বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে আজ মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া। শেষ বত্রিশের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি কেবল দুটি পরাশক্তির লড়াই নয়, এটি বিশ্ব ফুটবলের দুই কিংবদন্তি—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লুকা মদ্রিচের বিশ্বকাপ মঞ্চে টিকে থাকার লড়াইও। আজ যার দল হারবে, বৈশ্বিক আসরে সম্ভবত এটিই হতে যাচ্ছে তার শেষ ম্যাচ।
তবে পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেস আশা করছেন, এই ম্যাচটিই যেন তার প্রিয় অধিনায়ক সিআরসেভেনের বিদায়ঘণ্টা না হয়। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের প্রত্যাশা জানিয়ে বলেছেন, “আমরা আশা করি, এটাই রোনালদোর শেষ ম্যাচ (লাস্ট ড্যান্স) নয়।”
গ্রুপ পর্বে উজেবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে ওড়ালেও কঙ্গো ও কলম্বিয়ার সাথে ড্র করে গ্রুপ ‘কে’র রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে এসেছে পর্তুগাল। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৫টায় টরন্টোতে নিজের ২৬তম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নামছেন রোনালদো। তবে নকআউট পর্বের আগের আট ম্যাচে গোল না পাওয়ার যে খরা, তা এবার কাটাতে মরিয়া পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই তারকা। অন্যদিকে, তার সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ লুকা মদ্রিচ ৪০ বছর বয়সেও ক্রোয়াটদের মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে আলো ছড়াচ্ছেন।
দুই কিংবদন্তির এই দ্বৈরথ নিয়ে মার্তিনেস বলেন, “আমরা এমন দুজনকে নিয়ে কথা বলছি যারা সাধারণ মানুষের আলোচনার ঊর্ধ্বে। ফুটবলে তাদের এই দীর্ঘ পথচলা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বয়স নিয়ে যারা কথা বলেন, তাদের বলব—বয়স কেবলই একটা সংখ্যা মাত্র। মাঠে তারা কী করছেন এবং ড্রেসিংরুমে যে উদাহরণ তৈরি করছেন, সেটাই আসল।”
চলতি আসরে এখন পর্যন্ত অপরাজিত থাকা পর্তুগাল দল নিয়ে মার্তিনেস বেশ আত্মবিশ্বাসী। তবে একটি একক টুর্নামেন্টে টানা চার বা তার বেশি ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড পর্তুগালের ইতিহাসে মাত্র দুইবার রয়েছে; ১৯৬৬ সালে (চার ম্যাচ) এবং ২০০৬ সালে (পাঁচ ম্যাচ)। সেসব ছাপিয়ে গ্রুপ পর্বের কঠিন মুহূর্তগুলো তাদের আরও শক্ত করেছে উল্লেখ করে মার্তিনেস জানান, শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষে হার না মেনে ড্র করার ম্যাচটি থেকে তারা ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ পেয়েছেন এবং আজ থেকেই পর্তুগালের আসল বিশ্বকাপ মিশন শুরু হচ্ছে।