আগামী চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘এটি (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক, নির্বাচনী ও জাতীয় অঙ্গীকার। একই সঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিএনপির আন্দোলনের ফসল।’
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলসংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিক্রিয়ায় গতকাল দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। আইনমন্ত্রী জানান, আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে জনমত যাচাই ও গণভোটের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।
সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে মন্ত্রী বলেন, “পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের কবর রচনা করে ফ্যাসিবাদের নীলনকশা তৈরি করা হয়েছিল। আমরা শুরু থেকেই বলেছিলাম এটি ‘আল্ট্রা ভাইরাস’ (আইনগত সীমার বাইরের বিষয়)। হাইকোর্ট বিভাগ এই সংশোধনীর কিছু বিষয় অবৈধ ঘোষণা এবং বাকি বিষয়গুলো জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়েছিল। আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে। সুতরাং হাইকোর্টের রায়ই এখন চূড়ান্ত।”
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘রায়ের আলোকে পাবলিক কনসালটেশন (জনমত যাচাই) ও রেফারেন্ডামের (গণভোট) মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার চূড়ান্ত কাঠামো তৈরি করা হবে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে রায়টি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি করা হবে। রায়ে যে ৫৪টি বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে, তার সবকটি আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অ্যাড্রেস করব। এক্ষেত্রে আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয় থাকবে জুলাই সনদ। জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হবে।’
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংবিধানে যা যা সংশোধন, সংযোজন ও পরিমার্জন প্রয়োজন সব করা হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
জনমত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে মানবাধিকার কমিশন আইনসহ বেশ কয়েকটি আইনের খসড়া তৈরির পর অংশীজন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, কূটনীতিক, মানবাধিকার সংগঠন এবং ভিক্টিম পরিবারের সঙ্গে পাবলিক কনসালটেশন করেছি। একইভাবে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রেও সাধারণ জনগণের মতামত নেওয়া হবে।’