উইম্বলডনের ঘাসে যেন এক অন্য রূপে হাজির হলেন ইগা সোয়ানটেক। ফাইনালে প্রতিপক্ষ আমান্ডা আনিসিমোভার বিপক্ষে ইতিহাস গড়ে ৬-০, ৬-০ গেমে জয় তুলে নিয়ে প্রথম উইম্বলডন শিরোপা জিতলেন পোলিশ তারকা। মাত্র ৫৭ মিনিটে এই জয়ই টেনিসের ওপেন যুগে প্রথম ডাবল বেগেল (কোনো সেট না হেরেই জয়) দিয়ে উইম্বলডন জয়।
এর আগে ১৯১১ সালে চ্যালেঞ্জ ম্যাচের যুগে ডোরোথিয়া ল্যামবার্ট চেম্বারস ডাবল বেগেল দিয়ে জিতেছিলেন ডোরা বুথবির বিপক্ষে। তবে সেটা ছিল এক ভিন্ন যুগ। আধুনিক টেনিসে এই কীর্তি অপ্রত্যাশিত এবং অনন্য।
ফাইনালের আগে অসাধারণ ফর্মে থাকা আনিসিমোভা সেমিফাইনালে বিশ্ব নম্বর ১ আরিনা সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিলেন সবাইকে। তবে ফাইনালে এসে চাপ নিতে পারলেন না একেবারেই। প্রথম গেম থেকেই অস্বস্তিতে ভোগেন তিনি। ম্যাচে একের পর এক আনফোর্সড এরর, ভারসাম্যহীন সার্ভ — সব মিলিয়ে ম্যাচটা একতরফা হয়ে যায় খুব দ্রুতই।
অন্যদিকে, ইগা সোয়ান্তেক দেখালেন কেন তাঁকে বড় ম্যাচের সেরা তারকাদের একজন ধরা হয়। ক্যারিয়ারের প্রথম ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম ফাইনালেই জিতলেন তিনি — ওপেন যুগে যা এর আগে কেবল মার্গারেট কোর্ট এবং মনিকা সেলেস করে দেখিয়েছেন। উইম্বলডনের আগে চারবার ফ্রেঞ্চ ওপেন ও একবার ইউএস ওপেন জিতেছেন তিনি। এবার ঘাসে শিরোপা জিতে নিজের সাফল্য ছুঁইয়ে দিলেন তিনটি ভিন্ন সারফেসে।
এই শিরোপার মাধ্যমে সোয়ান্তেক ভেঙে দিলেন মারিয়া শারাপোভা ও মার্টিনা হিঙ্গিসের গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের রেকর্ড। ২০০৭ সালে ভেনাস উইলিয়ামসের পর তিনিই প্রথম নারী খেলোয়াড় যিনি ছয়টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতলেন।
তবে এই অর্জনের পেছনে আছে বড় একটি প্রতিকূলতা অতিক্রম করার গল্প। গত বছর প্যারিস অলিম্পিকে সেমিফাইনালে হার এবং নিষিদ্ধ ওষুধ সেবনের ভুল অভিযোগে মনোবল হারিয়েছিলেন তিনি। পরে প্রমাণ হয় তাঁর মেলাটোনিন ওষুধে ত্রুটি ছিল। সব কিছুর পর এই শিরোপা তাই তাঁর জন্য অনেক বেশি অর্থবহ।
ম্যাচ শেষে সোয়ান্তেক বলেন, "এটা যেন স্বপ্ন। আমি কখনো উইম্বলডন জেতার স্বপ্নও দেখিনি, কারণ এটা এতটাই দূরের মনে হতো। আজ মনে হচ্ছে আমি সত্যিই অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছি।"
