নাটোরের গুরুদাসপুরে ইসলাম ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত শিমুল কর্মকারকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের স্বার্থে তাকে নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার শিমুল কর্মকার গুরুদাসপুর পৌর শহরের গুরুদাসপুর মহল্লার বাসিন্দা নবীন কর্মকারের ছেলে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এবং সপরিবারে সেখানে বসবাস করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৪ জুলাই) রাতে শিমুল কর্মকারের নামে পরিচালিত একটি ফেসবুক আইডি থেকে পবিত্র মক্কা ও মদিনার ছবি বিকৃত করে আপত্তিকর পোস্ট প্রকাশ করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রবিবার সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মানুষ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। সন্ধ্যায় তৌহিদী জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং রাতে মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ অভিযুক্তের বাড়ির দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে গুরুদাসপুর থানায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ আব্দুল আজিজ জনসাধারণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। এ ঘটনায় গুরুদাসপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে রবিবার রাতে গুরুদাসপুর শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ বিগ্রহ কেন্দ্রীয় মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার কুণ্ডু বলেন, অভিযুক্তের ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় কোনোভাবেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ বিচারের দাবি জানান।
স্থানীয় ধর্মীয় নেতা মাওলানা জামীল আহমেদ বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করায় তিনি প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুঞ্জুরুল আলম বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে ছিল। রবিবার দিবাগত রাতে যৌথ অভিযানে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পেনাল্টি বিতর্কে ভিনির দাবি, ‘কখনো দায়িত্ব এড়াইনি’