আমিরাতের কাছে এস-৪০০ বিক্রি করে আমেরিকার মন জয়ের চেষ্টা তুরস্কের!

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৪ এএম

তুরস্কের কাছে থাকা রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আঙ্কারার এই নতুন প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে মস্কো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে এই বিষয়ে আলোচনা চললেও তা এখনো চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর থেকেই আমেরিকার সঙ্গে তুরস্কের সম্পর্কে বড় ফাটল ধরে। এর জেরে ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে তাদের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এমনকি তুরস্কের জন্য তৈরি করা ছয়টি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানও আটকে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের স্বার্থে এই এস-৪০০ সমস্যার সমাধান খোঁজা হচ্ছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী, এফ-৩৫ কর্মসূচিতে ফিরতে হলে তুরস্কের কাছে কোনো এস-৪০০ ব্যবস্থা থাকা চলবে না।

এই সংকট কাটাতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপায়ের কথা ভাবা হচ্ছিল। প্রথমে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার যন্ত্রাংশ খুলে যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে অকার্যকর করে রাখার প্রস্তাব এলেও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পূর্ণ নিশ্চয়তা না থাকায় তা ভেস্তে যায়। এরপরই বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো দেশের কাছে এটি বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়, যেখানে ক্রেতা হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম সামনে আসে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন যে এই বিষয়ে তুরস্কের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে সংবেদনশীলতার কারণে বিস্তারিত এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না।

রাশিয়ার একটি সূত্র জানিয়েছে, তুরস্কের এই প্রস্তাবে মস্কোর অবস্থান ইতিবাচক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে রাশিয়া চাইবে বিক্রির পরেও যেন মূল চুক্তির শর্তগুলো কঠোরভাবে মেনে চলা হয়। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত আগে থেকেই রাশিয়ার তৈরি প্যান্টসির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে। নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের উৎস বহুমুখী করতেই তারা এস-৪০০ কেনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি সফল হলে তুরস্কের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথ সহজ হবে। তবে এর বিনিময়ে রাশিয়া তুরস্কের কাছ থেকে বড় কোনো কৌশলগত সুবিধা চাইতে পারে, বিশেষ করে দুই দেশের মধ্যে চলমান গ্যাস সরবরাহ চুক্তির নবায়নের ক্ষেত্রে মস্কো এটিকে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত