আল্লাহভীতির মাঝেই মর্যাদা

আপডেট : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

আপনারা মহান আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করুন। এটাই সর্বোত্তম পাথেয় এবং ইহকাল ও পরকালের জন্য সবচেয়ে সম্মানজনক সঞ্চয়। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘হে ইমানদাররা! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, তবে তিনি তোমাদের জন্য সত্য-মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার শক্তি দান করবেন, তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের ক্ষমা করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল।’ (সুরা আনফাল ২৯)

আমি আল্লাহভীতির মাঝেই সুস্পষ্ট মর্যাদা দেখেছি এবং পুনরুত্থানের দিনেও এর মাঝেই রয়েছে সম্মান। আল্লাহভীতি কতই না উত্তম পাথেয়, আর কঠিন দিনের জন্য কতই না উত্তম সঞ্চয়।

হে মুসলিম ভাইয়েরা! এই মহান দ্বীন সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত এবং সর্ববৃহৎ অনুগ্রহ। এ দ্বীনের মাধ্যমেই মুমিনরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের থেকে স্বতন্ত্র মর্যাদা লাভ করেছে। যদিও অস্তিত্ব, বুদ্ধি, জীবিকা এবং অন্যান্য অনেক নেয়ামতে তারা সবার সঙ্গে অংশীদার, কিন্তু মুসলমান হওয়ার বিষয়টি একটি বিশেষ নেয়ামত।

যে ব্যক্তি ইসলামের মাধ্যমে প্রকৃত জীবন লাভ করেনি, সে প্রকৃতপক্ষে মৃত। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করলাম এবং তার জন্য এমন এক আলো সৃষ্টি করলাম, যার সাহায্যে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি তার মতো হতে পারে, যে অন্ধকারে নিমজ্জিত এবং তা থেকে কখনো বের হতে পারে না? এভাবেই কাফেরদের কাছে তাদের কাজগুলোকে শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে।’ (সুরা আনআম ১২২)

হে মুসলিম জাতি! আজ মুসলমানরা যে কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, তবুও আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মহান আল্লাহর নির্ধারিত পরীক্ষা ও পরিশুদ্ধির এই নিয়মই আমাদের নতুন হিজরি বছরের পথে আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে। আমরা নিশ্চিত বিশ্বাস করি, আমাদের সত্য দ্বীনই আমাদের শক্তি এবং বিপর্যয়ের যুগে সব ফেতনার বিরুদ্ধে মজবুত দুর্গ। এটাই আল্লাহর চিরন্তন বিধান, যা তার বান্দাদের ক্ষেত্রে কার্যকর।

হে আল্লাহর বান্দারা! আপনারা সত্য দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন। আপনাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়াত ও সুন্নতকে অনুসরণ করুন। আপনাদের সন্তান ও পরিবারকে ইসলামের মূল্যবোধ ও শিক্ষার ওপর গড়ে তুলুন। তাদের আকিদাগত, চিন্তাগত ও নৈতিক বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করুন। কারণ নতুন প্রজন্মের চিন্তা গঠন এবং তাদের মধ্যে শরিয়তসম্মত ও সঠিক বোধ সৃষ্টি করাই সবচেয়ে শক্তিশালী দুর্গ। এটাই সমাজের পুনর্জাগরণ, রাষ্ট্র নির্মাণ এবং সভ্যতা প্রতিষ্ঠার প্রথম ভিত্তি। এর মাধ্যমেই আমরা বিজয়, সম্মান ও প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারব।

মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন তিনি তাদের পূর্ববর্তীদের প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন। তিনি অবশ্যই তাদের জন্য তাদের সেই দ্বীনকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন। আর তাদের ভয়ের পরিবর্তে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমারই ইবাদত করবে এবং আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করবে না। এরপরও যারা কুফরি করবে, তারাই হবে অবাধ্য।’ (সুরা নুর ৫৫)

মহান আল্লাহ আমার ও আপনাদের জন্য কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যে বরকত দান করুন। কোরআনের আয়াতসমূহ এবং নবীজি (সা.)-এর বাণীর মাধ্যমে আমাকে ও আপনাদের উপকৃত করুন।

হে মুসলিম জাতি! এ সময় আমরা প্রখর গ্রীষ্মের তীব্র উত্তাপ অনুভব করছি। দগ্ধকারী উষ্ণ বাতাস আমাদের ওপর বয়ে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যখন প্রচণ্ড গরম পড়ে, তখন জোহরের নামাজ কিছুটা বিলম্ব করে আদায় করো। কেননা প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপেরই অংশ।’ (সহিহ বুখারি)

হে আল্লাহর বান্দারা! আপনারা মহান আল্লাহকে ভয় করুন। নতুন বছরের সূচনা করুন আন্তরিক তওবা, ইস্তিগফার, কর্মপ্রচেষ্টা, উচ্চ মনোবল, দৃঢ় সংকল্প, আশাবাদ এবং সুসংবাদের প্রত্যাশার মাধ্যমে। কারণ বছরের শুরু মানুষের অন্তরে নতুন স্বপ্ন সৃষ্টি করে, নতুন প্রেরণা জাগায় এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব রেখে যায়।

মহান আল্লাহর নেয়ামতের জন্য তার শোকরিয়া আদায় করুন। জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার উপায় অবলম্বন করুন। তাওহিদকে বাস্তবায়ন করুন। মহান আল্লাহর জন্য ইখলাসকে দৃঢ় করুন। আর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরুন।

হে আল্লাহর বান্দারা, আপনারা নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করুন, যেমনটি আপনাদের রব নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ইমানদাররা! তোমরাও তার প্রতি দরুদ ও যথাযথভাবে সালাম পাঠ করো। (সুরা আহজাব ৫৬) এখানে নবীজির প্রতি মহান আল্লাহর দরুদ পাঠ করার অর্থ হলো, আল্লাহ নবীজির প্রতি অনুগ্রহ করেন।

হে আল্লাহ! ইসলাম ও মুসলমানদের সম্মানিত করুন। দ্বীনের সীমানা রক্ষা করুন। ওমরাহ পালনকারী, হজযাত্রী, আগত মুসাফির ও জিয়ারতকারীদের নিরাপদ রাখুন। এ দেশকে নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও কল্যাণময় করে রাখুন। অনুরূপভাবে মুসলিম বিশ্বের সব দেশকে নিরাপদ রাখুন।

হে আল্লাহ! সব মুসলিম নর-নারীকে ক্ষমা করুন। তাদের শান্তির পথে পরিচালিত করুন। সব দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের দুশ্চিন্তা দূর করুন। বিপদগ্রস্তদের কষ্ট লাঘব করুন। ঋণগ্রস্তদের ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দিন। সব আমাদের অসুস্থদের আরোগ্য দান করুন। আমাদের মৃতদের প্রতি রহম করুন।

হে আল্লাহ! যে ব্যক্তি ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে অকল্যাণের ষড়যন্ত্র করে, তাকে তার নিজের ষড়যন্ত্রেই ব্যস্ত করে দিন। তার চক্রান্ত তারই ওপর ফিরিয়ে দিন এবং তার পরিকল্পনাকে তার ধ্বংসের কারণ বানিয়ে দিন।

হে আল্লাহ! কোরআন ও সুন্নাহর ওপর সমগ্র উম্মাহর ঐক্য প্রতিষ্ঠা করুন। হে আল্লাহ! পৃথিবীর সর্বত্র নির্যাতিত মুসলমানদের উদ্ধার করুন। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলমানদের উদ্ধার করুন।

২৬ জুন শুক্রবার, মসজিদে হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবা। সংক্ষিপ্ত অনুবাদ করেছেন মুফতি আতিকুর রহমান

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত