আস্থা ও সুশাসন ঢাকা ব্যাংকের শক্তি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

৩২ বছরে পদার্পণ করেছে ঢাকা ব্যাংক পিএলসি। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে দ্বিতীয় প্রজন্মের ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে ব্যাংকটি। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের ব্যাংকিং খাতে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে ঢাকা ব্যাংক। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশ রূপান্তরকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আব্দুল হাই সরকার তুলে ধরেছেন ব্যাংকের দীর্ঘ পথচলা এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে তার মূল্যায়ন।

দেশ রূপান্তর : প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং খাতে ঢাকা ব্যাংককে আলাদা করে তুলছে কোন বিষয়গুলো?

আব্দুল হাই সরকার : আমাদের আজকের অবস্থানের পেছনে রয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সহযোগিতা ও গ্রাহকদের বিশ্বাস। আমানতকারীদের আস্থা ও ব্যাংকের সুশাসনই আমাদের শক্তি। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই আজকের অবস্থানে আসতে পেরেছি। এ পর্যন্ত ঢাকা ব্যাংক কখনোই সংকটে পড়েনি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো বিশেষ তহবিল নেয়নি। বরং অন্য ব্যাংককে সহায়তা করেছে। এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন এবং আলাদা পরিচয়।

দেশ রূপান্তর : ডিজিটাল ব্যাংকিং ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ক্ষেত্রে ঢাকা ব্যাংকের নতুন পরিকল্পনা কী?

আব্দুল হাই সরকার : আমরা সবসময় উন্নতমানের গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করেছি। শুরুতে প্রচলিত ব্যাংকিংসেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য আলাদা সাইবার সিকিউরিটি বিভাগ রয়েছে। পৃথিবীর কোনো ব্যাংকই শতভাগ ঝুঁকিমুক্ত নয়, মাঝে মধ্যে ছোটখাটো সমস্যা হতে পারে। তবে আমাদের ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ পর্যন্ত আমাদের কোনো আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।

দেশ রূপান্তর : উদ্যোক্তাদের জন্য ঢাকা ব্যাংকের কী ধরনের উদ্যোগ রয়েছে?

 আব্দুল হাই সরকার : নতুন উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা যাচাই করি এবং নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করি, ঋণগ্রহিতা ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা রাখেন কি না। কারণ আমানতকারীদের অর্থ নিরাপদ রাখা আমাদের দায়িত্ব।

দেশ রূপান্তর : তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাংকিংসেবাকে আরও সহজ করতে কী উদ্যোগ নিয়েছেন?

আব্দুল হাই সরকার : তরুণদের প্রয়োজন ও জীবনধারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা যেন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত, ঝুঁকিমুক্ত ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করতে পারে তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : প্রবাসী আয় বাড়াতে ঢাকা ব্যাংকের কোনো পরিকল্পনা আছে?

আব্দুল হাই সরকার : প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রবাসীরা যাতে সহজে দেশে অর্থ পাঠাতে পারেন, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।

দেশ রূপান্তর : রপ্তানি খাতের গ্রাহকদের সহায়তায় ঢাকা ব্যাংকের অগ্রাধিকার কী?

আব্দুল হাই সরকার : রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা ও ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আমরা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছি এবং সেটা আরও বিস্তৃত করছি।

দেশ রূপান্তর : দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ভূমিকা আপনি কীভাবে দেখেন?

আব্দুল হাই সরকার : ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তিগুলোর একটি। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যাংকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত ছাড়া টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

দেশ রূপান্তর : খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও সুশাসন নিশ্চিতে ঢাকা ব্যাংক কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে?

আব্দুল হাই সরকার : কোনো ব্যবসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু, ঝুঁকি কোথায় এবং উদ্যোক্তার সক্ষমতা কেমন এসব বিষয় মূল্যায়নের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে। ব্যাংকের পরিচালনায় আমরা সবসময় চেষ্টা করি, যাতে প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির মধ্যে আমরা সব নিয়ম-কানুন মেনে পরিচালিত হচ্ছি।

দেশ রূপান্তর : করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার আওতায় আপনাদের উদ্যোগ কী?

আব্দুল হাই সরকার : ব্যাংকিং কার্যক্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সহায়তা করি। বাংলাদেশে নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে আমরা টাইটেল স্পন্সর হয়েছি।

দেশ রূপান্তর : বর্তমানে ব্যাংক খাত নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

আব্দুল হাই সরকার : এটা মূলত আগের সরকারের সময় কিছু অনিয়মের কারণে হয়েছে। যাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ছিল না, তাদেরও ব্যাংকের মালিকানা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে কিছু ব্যাংকে বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে, যা পুরো ব্যাংক খাতের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আশা করি সুশাসন, জবাবদিহিতা ও গ্রাহক আস্থা ধরে রাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতের প্রতি মানুষের বিশ^াস আরও শক্তিশালী হবে। বর্তমান গভর্নর বাস্তবমুখী যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সেগুলোও ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

দেশ রূপান্তর : ঢাকা ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আপনার বার্তা কী?

আব্দুল হাই সরকার : আমাদের গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার, বিনিয়োগকারী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। তাদের আস্থা ও সহযোগিতার কারণেই আমরা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। আমি শেয়ারহোল্ডারদের আশ্বস্ত করতে চাই, তাদের বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুরক্ষিত। আমাদের অঙ্গীকার একটাই, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ ব্যাংকিং এবং গ্রাহকসেবার সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করে ঢাকা ব্যাংককে আরও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত