বিশ্বকাপ মানেই ইউরোপের রাজত্ব

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৪ এএম

৪৮ দলের প্রথম বিশ্বকাপ, যেখানে অনেকেই ভেবেছিলেন এশিয়া-আফ্রিকা-উত্তর আমেরিকার নতুন শক্তির উত্থান ঘটবে, সেখানে উল্টো চিত্র। নকআউট পর্বের প্রতিটি ধাপে ইউরোপ যেন লোহার বেড়ি পরিয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষের পায়ে। গ্রুপ পর্ব শেষে জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মতো হেভিওয়েটরা বিদায় নিলেও ফ্রান্স, স্পেন, ইংল্যান্ড, বেলজিয়াম ও নরওয়ের মতো দলগুলো নিজেদের জায়গা শক্তভাবে ধরে রেখেছে। গতকাল রাতে কলম্বিয়ার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ড জিতে থাকলে কোয়ার্টার ফাইনালের আট দলের মধ্যে ইউরোপের প্রতিনিধি হয়েছে ছয়টি।

৯৬ বছরের ফুটবল ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ ছয়টি ইউরোপীয় দলের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কীর্তি এর আগে মাত্র দুবার ঘটেছে ২০০৬ সালে জার্মানিতে ও ২০১৮ সালে রাশিয়ায়। সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় তিন স্বাগতিক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা একই রাউন্ডে বিদায় নিয়েছে। এ যেন প্রতীকী এক বার্তা। আয়োজক হওয়াই যথেষ্ট নয়, ফুটবলের আসল ক্ষমতা এখনও ইউরোপের হাতেই। কোয়ার্টার ফাইনালের ড্র যেন নিয়তির নিষ্ঠুর রসিকতা। দুটি ম্যাচ হবে সম্পূর্ণ ইউরোপীয় লড়াই, স্পেন বনাম বেলজিয়াম এবং নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ড। অর্থাৎ, সেমিফাইনালে অন্তত দুটি ইউরোপীয় দল নিশ্চিত হয়ে গেছে এখনই। এদিকে ফ্রান্স যদি মরক্কোকে হারায়, তৃতীয় ইউরোপীয় দল হিসেবে শেষ চারে জায়গা করে নেবে তারা। সুইসদের হার-জিতের ওপর নির্ভর করছে অল-ইউরোপ সেমিফাইনালের ভাগ্য।

তারকাদের লড়াইও জমে উঠেছে চরমে। এই প্রতিবেদন লেখার সময় শীর্ষ পাঁচ গোলদাতার চারজনই ইউরোপের। ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলে, নরওয়ের আর্লিং হলান্ডের সঙ্গে এই দৌড়ে আছে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন। এদিকে গত পাঁচ বিশ্বকাপের চারটিতেই শিরোপা গেছে ইউরোপে। উত্তর আমেরিকার মাটিতেও গোটা ফুটবল বিশ্বের কৌতূহলী চোখÑ ইতিহাস কি আবারও পুনরাবৃত্তি হবে, নাকি অন্য কোনো মহাদেশের প্রতিনিধি জন্ম দেবে রূপকথার?

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত