বাংলা কিউআরে একীভূত ২০ লাখের বেশি মার্চেন্ট

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের আলাদা আলাদা কিউআর কোডের পরিবর্তে এখন চালু হয়েছে একক ‘বাংলা কিউআর’। ফলে একজন গ্রাহক যেকোনো ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর স্ক্যান করে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন। এতে ব্যবসায়ীদের একাধিক কিউআর রাখার প্রয়োজন শেষ হয়েছে, একই সঙ্গে সহজ হয়েছে গ্রাহকদের লেনদেনও।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে বাংলা কিউআরে রূপান্তরিত মার্চেন্ট কিউআর কোডের সংখ্যা ২০ লাখেরও বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রায় ৯ লাখ কিউআর রয়েছে বিকাশের। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা নগদের রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ কিউআর। এ ছাড়া ডাচ্-বাংলা ব্যাংক (রকেটসহ) প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার, পূবালী ব্যাংক ১ লাখ ৯০ হাজার, ইসলামী ব্যাংক ৮০ হাজার, সোনালী ব্যাংক ৫৪ হাজার, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ৫০ হাজার এবং সিটি ব্যাংকের ৩৮ হাজার কিউআর কোড এখন বাংলা কিউআরের আওতায় এসেছে।

চীন, এস্তোনিয়া, ভারতসহ অনেক দেশ এমন উদ্যোগের মাধ্যমে লেনদেনব্যবস্থাকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করেছে। নগদবিহীন (ক্যাশলেস) এই লেনদেনব্যবস্থা হয়েছে সহজ ও স্বচ্ছ। সামনে সরকারি সব ধরনের সেবার আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার ছাড়াই বাংলা কিউআর কোড দিয়ে লেনদেন চালুর পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আগে একজন ব্যবসায়ীকে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএসের গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করতে একাধিক কিউআর কোড প্রদর্শন করতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় একটি মাত্র বাংলা কিউআর কোডই সব ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করতে সক্ষম। এতে ব্যবসায়ীদের ঝামেলা কমার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্যও অর্থ পরিশোধ অনেক সহজ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, কিউআরভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিভিন্ন ব্যাংকের গ্রাহকরা কিউআর কোড ব্যবহার করে ২ হাজার ৯৬ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। একই সময়ে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের গ্রাহকরা একই ব্যবস্থায় ৪ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন। অর্থাৎ এক মাসেই কিউআরভিত্তিক মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ কাটা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে দাবি করছেন, কোনো গ্রাহক ১ হাজার টাকা পেমেন্ট করলে ১০ টাকা কেটে নেওয়া হবে। এমন প্রচার সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বাংলা কিউআর-এর প্রতি এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো চার্জ দিতে হবে না। আপনি ক্রেতা হিসেবে শূন্য শতাংশ চার্জ দিয়েই পণ্য কিনতে পারবেন। তবে এই চার্জ দিতে হবে বিক্রেতাকে অর্থাৎ মার্চেন্টকে।

বাংলা কিউআর কোড চালুর উদ্যোগের বিষয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান জানান, ‘আমরা আমাদের সব কিউআর কোড বদলে বাংলা কিউআরে রূপান্তর করেছি। এতে সব ব্যাংক ও এমএফএসের গ্রাহক এসব প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করতে পারছেন। এতে গ্রাহকের নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমেছে। ভাংতি টাকার প্রয়োজন হচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত