ইরান সংশ্লিষ্ট লেনদেনে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, জব্দ ১৩০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ এএম

ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা একাধিক ডিজিটাল ওয়ালেটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলতে সহায়তার অভিযোগে ৫০টির বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ওয়ালেটগুলো থেকে ১৩০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানের অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং ডিজিটাল সম্পদের অপব্যবহার ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অবৈধ অর্থের উৎস শনাক্ত করে ইরানি শাসকগোষ্ঠীকে এসব অর্থ থেকে বঞ্চিত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বৈশ্বিক ক্রিপ্টো লেনদেনসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান টেথার-ও রয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৪৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্রিপ্টো সম্পদ জব্দ করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, চীন, ইরাক, কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অন্তত ২৪ বিলিয়ন ডলার ছাড় দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তেহরান। ইরানের দাবি, বিদেশে তাদের প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ আটকে থাকলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী প্রকৃত পরিমাণ এর চেয়ে কম।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটকে থাকা সম্পদের বড় অংশই চীনে রয়েছে। চীনে তেল রপ্তানির বিপরীতে অর্জিত প্রায় ২০ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে এখনও ব্যবহার করতে পারছে না ইরান। কিছু অর্থ চীনা পণ্য ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে ব্যবহৃত হলেও উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত