পুকুর কেটে আবার ভরাট ৪০ লাখ তছরুপ!

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ এএম

কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা সরকারি কলেজের একই পুকুর খনন এবং ভরাট করতে সরকারের দুটি দপ্তরের প্রায় ৪০ লাখ টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। তিনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে আবেদন করেন পুকুর খননের জন্য বরাদ্দ চেয়ে। অন্যদিকে, একই সময়ে ভরাটের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করেন শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের কাছে। দুটি অধিদপ্তর থেকেই বরাদ্দ পেয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বলেছে, প্রকল্পের বাস্তবায়নকারী সংস্থা কেবলমাত্র কলেজ কর্তৃপক্ষের মতামতের ভিত্তিতে কাজের বাস্তবায়ন করে মাত্র। এখানে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় কলেজ কর্তৃপক্ষের।

শিক্ষার্থীরা জানায়, কলেজের মাঠটি খুবই ছোট হওয়ার কারণে পুকুর ভরাট করে মাঠ সম্প্রসারণের দাবি অনেক দিনের, অথচ এখন দেখছি প্রিন্সিপ্যাল স্যার যেই পুকুর খনন করলেন সেই পুকুরই আবার ভরাট  করছেন।

জানা গেছে, আমলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. নাজিম সুলতান কলেজের দুটি পুকুর খনন ও ঘাট নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিদপ্তর ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। কার্যাদেশ পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পুকুর খনন ও ঘাট নির্মাণের কাজ করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ একই ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খনন করা পুকুর দুটির একটি ভরাট করার জন্য বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরে আবেদন করে। সে অনুযায়ী ১৯ লাখ টাকা বরাদ্দ মেলে এবং ভরাটের কার্যাদেশ পায় আরেকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে ভরাটের কাজ চলছে। একই অর্থবছরে একই পুকুর খনন ও ভরাটের জন্য পৃথক সরকারি দুটি অধিদপ্তর থেকে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে তছরুপের এ ঘটনায় জোর সমালোচনা চলছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানান, ‘সারা দেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে আমলা সরকারি কলেজের পুকুর-০১ এবং পুকুর-০২ এর ঘাট নির্মাণসহ খননকাজ সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সমুদয় বিলও পরিশোধ করা হয়েছে’।

ওই পুকুর দুটি খনন ও ঘাট নির্মাণের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান ট্রেডার্স। এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মাসুদুল হক জানান, ‘এটা কোনোভাবেই কলেজের প্রিন্সিপ্যাল করতে পারেন না। টাকা তো দুইটাই সরকারের, উনি যেকোনো একটি টাকা খরচ করলেই কাজ হয়ে যেত। বরং উনি পুকুর ভরাটের কাজ করলে শুধুমাত্র এলজিইডির টাকা দিয়েই কাজ সম্পন্ন করতে পারতেন। তা না করে উনি আবার এই চলতি অর্থবছরেই শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগের টাকা বরাদ্দ নিয়ে ভরাটের কাজে ব্যয় করছেন। এটা নিছক অন্যায় বা দুর্নীতি যেটাই বলি তাই করেছেন অধ্যক্ষ’।

এদিকে শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল আহসান বলেন, ‘এ বিষয়টি তো আমাদের কাছে গোপন করেছেন আমলা কলেজ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের বরাদ্দ নিয়ে যে পুকুর খননসহ নতুন করে ঘাট নির্মাণ করেছেন, সেই দুটি পুকুরের মধ্যে একটি পুকুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ভরাট করা হচ্ছে। এখানে অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় কলেজ কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারেন না’।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, ‘আমলা সরকারি কলেজে একই অর্থবছরে পৃথক দুটি সরকারি দপ্তর থেকে টাকা বরাদ্দ নিয়ে একই পুকুর খনন করা হলো আবার সেই খননকৃত পুকুরই ভরাট করা হচ্ছে, এটা  তো স্পষ্ট : বিধি বহির্ভুতভাবে সরকারি টাকা তছরুপের শামিল। বিষয়টি সম্পর্কে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে আগে কিছুই জানায়নি। নিয়ম বহির্ভুতভাবে সরকারি টাকা তছরুপ হয়ে থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে’।

এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ ড. নাজিম সুলতানের সঙ্গে ১০ দিন ধরে নানাভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি নানা টালবাহানায় এ প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলেননি। এমনকি ফোনকলও রিসিভ করছেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত