নক্ষত্রের লড়াই, দুই আইকনের মুখোমুখি যুদ্ধ আর অধিনায়কদের শেষ চাল। আজ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে মোহামেদ সালাহর মিসর। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই পরাশক্তি দীর্ঘ বছর ধরে ব্যালন ডি’অরসহ ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরষ্কারের মঞ্চগুলোতে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, সবুজ গালিচায় তাদের মুখোমুখি হওয়ার ইতিহাস একেবারেই সংক্ষিপ্ত। ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার মুখোমুখি হয়েছেন মেসি ও সালাহ।
প্রথম দেখা: অলিম্পিকোর সেই সমতা
আজ থেকে ১১ বছর আগে, ২০১৫-১৬ মৌসুমের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে প্রথমবারের মতো মাঠে মুখোমুখি হয়েছিলেন এই দুই মহাতারকা। ইতালির রাজধানী রোমের স্তাদিও অলিম্পিকোতে তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনার মুখোমুখি হয়েছিল এএস রোমা। তরুণ সালাহর রোমা লুইস এনরিকের শক্তিশালী বার্সেলোনাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছিল। ‘ফারাও’ খ্যাত সালাহ এবং ‘এল পুলগা’ মেসি—দুজনেই সেবার পুরো ৯০ মিনিট খেলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে মূল ভূমিকা রেখেছিলেন। ফিরতি লেগে বার্সেলোনা ৬-১ ব্যবধানে রোমাকে উড়িয়ে দিলেও, চোটের কারণে সেই ম্যাচে সালাহ দলে ছিলেন না।
দ্বিতীয় দেখা: ক্যাম্প ন্যু-র সেই জাদুকরী রাত
মেসি ও সালাহর দ্বিতীয় এবং শেষ দেখাটি হয়েছিল ২০১৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে। ততদিনে সালাহ লিভারপুলের জার্সিতে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তবে ক্যাম্প ন্যু-এর সেই রাতটি নিজের করে নিয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বার্সেলোনা ৩-০ ব্যবধানে ম্যাচটি জেতে, যেখানে মেসি দূরপাল্লার এক অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিকে চোখ ধাঁধানো গোলসহ জোড়া গোল করেছিলেন।
তবে অ্যানফিল্ডের ফিরতি লেগে ফুটবল বিশ্ব দেখেছিল এক অতিপ্রাকৃতিক রূপকথা। প্রথম লেগের ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও বার্সেলোনাকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছিল ইয়ুর্গেন ক্লপের লিভারপুল। তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, লিভারপুলের সেই ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের রাতেও চোটের কারণে গ্যালারিতে বসে থাকতে হয়েছিল সালাহকে। মাঠের বাইরে থেকেই তিনি উপভোগ করেছিলেন সতীর্থদের সেই অবিশ্বাস্য জয়।
অতীতে দুই মহাতারকার মাঠের লড়াইয়ের ইতিহাস মাত্র দুটি ম্যাচের। যার একটিতে শেষ হাসি হেসেছেন মেসি এবং অন্যটি হয়েছে ড্র। অর্থাৎ, মেসিকে মাঠে হারানোর স্বাদ সালাহ এখনো পাননি। আজ আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ নকআউট পর্বের এই বাঁচা-মরার লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবেন—মেসির আর্জেন্টিনা নাকি সালাহর মিসর, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।
বিশ্বকাপের ফাইনালে কোন দলকে চান স্কালোনি?