বন্ধ শিল্পে অর্থায়নে নজরদারি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪০ এএম

বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং মূলধন সংকটে থাকা বড় শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানকে আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক-অর্থায়ন স্কিম বাস্তবায়নে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্কিমের অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং তদারকির বিষয়ে বিস্তারিত বিধান জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল মঙ্গলবার জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ৪ জুন জারি করা বিআরপিডি-১ সার্কুলার নম্বর-১৩-এর আওতায় তিন বছর মেয়াদি আবর্তনশীল ২০ হাজার কোটি টাকার ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ পরিচালিত হবে। এ স্কিমে অংশ নিতে আগ্রহী তফসিলি ব্যাংকগুলোকে প্রথমে স্কিম পরিচালনাকারী বিভাগ ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩ (বিআরপিডি-৩)-এর সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করতে হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো গ্রাহকের ঋণ বা বিনিয়োগ পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদনের পর এবং গ্রাহক পর্যায়ে অর্থ ছাড়ের আগেই বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রাক-অর্থায়নের আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে নির্ধারিত তথ্য ও প্রয়োজনীয় দলিল জমা দিতে হবে। ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় বা প্রিন্সিপাল অফিসের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে।

একই সঙ্গে যেসব গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্য কোনো পুনঃঅর্থায়ন বা প্রাক-অর্থায়ন স্কিম থেকে কার্যকর মূলধন সুবিধা পাচ্ছেন, তাদের প্রকৃত অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করেই আবেদন করতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সার্কুলারে আবেদনের সঙ্গে অতিরিক্ত কয়েকটি নথি ও প্রত্যয়নপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাহকের উৎপাদন বা সেবা দেওয়ার সক্ষমতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন অথবা ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র, অর্থপাচার, জালিয়াতি, তহবিল অপব্যবহার বা ঋণের অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহারের অভিযোগ না থাকার প্রত্যয়নপত্র, লেটার অব অথরাইজেশন, লেটার অব ডেবিট অথরিটি, লেটার অব কনটিনিউটি, নির্ধারিত সময়ে প্রাক-অর্থায়নের অর্থ পরিশোধে ব্যাংকের অঙ্গীকারপত্র, উদ্বৃত্ত তারল্য উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ করা হয়েছে, এ মর্মে প্রত্যয়নপত্র এবং স্কিমের সব শর্ত পরিপালনের বিষয়ে ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র।

স্কিমের আওতায় ঋণ বিতরণ ও আদায়ের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলোকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অথবা তাদের মনোনীত কর্মকর্তার স্বাক্ষরের প্রতি ত্রৈমাসিকের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ত্রৈমাসিক শেষ হওয়ার পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এ জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৪ জুন জারি করা মূল সার্কুলারের অন্যান্য নির্দেশনাও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত