ফিফা বিশ্বকাপের মেগা সেমিফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। বুধবার আতলান্তা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের আগে কথার লড়াই শুরু হয়ে গেছে। সাবেক ইংলিশ উইঙ্গার জো কোল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেছেন যে, সেমিফাইনালে থ্রি লায়নসরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে দেবে এবং লিওনেল মেসিকে মাঠেই ঘুৃম পাড়িয়ে দেবে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ ২৪ বছর পর এই দুই পরাশক্তি একে অপরের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এটিই ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ।
‘দ্য রেস্ট ইজ ফুটবল’ পডকাস্টে সাবেক চেলসি মিডফিল্ডার জো কোল বেশ জোর দিয়েই বলেন যে, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে গুড়িয়ে দেওয়ার মতো গতি ও আক্রমণাত্মক শক্তি ইংল্যান্ডের রয়েছে।
জো কোল বলেন,
"আমাদের লিওনেল মেসিকে শান্ত করে দিতে হবে। আমরা তাকে মাঠেই ঘুম পাড়িয়ে দেব। আমি এখনই বলছি, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের ফাইনালে যাচ্ছে। আর্জেন্টিনার চেয়ে আমাদের দলে গতি অনেক বেশি এবং আমরাই জিততে যাচ্ছি। আমি এটা আমার হাড়ের মজ্জায় অনুভব করছি।"
পডকাস্টের সহ-আলোচক ও সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার মাইক রিচার্ডস অবশ্য কোলকে এতটা নিশ্চিত হয়ে বলতে বারণ করেন। কিন্তু ৪৪ বছর বয়সী কোল তার দাবিতে অনড় থেকে বলেন, "আমরা ১০০ ভাগ জিতব।"
সাবেক স্কটিশ তারকা অ্যালিস্টার ম্যাককোইস্ট অবশ্য কোলের এই অতি-আত্মবিশ্বাসের সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারেননি। তার মতে, টুর্নামেন্টে টিকে থাকা শেষ চার দল (ফ্রান্স, স্পেন, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড)-এর মধ্যে ইংল্যান্ড আসলে ‘তৃতীয় সেরা দল’।
তবে ইংল্যান্ড সমর্থকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন:
"ভালো খবর হলো, ইংল্যান্ড যে দলের বিরুদ্ধে খেলবে (আর্জেন্টিনা), আমার মতে তাদের চেয়ে ইংলিশরা ভালো দল। রক্ষণাত্মকভাবে আর্জেন্টিনা খুব একটা শক্তিশালী নয়। তবে আক্রমণভাগে মেসি যেকোনো মুহূর্তে জাদুকরী কিছু করে বসতে পারেন, যা থেকে ইংল্যান্ডকে সাবধানে থাকতে হবে। তবে আমাদের সামনে একটি দুর্দান্ত ম্যাচ অপেক্ষা করছে।"
মেসির ক্যারিয়ারের প্রথম ‘বিশেষ ম্যাচ’
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে কোয়ার্টার ফাইনালে জয়ের পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্যারিয়ারে প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন লিওনেল মেসি।
মেসি বলেন:
"এটি একটি অত্যন্ত বিশেষ ম্যাচ। আমার ক্যারিয়ারে প্রথমবার এমনটা হতে যাচ্ছে। আমি বিশ্ব ফুটবলের প্রায় সব দলের বিরুদ্ধে খেললেও কখনো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলিনি। ঐতিহ্যবাহী একটি দলের বিপক্ষে সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে এমন ম্যাচ খেলার অনুভূতি সবসময়ই চমৎকার।"
নরওয়ে নেই হালান্ড এখন কাকে সমর্থন করবেন