পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে বিক্ষোভ দমন এবং অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে তীব্র খাদ্য ও ওষুধ সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’র (জেএএসি) নেতা সর্দার আমান খান। ইসলামাবাদ প্রতিবাদীদের দমন করতে রেশন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে দাবি করে তিনি নয়াদিল্লিকে জরুরি মানবিক সহায়তা পাঠানোর অনুরোধ করেছেন।
একইসঙ্গে তিনি দুই কাশ্মীরের মধ্যবর্তী নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) খুলে দেওয়ার দাবি জানান। সর্দার আমান খান বলেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ মানুষের যেন ভারতে চলে যাওয়ার সুযোগ থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, সেখানে তীব্র খাদ্যসংকটের কারণে ভারতের সাহায্য ভীষণ প্রয়োজন। নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের পর থেকে ওই অঞ্চলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে এক বিশাল সমাবেশে আমান খান পুঞ্চ ও দোদা সেক্টরে এলওসি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। কর্তৃপক্ষ যদি জনগণের ন্যায্য দাবির জবাব বুলেট দিয়ে দেয়, তবে তাদের সামনেও অন্য পথ খোলা আছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। তবে গত ৩০ জুনের এই সমাবেশের ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি। গত মাস থেকে পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে, যাতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
স্থানীয় কিছু সংস্কারের দাবি নিয়ে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন ইসলামাবাদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার বা স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নিয়েছে। সমাবেশে সমবেত জনতা ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’ বলে স্লোগান দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাজনৈতিক সংকট স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ইসলামাবাদের অনুগত আঞ্চলিক প্রশাসনের গভীর দূরত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে। গত ৫ জুন পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তৃণমূল স্তরের এই জেএএসি সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করার পর এই অসন্তোষ আরও তীব্র হয়।
‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাদের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে এই অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অধিকার খর্ব করেছে। এমনকি ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, এই অঞ্চলের নির্বাচনে বরাবরই সেই দল জয়ী হয়, যা কোনো সাধারণ কাকতালীয় বিষয় নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।