ডায়াবেটিস যখন স্নায়ুর শত্রু

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৭ এএম

ডায়াবেটিস মানেই কি শুধু রক্তে শর্করার আধিক্য। একদমই নয়। অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস শরীরের প্রতিটি অঙ্গের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে এর সবচেয়ে ‘নীরব ঘাতক’ রূপটি দেখা যায় স্নায়ু বা নার্ভের ওপর। যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি’। পরিসংখ্যান বলছে, দীর্ঘমেয়াদি ডায়াবেটিস রোগীদের প্রায় ৫০ শতাংশই কোনো না কোনো সময় স্নায়ুর সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, অনেক রোগীই একদম শেষ পর্যায়ে এসে চিকিৎসকের কাছে যান।

লক্ষণ

নিউরোপ্যাথি সাধারণত পা থেকেই শুরু হয়। নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝবেন আপনার স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

          পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরা বা সারাক্ষণ অবশ ভাব।

          রাতে পায়ের তালুতে তীব্র জ¦ালাপোড়া করা।

          হাঁটার সময় মনে হওয়া যেন আপনি ‘তুলার ওপর’ বা ‘পাথরের ওপর’ হাঁটছেন।

          পায়ে হঠাৎ সুঁই ফোটানোর মতো তীব্র ব্যথা।

          ঠা-া বা গরমের অনুভূতি কমে যাওয়া।

ভয়ের কারণটা কোথায়

নিউরোপ্যাথির সবচেয়ে বড় বিপদ হলো ব্যথাহীনতা। পায়ের অনুভূতি কমে যাওয়ায় জুতার ঘষা বা ছোট কোনো ক্ষত রোগীরা টের পান না। এই অবহেলা থেকেই তৈরি হয় বড় ক্ষত বা আলসার, যা শেষ পর্যন্ত ইনফেকশন হয়ে গ্যাংগ্রিনে রূপ নিতে পারে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে অনেক ক্ষেত্রে পা কেটে ফেলার মতো দুঃখজনক সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

পরামর্শ

স্নায়ুর ক্ষতি একবার হয়ে গেলে তা আগের অবস্থায় ফেরানো কঠিন, তবে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

শর্করার নিয়ন্ত্রণ : রক্তে চিনির মাত্রা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

প্রতিদিন পা পরীক্ষা : আয়নার সাহায্যে প্রতিদিন রাতে পায়ের তলা দেখুন। কোনো লালচে ভাব, ফোস্কা বা ছোট কাটা আছে কি না তা লক্ষ্য করুন।

জুতা নির্বাচনে সতর্কতা : ঘরে বা বাইরে কখনোই খালি পায়ে হাঁটবেন না। সবসময় নরম ও সঠিক মাপের জুতা পরুন।

ধূমপান বর্জন : ধূমপান স্নায়ুর রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, যা সমস্যাকে আরও জটিল করে। ডায়াবেটিস মানেই পঙ্গুত্ব নয়। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং একটু সচেতনতাই পারে জীবনকে সচল রাখতে। পায়ের ছোট কোনো পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দিন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত