সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অল্পসময়েই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ুধৎধঃধ পেজের সদস্যরা। নিজেদের মোটেও পুরনো, অভিজ্ঞ বা পরিপক্ব হিসেবে মানতে নারাজ তারা। তারপরও কনটেন্ট ক্রিয়েশন, বিনোদন জগতের ভবিষ্যৎ ও দেশ নিয়ে নিজের ভাবনা ভাগ করে নিয়েছেন উদয়কাঠীর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এনাম-উজ-জামান
উদয়কাঠী : কনটেন্টের আইডিয়ার প্রেরণা কোথায় থেকে পান? ইনবক্স বা কমেন্টের মন্তব্য, তিক্ত অভিজ্ঞতা, নাকি চারপাশের ঘটনা?
ইয়ারাতা : আমরা মূলত কোনো তারকা না, আশপাশে যা হয় সেসবই তুলে ধরি এবং আমরা নিজেরাই নিজেদের কনটেন্ট উপভোগ করি।
উদয়কাঠী : কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত?
ইয়ারাতা : কনটেন্ট ক্রিয়েশনের জন্য আমার মতে, নিজের ডেডিকেশনটা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এর সঙ্গে আমি আসলে কী করতে চাচ্ছি, এটা সবসময় ব্রেনে সেট রাখা জরুরি। কারণ আমি নিজেই যদি না জানি আমি কী করতে চাচ্ছি, তবে সেক্ষেত্রে আমার গোল অ্যাচিভ করা সম্ভব হবে না বলে আমি মনে করি। আর এটা ঠিকঠাক রাখতে পারলে অটোমেটিক বাকি সবকিছু এডজাস্ট করে নিতে পারা সম্ভব।
উদয়কাঠী : বিনোদন জগৎ ভবিষ্যতে কোন দিকে বাঁক নেবে বলে মনে করেন?
ইয়ারাতা : বর্তমান যা অবস্থা তা দেখে মনে হচ্ছে মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা দিন দিন কমছে। তাই বিনোদন জগৎ আরও বেশি দ্রুতগতির এবং সংক্ষিপ্ত কনটেন্টের দিকে হয়তো ঝুঁকবে। অথবা কমিউনিটি বেসড অর্থাৎ সাধারণ মানুষের তৈরি করা রিয়েল, ৎধি এবং কমেডি বা লাইফস্টাইলধর্মী কনটেন্টের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে। মানুষ এখন নিখুঁত স্ক্রিপ্টের চেয়ে ‘রিলেটেবল’ বা নিজের জীবনের সঙ্গে মেলানো যায়, এমন কিছু বেশি দেখতে পছন্দ করে।
উদয়কাঠী : যদি দেশ চালানোর ভার আপনাদের দেওয়া হতো তাহলে প্রথম একশ দিনের মধ্যে কোন কাজগুলো করতেন? কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতেন?
ইয়ারাতা : দেশ চালানো তো অনেক কঠিন কাজ। তবে দায়িত্ব আমরা পেলে প্রথম ১০০ দিনের মধ্যে ৫০ দিন পুরোদমে ক্যাম্পেইন করতাম সারাদেশে সরকারকে সাহায্য করার জন্য দেশের স্বার্থে। বাকি ৫০ দিনও প্যাসিভ আকারে এই ক্যাম্পেইন চলত। কারণ রাষ্ট্র একটা বিশাল যন্ত্র। মেশিনের যেমন পার্টস থাকে এবং পার্টস নষ্ট হলে ধীরে ধীরে মেশিন অকেজো হয়ে পড়ে, ঠিক তেমনি আমার দৃষ্টিতে রাষ্ট্রে জনগণ ওই মেশিনের একটা পার্টসের মতো কাজ করে। যখন এই জনগণ ক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ে তখন মূলত রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রে জনগণ যদি সরকারকে সহযোগিতা না করে সেই সরকারকে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। কারণ এখানে ধর্ষণ কিংবা খুন সরকার করে না। রাষ্ট্রের জনগণই এ কাজগুলো করে। সরকার শুধু প্রতিরোধের চেষ্টা ও আইন প্রয়োগ করতে পারে। গুটিকয়েক আইনশৃঙ্খলা বাহিনির সদস্যকে নিয়ে কি সরকার কোটি কোটি মানুষের এ দেশে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারবে, যদি জনগণ সাহায্য না করে? দুর্নীতিপরায়ণ আমলা কিংবা খুন খারাবিতে জড়িত জনগণ সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক এবং তারা যদি প্রকৃতপক্ষে সরকারকে সাহায্য করত তবে হয়তো দেশ পাল্টাত, সমাজ পাল্টাত।