যে ফুটবলাররা কদিন আগেও সিয়াটলের বিমান ধরার সময় ভাবছিলেন শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাবেন এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়াকে, নাটকীয় সমীকরণ শেষে তারা হঠাৎ আবিষ্কার করলেন সামনে দাঁড়িয়ে এক আফ্রিকান সিংহ! ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কখনো সবুজ গালিচায় মুখোমুখি হয়নি বেলজিয়াম ও সেনেগাল। এই চির-অচেনা ভৌগোলিক ও কৌশলগত পটভূমিই বুধবারের নকআউট ম্যাচটিকে রূপ দিয়েছে সম্পূর্ণ এক রহস্যময় রোমাঞ্চে, যেখানে দুই দলের জন্যই অপেক্ষা করছে এক অজানা পরীক্ষা।
বেলজিয়ামের তরুণ ডিফেন্ডার জেনো ডেবাস্ট অকপটে স্বীকার করেছেন সেই অদ্ভুত অনুভূতির কথা, ‘এটা সত্যিই একটু অন্যরকম অনুভূতি ছিল। তবে এখন আমরা নিশ্চিত যে আমাদের প্রতিপক্ষ সেনেগাল। আমাদের হাতে প্রস্তুতির জন্য তিন দিন সময় আছে। ওরা আফ্রিকান কাপ জিতেছে এবং দল হিসেবে খুবই শারীরিক ও ট্যাকটিক্যাল ফুটবল খেলে।’
এই ম্যাচের আবহে ডেবাস্টের দেওয়া ‘শারীরিক ফুটবল’-এর তত্ত্বটিই মূলত ম্যাচ নির্ধারণী ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে। কারণ, দুই দলের নকআউটে আসার গল্পটা যেমন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের, তেমনি বৈপরীত্যে ভরা। প্রথম দুই ম্যাচে মিসর ও ইরানের সঙ্গে ড্র করে খাদের কিনারে থাকা বেলজিয়াম শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে পিষে ফেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে এসেছে। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচ হেরেও শেষ ম্যাচে ইরাককে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে খাদের তলানি থেকে নকআউটের টিকিট কেটেছে সেনেগাল। ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে সেনেগালের অতীত নকআউট রেকর্ড ভালো না হলেও, এই প্রথম মুখোমুখির মঞ্চে জেনো ডেবাস্টদের ডাগআউটকে যে তারা কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।