উইকেটে ব্যাট হাতে দাপট দেখান স্বাগতিকরা। ইনসেন্ট কাইয়ার সেঞ্চুরিতে ৪১০ রান করে জিম্বাবুয়ে, লিড পায় ২৭০ রানের। ঘুরে দাঁড়াতে ১ উইকেটে ৪০ রান নিয়ে গতকাল তৃতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৫ রান যোগ করতে বাকি ৯ উইকেট হারান লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫ রানে অলআউট হন শান্তরা।

দুই ইনিংসেই অভিজ্ঞ ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতাকেই বড় করে দেখছেন বাশার, ‘আমাদের ওপরের সারির ৫ ব্যাটার হতাশ করেছে। তারা নিয়মিত টেস্ট খেলে, বেশ অভিজ্ঞও। তাদের মধ্যে মুমিনুল হকের প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ছাড়া আর তেমন কিছু দেখিনি আমি।’ অভিজ্ঞদের মতো ব্যর্থতার মিছিলে নাম তোলেন অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা দুই তরুণ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও অমিত হাসান। তবে এই দুজনকেই এক ম্যাচ দেখে শূলে চড়াতে চান না প্রধান নির্বাচক, ‘এটাই আমাদের টেস্ট দল। এরাই টেস্টের ব্যাটার। শুধু লিটন দাস খেলেনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুজনেই ভালো করছে। এক ম্যাচ দেখেই কাউকে কাটাছেঁড়া করতে চাই না। দলের কেউই ভালো করেনি। আলাদা করে নতুন দুটো ছেলেকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।’

গতকাল মাহমুদুল হাসান জয় ২১ ও মুমিনুল হক ৯ রানে তৃতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নামেন। তবে সুবিধা করতে পারেনি এ জুটি। আগের দিনের সঙ্গে ১ রান যোগ করে আউট হন জয়। দুই ওভার পর ১৩ রান করে একই পথ ধরেন মুমিনুল। চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে হাল ধরার চেষ্টা করেন অধিনায়ক শান্ত। কিন্তু ৬১ রানে থামে তাদের জুটি। থিতু হয়েও দায়িত্ব নিতে ব্যর্থ হন শান্ত (৩০)। কিছুক্ষণ পর ব্লেসিং মুজারাবানির তৃতীয় শিকারে পরিণত হন মুশফিক (৩৪)। এই ব্যাটিং ধস থেকে দলকে উদ্ধার করতে পারেননি তাওহীদ (৯) ও অমিত (২৫)। তাইজুল ফেরেন ব্যক্তিগত ৮ রান করে। এতেই আড়াই দিনেই টেস্ট হেরে বসে বাংলাদেশ, সেটিও তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে। ইনিংস ও ৮৫ রানে জিতে স্বাগতিকরা টেস্টে সবচেয়ে বড় জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২৫ বছর পর তাদের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। এ ম্যাচ জিতে আরও রেকর্ড গড়েছে জিম্বাবুয়ে। প্রথমবার টানা দুটি টেস্ট জিতল তারা। পাশাপাশি দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষের ২০ উইকেটের সবই তুলে নেন দলটির পেসাররা।

অথচ উইকেটে বাউন্স ও মুভমেন্ট থাকলেও ব্যাটারদের জন্য তেমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেনি। তবে বাংলাদেশের অ্যাপ্রোচ ছিল বেশ দৃষ্টিকটূ। বাশার বাংলাদেশ দলের বোলারদের সমালোচনা করলেও মূল দায় দিলেন ব্যাটারদেরই, ‘তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা এরা তো সব টেস্ট খেলবে না। ইবাদত সবশেষ সিরিজেও খেলেছে। হাসান চোট থেকে উঠে এলো। তবু আমি এটাকে আমাদের প্রথম সারির লাইনআপই বলব। কারণ এদের সবাই টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য। জিম্বাবুয়ের পেসাররা তো ভালো করেছে। এমনিতে হারারেতে প্রথম দিনে ব্যাটিং করা কঠিন। কিন্তু যতই কঠিন হোক না কেন, আমাদের ব্যাটিংটা প্রত্যাশিত ছিল না।’

একমাত্র এ টেস্টের পর জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তিনটি করে (৬ জুলাই থেকে) ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত