মেসি পার পেলেও বালোগুনের শাস্তি!

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম

বিশ্বমঞ্চে নিয়ম কি সবার জন্য সমান, নাকি মহাতারকাদের ক্ষেত্রে রেফারিদের চোখ কিছুটা এড়িয়ে যায়? ২০২৬ বিশ্বকাপে বসনিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যখন শেষ ষোলো নিশ্চিত করছে, তখন মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে এই বিতর্কটিই আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে দুর্দান্ত গোল করে লেব্রন জেমসের ভঙ্গিমায় উদযাপনে মাঠ মাতানো যুক্তরাষ্ট্র ফরোয়ার্ড ফ্লোরিয়ান বালোগুন ৬৪ মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। বল দখলের লড়াইয়ে বসনিয়ান ডিফেন্ডার মুহারেমোভিচের গোড়ালি দুর্ঘটনাবশত মাড়িয়ে দেন তিনি। রেফারি প্রথমে কার্ড না দিলেও ভিএআর দেখে লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নেন। অথচ গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়ার বিপক্ষে প্রায় একই ফাউল করেও পার পেয়ে যান লিওনেল মেসি।

রেফারিদের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সাবেক রেফারি মার্ক হ্যালসি বলেন, ‘মেসি নিশ্চিতভাবেই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা বিপন্ন করেছিলেন। সেবার ভিএআর নীরব থাকায় আমি অবাক হয়েছি।’ বিবিসিতে সাবেক ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড ক্ষোভ উগরে বলেন, ‘মেসির সেই ট্যাকল সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ ছিল, অথচ খতিয়েই দেখা হলো না। এই আলাদা নিয়মটাই সবচেয়ে হতাশাজনক।’ ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো বলেন, ‘এটা কোনোভাবেই লাল কার্ড হতে পারে না, ওর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।’ মিডফিল্ডার ওয়েস্টন ম্যাককেনি সিদ্ধান্তটিকে ‘ভিত্তিহীন’ আখ্যা দেন এবং ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ একে ‘হাস্যকর’ বলেন। ফিফার নিয়ম অনুযায়ী আপিল করার সুযোগ না থাকায় টাইলার অ্যাডামস তো একে ‘টিপিক্যাল ফিফা’ বলেই ক্ষোভ ঝাড়লেন।

ইউরোপের বিপক্ষে টানা ১০ হারের বৃত্ত ভেঙে ২৪ বছর পর নকআউটে ঐতিহাসিক জয় পেলেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বস্তি কেড়েছে এই লাল কার্ড। ২০০৬ সালের ফাইনালে জিনেদিন জিদানের পর বালোগুনই প্রথম খেলোয়াড়, যিনি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে গোল ও লাল কার্ড দুটোই দেখলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত