প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে কেউ যদি একটি ফুলও দেয়, সেটিই হবে বড় প্রাপ্তি : শানু

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আগামী দুই বছরের (২০২৬-২০২৮) অভিভাবক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু ও জয় চৌধুরী। এফডিসি পাড়ায় টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে আরমান-মুক্তি পরিষদকে পরাজিত করে পূর্ণ প্যানেলে জয়জয়কার শিবা শানু-জয় চৌধুরী পরিষদের।

গতকাল শনিবার ভোর পৌনে ৫টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কামাল মো. কিবরিয়া লিপু আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল ঘোষণা করেন। শুক্রবার বিএফডিসি প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের নির্বাচনে মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৪৮০ জন, যার মধ্যে ১৭টি ব্যালট বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সভাপতি পদে অভিনেতা শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরমান পেয়েছেন ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে ২৩৭ ভোট পেয়ে বাজিমাত করেছেন জয় চৌধুরী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি ১৭৯ ভোট পেয়ে পরাজিত হন।

বিজয়ী হওয়ার পর তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় সভাপতি শিবা শানু বলেন, ‘ফলাফল ঘোষণার পর সবাই আমাকে ফুলের মালা পরিয়েছে। কিন্তু আমার প্রতিশ্রুতিগুলো যখন বাস্তবায়ন করতে পারব তখন যদি কেউ আমাকে একটি ফুলও দেয়, সেটিই হবে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’

২৬০ ভোট পেয়ে ডিএ তায়েব, ২১৬ ভোট পেয়ে ইলিয়াস কোবরা সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। পরাজিত প্রার্থী নূতন পেয়েছেন ২০৪ ভোট এবং রোজিনা পেয়েছেন ১৫২ ভোট। ২৬৬ ভোট পেয়ে সহ-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন সুব্রত। প্রতিদ্বন্দ্বী রিনা খান পেয়েছেন ১৫০ ভোট।

২৩৩ ভোট পেয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছেন সনি রহমান। প্রতিদ্বন্দ্বী চুন্নু পান ১৮২ ভোট। ২৭২ ভোট পেয়ে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। প্রতিদ্বন্দ্বী পপি পান ১৪৪ ভোট। দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক : জ্যাকি আলমগীর ২২১ ভোট পেয়ে জয়ী। প্রতিদ্বন্দ্বী রাসেল মিয়া পান ১৯৫ ভোট। সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন মারুফ আকিব ২২৬ ভোট। ২২১ ভোট পেয়ে কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন কামরুজ্জামান কমল। প্রতিদ্বন্দ্বী জাদু আজাদ পান ১৯৭ ভোট।

কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আলী রাজ, কাবিলা, কায়েস আরজু, জেসমিন, নাসরিন, ফরহাদ, শিপন মিত্র, রাকা, চিকন আলী, শিরিন শিলা এবং সুশান্ত।

গত কয়েক সপ্তাহ প্রচার-প্রচারণা আর প্যানেল পরিচিতির মাধ্যমে রুপালি পর্দায় যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল, ব্যালট যুদ্ধের মাধ্যমে তার চূড়ান্ত অবসান ঘটল। নতুন এই কমিটির কাছে সাধারণ শিল্পীদের অধিকার রক্ষা, কল্যাণমূলক কাজ এবং ঝিমিয়ে পড়া চলচ্চিত্র শিল্পের অগ্রগতিতে জোরালো ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত