২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর নেইমার জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও, তার বাবা নেইমার সিনিয়র ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি ছেলের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে ফুটবল খেলা চালিয়ে যাওয়ার এবং মাঠে আবার আনন্দ খুঁজে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
নেইমার সিনিয়রের সেই আবেগঘন চিঠির মূল অংশ নিচে তুলে ধরা হলো:
"আহ্ ছেলে... কী এক পথচলা! কত সুন্দর, চড়াই-উতরাইয়ে ভরা এক যাত্রা। অনেক সময় বেদনার, কিন্তু দিনশেষে ঈশ্বরের অশেষ আশীর্বাদ ধন্য।
এই তো সেদিন আমি এক ছেলেকে পায়ে বল নিয়ে স্বপ্ন দেখতে দেখতাম, যে জানতও না ঈশ্বর তাকে কতদূর নিয়ে যাবেন। খুব ছোটবেলাতেই আমি বুঝেছিলাম তোমার মধ্যে ভিন্ন কিছু আছে। এটা শুধু প্রতিভা ছিল না, এটা ছিল একটা মিশন। আমরা আমাদের আদর্শ, বিশ্বাস আর যীশুকে অনুসরণ করে পথ চলেছি।
তোমার পুরো যাত্রার প্রতিটি ধাপে আমি পাশে ছিলাম। তোমার প্রথম গোল, প্রথম ট্রফি, পেশাদার ফুটবলে পা রাখা থেকে শুরু করে বিশ্বের বড় বড় স্টেডিয়াম মাতানো, ব্রাজিলের জার্সি গায়ে দেওয়া আর বিশ্বজোড়া স্বীকৃতি—সবকিছুতে আমি তোমার সাথে কেঁদেছি, প্রার্থনা করেছি এবং আনন্দ উদযাপন করেছি। একজন বাবাকে নিজের পাশে রাখার সুযোগ দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।
আর সেই বিশ্বাস থেকেই আজ একজন বাবা হিসেবে তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ: বাবা, তুমি ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। বল পায়ে আবার আনন্দ খুঁজে নাও। মাঠে আবার হাসো। আজ তুমি সুস্থ। ঈশ্বর তোমাকে আবার সেই কাজটা করার সুযোগ দিয়েছেন যা তুমি সবসময় ভালোবেসেছ।
সমালোচনার ভার, প্রত্যাশার চাপ বা জীবনের প্রতিবন্ধকতাগুলোর বোঝা নিজের কাঁধে বয়ে বেড়িয়ো না। আজ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তই তোমার পুরো ইতিহাসকে বদলে দিতে পারে না। কোনো একটা স্বপ্ন পূরণ হয়নি মানেই যে তা মরে গেছে, এমন নয়। গল্পের শেষ কখনোই একটা কঠিন মুহূর্ত দিয়ে নির্ধারিত হয় না। আমাদের জীবনের শেষ অধ্যায়টা ঈশ্বর নিজেই লেখেন।
তাই আগামীকালের ভয় করো না। আজকের দিনটা বাঁচো। অনুশীলন করো, হাসো, ফুটবল খেলো, সন্তানদের জড়িয়ে ধরো, পরিবারকে ভালোবাসো। বয়স বা পরিস্থিতি যা-ই হোক না কেন, সেরাটা ঈশ্বরের ওপরই নির্ভর করে। হয়তো এমন কিছু অধ্যায় বাকি আছে যা তুমি কল্পনাও করোনি। বাবা হিসেবে আমি বিশ্বাস আর প্রার্থনা চালিয়ে যাব। ফুটবলটা হালকা মনে খেলো, মানুষকে আবারও মন্ত্রমুগ্ধ করো।"
ট্রাম্পের কটুক্তি সত্ত্বেও ব্রাজিলিয়ান রেফারির পাশে ফিফা