বিসমিল্লাহর বিস্ময়কর প্রভাব

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৯ এএম

যেকোনো বৈধ কাজ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পন্ন হলে তা ইবাদতের মর্যাদা লাভ করে। আর সেই কাজের সূচনা যদি হয় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলে, তাহলে তা একটি উত্তম অভ্যাস এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসৃত সুন্নাহ। ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।’ এই বাক্যের মাধ্যমে একজন বান্দা ঘোষণা করেন, তিনি নিজের শক্তি বা সামর্থ্যরে ওপর নয়, বরং মহান আল্লাহর সাহায্য, রহমত ও তৌফিকের ওপর নির্ভর করে কাজ শুরু করছেন।

পবিত্র কোরআনের প্রথম ওহিতেই মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘পড়–ন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা আলাক, আয়াত ১) এ আয়াত থেকে আলেমরা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, প্রতিটি কল্যাণকর কাজ আল্লাহর নাম স্মরণ করে শুরু করা উচিত। এতে সেই কাজে বরকত ও কল্যাণের আশা করা যায়।

বিসমিল্লাহর অন্যতম বড় প্রভাব হলো, এটি শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে মানুষকে রক্ষা করে। হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ ঘরে প্রবেশের সময় এবং খাবার গ্রহণের আগে আল্লাহর নাম স্মরণ করলে শয়তান তার সঙ্গীদের বলে, আজ তোমাদের থাকার জায়গাও নেই, খাবারও নেই। (সহিহ মুসলিম ২০১৮)

খাবার শুরু করার আগে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত। নবীজি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যদি কেউ শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে যায়, তাহলে পরে ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহ’ বলবে। (সুনানে আবু দাউদ ৩৭৬৭) অন্য হাদিসে এসেছে, যে খাবারে আল্লাহর নাম নেওয়া হয় না, সেখানে শয়তান অংশগ্রহণ করে। (সহিহ মুসলিম ২০১৭)

অপর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, বাহন হোঁচট খেলে ‘শয়তান ধ্বংস হোক’ না বলে ‘বিসমিল্লাহ’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এতে শয়তানের শক্তি ক্ষীণ হয়ে যায়। (মুসনাদে আহমাদ ২২৭৮৬)

বিসমিল্লাহ মানুষের অন্তরে মহান আল্লাহর প্রতি ভরসা ও বিনয় সৃষ্টি করে। ব্যবসা, পড়াশোনা, লেখালেখি, ভ্রমণ কিংবা অন্য যেকোনো বৈধ কাজ আল্লাহর নামে শুরু করলে তা সওয়াবের কারণ হয়। তাই একজন মুসলমানের উচিত, প্রতিটি কল্যাণকর কাজের সূচনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ বলার অভ্যাস গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত, বরকত ও সাহায্যের প্রত্যাশা যেমন প্রকাশ পায়, তেমনি জীবনের প্রতিটি কাজ তার সন্তুষ্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে ওঠে।

লেখক : মাদ্রাসাশিক্ষক ও প্রবন্ধকার

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত