সুপার ফুড ডিম

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ এএম

দেশে কম দামে সবচেয়ে বেশি পুষ্টি উপাদানযুক্ত খাবারের নাম ডিম। সেদ্ধ, ভাজা, তরকারি, মিষ্টান্ন বিভিন্ন উপায়ে ডিম খাওয়া যায়। ডিমের পুষ্টিতথ্য জানালেন ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রধান পুষ্টিবিদ সৈয়দা শারমিন আক্তার

খাবার হিসেবে আমাদের দেশে মুরগি এবং হাঁসের ডিমের প্রচলন বেশি। আজকাল কোয়েলের ডিমের প্রচলনও দেখা যাচ্ছে। ছিদ্রযুক্ত খোসা হওয়ায় বিভিন্ন অণুজীব দিয়ে খুব সহজেই ডিম আক্রান্ত হতে পারে। সেই আক্রান্ত ডিম যদি ভালোভাবে সেদ্ধ করে না খাওয়া হয়, তাহলে দেহে নানা রকম রোগও হয়। কাঁচা ডিম খেলে কখনো কখনো দেহে এমন এক ধরনের ক্রিমির জন্ম হতে পারে, যা অন্ত্রে বসবাস করে। প্রচণ্ড পেটব্যথা এর প্রাথমিক উপসর্গ।

কৃমিনাশক খেলেও এর নিরাময় সম্ভব হয় না। ডিমের সঠিক সংরক্ষণ ও গ্রহণে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বাজার থেকে কিনে আনার পর সঙ্গে সঙ্গে ভালো পানি দিয়ে ঘষে ঘষে ধুয়ে নিতে হবে। চওড়া অংশ নিচের দিক দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়।

শিশুদের ডিম খাওয়ানো শুরু হয় পরিপূরক খাবার হিসেবে। শিশুজন্মের ৬ মাস পর থেকে ডিম আদর্শ খাবার। পরিপূরক খাবার হিসেবে ডিম কীভাবে খাওয়া উচিত এ নিয়ে অনেক মতামত রয়েছে। কারও মতে, ডিমের কুসুম দিয়ে শুরু করা ভালো, আবার কারও মতে, ডিমের সাদা অংশ দিয়ে শুরু করা উচিত। অনেক সময় ডিমের কুসুম বাচ্চাদের কাঁচা অবস্থায় খাওয়াতে দেখা যায়। এতে বাচ্চাদের ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিপদমুক্ত থাকতে বাচ্চাদের পরিপূরক খাবার হিসেবে পানিপোচ করে ডিমের সাদা অংশ দিয়ে শুরু করা ভালো। এতে ঝুঁকি কম থাকে। ডিমের সাদা অংশে এলবুমিন-জাতীয় প্রোটিন এবং অত্যাবশ্যকীয় সালফারযুক্ত লিমিটিং অ্যামাইনো অ্যাসিড মিথিওনিন থাকে। সাদা অংশের ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠন সুগঠিত ও মজবুত করে। ডিমের হলুদ অংশে ভিটামিন-এ, বি২, সায়ানো কোবালামিন, ফলিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, জিংক, কোলাইন, সেলেনিয়াম এবং আয়রন রয়েছে। হলুদ অংশে ফসফোলিপিড রয়েছে, যা ভালো কোলেস্টেরল সরবরাহ করে। ডিমকে সুপার ফুড বলা হয়।

ডিমে অ্যালার্জি না থাকলে ছোট থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেকে প্রতিদিন একটি করে ডিম অনায়াসে খেতে পারবেন। ডিমে এত বেশি পুষ্টি উপাদান থাকা সত্ত্বেও বাজারে আরও অনেক খাবার আছে পুষ্টি উপাদানযুক্ত। যেগুলো অনেক সময় বাচ্চাদের খাওয়াতে দেখা যায়। মূলত যেসব পুষ্টি উপাদান ডিমে রয়েছে, এর চেয়ে বেশি উপাদান আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনই নেই। সুস্থ থাকতে এবং অন্যকে সুস্থ রাখতে সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতিতে স্বাভাবিক ডিম খাওয়ার চেষ্টা করাই ভালো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত