মানবসৃষ্ট জলাবদ্ধতা, ২২ পরিবারের মানবতের জীবনযাপন

আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৭ পিএম

বগুড়া সারিয়াকান্দির একটি গ্রামের গত কয়েকমাস ধরেই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে ২২ পরিবার। স্থানীয় এক প্রভাবশালী ড্রেনের মুখ বন্ধ করায় এ ধরনের জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে হাতে পায়ে ঘাসহ নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের পাটনিপাড়া গ্রামে ২০টির বেশি হিন্দু পরিবারের বসবাস করে আসছে। কয়েকবছর আগে এ পাড়া থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি ড্রেন নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু গত কয়েকমাস আগে ওই ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় তাদের পায়ে ঘায়ের সৃষ্টি হয়েছে, তারা বাড়ির উঠানে রান্না করতে পারছেন না, তাদের সন্তানরা ভিজে কাদা ডিঙ্গিয়ে স্কুলে যাচ্ছেন, তাদের জামাকাপড় নষ্ট হচ্ছে, দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় সেখান থেকে ক্ষতিকর মশা সৃষ্টি হচ্ছে, বাথরুমে পানি থাকায় কঠিন সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া সবসময় বাড়িতে পানি থাকায় তারা প্রতিনিয়ত সাপ ভয়ে দিন পার করছেন তারা।

ওই গ্রামের সাবিত্রী চরনী দাস জানান, গত কয়েকমাস ধরেই বৃষ্টি হলেই বাড়িতে পানি উঠে। চারদিকে কাঁদা,   উঠানে পানি, বাথরুম পানিতে ভরে গেছে। ঠিকমতো রান্না করতে পারছি না। হাত পায়ে ঘা হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা কত কষ্ট করে বিদ্যালয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে নারীদের বাথরুম জনিত সমস্যা। দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় সহায়তা চান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে একই ইউনিয়নের হরিণা উত্তরপাড়া গ্রামের মন্টু সোনার জানিয়েছেন, ড্রেনের পানি তার জমিতে পড়ে জমি ভেঙে যাচ্ছে। তাই তিনি ড্রেনের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন।

বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলের নেতাদের বলেও কোনও সুরাহা পাননি ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। বিপরীতে তারা শুধু আশ্বাসই পেয়েছেন। এমতাবস্থায় দ্রুত এলাকাবাসীর জলাবদ্ধতা নিরসন করে, মানবসৃষ্ট দুর্ভোগ লাঘব করতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

ফুলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ারুত তারিক মোহাম্মদ বলেন, পানিবন্দী হিন্দু পাড়াটি আমি একাধিকবার পরিদর্শন করেছি। এলাকাবাসীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।

সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, সংবাদ পেয়ে সেখানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে পাঠিয়েছিলাম। শুনেছি সেখানে ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।  জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত