ভ্যাঙ্কুভারে মানজাম্বি ম্যাজিক

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬ এএম

স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে যখন ২০ বছর বয়সী জোহান মানজাম্বির ছবি ভেসে উঠছিল, ফিফার ‘অ্যাটাকিং পাওয়ার র‌্যাংকিং’ বলছিল কিলিয়ান এমবাপ্পে আর আর্লিং হালান্ডদের ঠিক পেছনেই আছে এই সুইস তরুণের নাম। ভ্যাঙ্কুভারের মাঠে আলজেরিয়ার বিপক্ষেও সেই ফুটবলীয় সৌরভই ছড়ালেন এই ফরোয়ার্ড। মূলত ‘নাম্বার নাইন’ হলেও এই ম্যাচে তিনি খেললেন ছকভাঙা অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার পজিশনে। আর তাতেই ওলটপালট হয়ে গেল আলজেরিয়া। শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে উত্তর আফ্রিকার দলটিকে ২-০ গোলে অনায়াসে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে সুইজারল্যান্ড। এতে মানজাম্বির এই নজরকাড়া পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই দীর্ঘ ৮৮ বছর পর (১৯৩৮ সালের পর) বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে প্রথম জয়ের ঐতিহাসিক স্বাদ পেল সুইসরা।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১০ মিনিট। নিজেদের অর্ধে আলজেরিয়ার আক্রমণ নসাৎ করে দিয়ে রুবেন ভারগাস বল বাড়িয়ে দেন মানজাম্বির পায়ে। বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েই গতিতে ঝড় তোলেন এই ফাইবার্গ তারকা। আলজেরিয়ান রাইট-ব্যাক আইসা মান্দিকে রীতিমতো নাচিয়ে, বাইলাইনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে ভারসাম্য হারানোর মুহূর্তেও শরীরকে নিয়ন্ত্রণে রেখে এক নিখুঁত ক্রস বাড়ান তিনি। বক্সে থাকা ব্রিল এমবোলো শুধু আলতো ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান। ফরাসি ক্লাব রেনের এই স্ট্রাইকার গোল পেলেও ভ্যাঙ্কুভারের গ্যালারি তখন মজেছিল মানজাম্বির ড্রিবলিং জাদুতে।

প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর সুইসদের ‘ইস্পাত কঠিন’ রক্ষণ দেয়ালের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আলজেরিয়া। গ্রানিত জাকা আর ডেনিস জাকারিয়াদের ডিঙিয়ে আলজেরিয়ার হৌসেম আউয়ার কিংবা রিয়াদ মাহরেজরা সুইসদের গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলকে সামান্যতম পরীক্ষাও করতে পারেননি।

এদিকে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৪৬ মিনিটে) ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ড্যান এনদয়। মান্দির একটি দুর্বল ক্লিয়ারেন্স বক্সের ঠিক ভেতরে খুঁজে নেয় নটিংহাম ফরেস্টের এই উইঙ্গারকে। বাঁ পায়ে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আলজেরিয়ান গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পরাস্ত করে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে জাল কাঁপান তিনি।

ম্যাচের ৭১ মিনিটে যখন প্রতিপক্ষের বক্সে সবচেয়ে বেশি ছোঁয়া আর সফল ড্রিবলিংয়ের পরিসংখ্যান নিয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন ইউরোপা লীগের ‘সেরা তরুণ খেলোয়াড়’ মানজাম্বি, পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে এই বিস্ময় বালককে অভিবাদন জানায়। নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের মতো জায়ান্টরা এরই মধ্যে এই সুইস প্রডিজিকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোতে দলে ভেড়াতে লাইনে দাঁড়িয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে দুটি অ্যাসিস্ট ও তিন গোল করা মানজাম্বির প্রশংসায় পঞ্চমুখ সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন বলেন, ‘মানজাম্বিকে আসলে মাঠের যে কোনো পজিশনেই ব্যবহার করা সম্ভব। সে অবিশ্বাস্য রকমের বহুমুখী এবং আত্মবিশ্বাসী। টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, সে তত বিকশিত হচ্ছে। তার এই উন্নতিতে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।

পুরো দলের রক্ষণাত্মক পারফরম্যান্সে সন্তোষ প্রকাশ করে কোচ ইয়াকিন আরও যোগ করেন, ‘আজ রক্ষণভাগে আমাদের পারফরম্যান্স চমৎকার ছিল। ম্যাচের প্রতিটি ধাপে আমরা শক্ত হাতে প্রতিরোধ গড়েছি এবং প্রতিপক্ষকে কোনো সুযোগই দিইনি। আমি আমার পুরো দলের প্রশংসা করতে চাই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত