গুরুর চেনা ঘরে ইতিহাসের হানা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৫ এএম

ফুটবল মাঝেমধ্যে এমন কিছু অদ্ভুত চিত্রনাট্য তৈরি করে, যা ঔপন্যাসিকদের কল্পনাকেও যেন হার মানায়। ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের মঞ্চে যখন সুইজারল্যান্ড ও আলজেরিয়া মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন ডাগআউটের লড়াইটি রূপ নিয়েছে এক অদ্ভুত নাটকে। আলজেরিয়ার ডাগআউটে এখন যিনি ছক কষছেন, সেই ভøাদিমির পেটকোভিচ দীর্ঘ সাত বছর (২০১৪-২০২১) ধরে এই সুইস দলটিরই মূল কাণ্ডারি ছিলেন। গ্রানিত জাকা কিংবা ব্রিল এম্বোলোদের আজকের এই বিশ্বমানের তারকা হয়ে ওঠার পেছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, আজ সেই গুরুকেই লড়তে হবে তার চেনা শিষ্যদের স্বপ্নভঙ্গের জন্য। একপাশে গুরুর চেনা ঘরের মায়া, অন্যপাশে দুই দেশের ফুটবল ইতিহাসের এক দীর্ঘ অভিশাপ মুক্তির লড়াই, সব মিলিয়ে ভ্যাঙ্কুভারে দেখা মিলবে এক অনন্য রোমাঞ্চের।

বিশ্বমঞ্চে এর আগে কখনো কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে এই দুই দল মুখোমুখি হয়নি। আশির দশকে খেলা দুটি প্রীতি ম্যাচের দুটিতেই জিতেছিল সুইজারল্যান্ড। তবে এবারের লড়াই সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে নকআউট পর্বের এই ম্যাচে নিজেদের ফেভারিটের তকমা দিতে নারাজ বর্তমান সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন। পেটকোভিচের সঙ্গে সুইস লিগে কোচিং করানোর পুরনো দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি একে ‘বড় ভাই বনাম ছোট ভাইয়ের’ লড়াই বলে আখ্যা দিয়েছেন, যেখানে শেষ পর্যন্ত মাঠের খেলোয়াড়েরাই নির্ধারণ করবেন কার কৌশল সেরা।

তবে নিজের চেনা শিষ্যদের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ডাগআউটে কোনো আবেগের জায়গা দিতে রাজি নন আলজেরিয়ার সুইস নাগরিকত্ব থাকা কোচ পেটকোভিচ। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফুটবল বিশ্ব এখন উন্মুক্ত, সবাই সবাইকে চেনে। খেলায় আসলে গোপন কোনো রহস্য বলে কিছু নেই। তাই কাউকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা মানেই বাড়তি সুবিধা পাওয়া এমনটা আমি মনে করি না।’

উভয় দলের সামনেই আজ ইতিহাসের এক বিশাল দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ। সুইসদের জন্য বিশ্বকাপের এই নকআউট পর্ব মানেই এক মনস্তাত্ত্বিক জুজু। দীর্ঘ ৮৮ বছর ধরে বিশ্বকাপের নকআউটে কোনো জয়ের মুখ দেখেনি তারা; ১৯৩৮ সালের পর থেকে বিশ্বমঞ্চের নকআউট পর্বে নিজেদের শেষ সাতটি ম্যাচেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে হেরে। আর সব বড় টুর্নামেন্ট মিলিয়ে সুইসদের নকআউট ম্যাচ মানেই যেন টাইব্রেকারের স্নায়ুযুদ্ধ, যেখানে তাদের শেষ ৯টি নকআউট ম্যাচের ৫টিই গড়িয়েছে পেনাল্টি শুট-আউটে। তবে এবার গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকে, বিশেষ করে সহ-স্বাগতিক কানাডাকে হারিয়ে গ্রুপ ‘বি’র চ্যাম্পিয়ন হওয়া সুইসরা সেই কালো ইতিহাস মুছতে মরিয়া।

অন্যদিকে আলজেরিয়ার ইতিহাসও খুব একটা স্বস্তির নয়। বিশ্বকাপে ইউরোপীয় দলগুলোর বিরুদ্ধে শেষ ৯ ম্যাচে কোনো জয়ের মুখ দেখেনি উত্তর আফ্রিকার দলটি। ২০১৪ সালে জার্মানির কাছে হেরে নকআউট থেকে বিদায় নেওয়া আলজেরিয়া এবার তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় নকআউট ম্যাচটি স্মরণীয় করতে মুখিয়ে আছে। আলজেরিয়ার ইতিহাসের মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার এই গৌরব ধরে রাখতে চান কোচ। তবে দলের রক্ষণভাগ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত পেটকোভিচ বলেন, ‘আমরা বড্ড বেশি গোল হজম করে ফেলেছি। আমাদের জালে জড়ানো ৭টি গোলের ৫টিই এসেছে ডি-বক্সের বাইরে থেকে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আমরা নিজেরাও ৫টি গোল করেছি এবং নকআউটে পা রেখেছি। এই ইতিবাচক শক্তিকে সঙ্গী করেই ম্যাচ বাই ম্যাচ আমাদের উন্নতি ধরে রাখতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত