বেলজিয়ামকে সবচেয়ে বড় ‘বাধা’ মানছেন স্পেনের কোচ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৬, ০২:১৪ পিএম

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত একটি গোলও হজম করেনি স্পেন। নিখুঁত রক্ষণভাগ, বলের ওপর চমৎকার নিয়ন্ত্রণ আর দুর্দান্ত আক্রমণভাগ নিয়ে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল খেলছে ফেভারিটের মতোই। শেষ ষোলোতে পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে তারা জায়গা করে নিয়েছে শেষ আটে। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালের মহারণের আগে স্প্যানিশ কোচ মনে করছেন, টুর্নামেন্টে তাদের আসল ও সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটা হতে যাচ্ছে বেলজিয়ামের বিপক্ষে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামকে নিয়ে নিজের সমীহের কথা স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন। ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলা অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নিয়ে গড়া বেলজিয়ামকে 'শক্তিশালী' আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাচটি এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত আমাদের মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে কঠিন লড়াই হতে যাচ্ছে। বেলজিয়াম অত্যন্ত শক্তিশালী দল এবং তাদের খেলোয়াড়রা জয়ের মানসিকতা নিয়ে বড় মঞ্চে খেলতে অভ্যস্ত। তাই ম্যাচটি আমাদের জন্য বড় একটা চ্যালেঞ্জ।’ 

এই ম্যাচের জয়ী দল আগামী মঙ্গলবার ডালাসে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ফ্রান্সের, যারা অন্য ম্যাচে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমানে দেম্বেলের গোলে মরক্কোকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ চারে পা রেখেছে। ফরাসিদের নিয়ে প্রশ্ন আসলে স্প্যানিশ কোচ জানান, তিনি সেই ম্যাচটি দেখেছেন এবং ফ্রান্সের খেলাই তার সেরা মনে হয়েছে। তবে সেমিফাইনাল নিয়ে এখনই ভাবছেন না তিনি, তার পুরো মনোযোগ এখন বেলজিয়ামকে ঘিরেই।

আসরে স্পেনের অন্যতম শক্তির জায়গা তাদের আক্রমণভাগ। বিশেষ করে ৪ গোল করা মিকেল ওয়ারজাবাল এবং বার্সেলোনার ১৮ বছর বয়সী বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ইয়ামাল মাত্র একটি গোল করলেও লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো ৮ গোল করা তারকাদের ভিড়ে তরুণ এই ফুটবলারের পরিপক্বতায় দারুণ মুগ্ধ কোচ। পর্তুগালের বিপক্ষে ইয়ামালের রক্ষণাত্মক অবদানের প্রশংসা করে লা ফুয়েন্তে আশা প্রকাশ করেন, বেলজিয়ামের বিপক্ষে আক্রমণেও ব্যবধান গড়ে দেবার সক্ষমতা রাখে এই তরুণ।

তবে কোনো একক তারকার ওপর ভর করে নয়, স্পেনের শক্তি দলগত সংহতিতে। নিজের ফুটবল দর্শনের কথা বোঝাতে গিয়ে রোমান সম্রাট মার্কাস অরেলিয়াসের একটি বিখ্যাত উক্তি টেনে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘যা মৌচাকের জন্য ক্ষতিকর, তা একটি মৌমাছির জন্যও ক্ষতিকর।’ অর্থাৎ, দলের সাফল্যেই ফুটবলারদের ব্যক্তিগত স্বার্থ লুকিয়ে আছে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত