বিশ্ব বাজারে রেকর্ড দাম বাড়ার ঝুঁকিতে জ্বালানি তেল

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩২ এএম

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপের পর এবার আরও বড় ধরনের পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে ইরান। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান তাদের মিত্র ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ব্যবহার করে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। এই পদক্ষেপের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চলমান উত্তেজনার পারদ আরও বাড়বে এবং বিশ্বের দুটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহণ পথ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়বে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান মূলত সংঘাতের পরিধি বাড়িয়ে ওয়াশিংটনের ওপর চাপ তৈরি করার নতুন কৌশল নিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করাই এর মূল লক্ষ্য। বাব-এল-মান্দেব প্রণালিটি বৈশ্বিক সমুদ্রবাণিজ্য এবং বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। এটি বন্ধ হলে পুরো আন্তর্জাতিক বাজার স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ এক বিবৃতিতে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান, সৌদি আরব যদি ইয়েমেনে তাদের আক্রমণ অব্যাহত রাখে, তবে তারা বাব-এল-মান্দেব প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে প্রস্তুত। এই উত্তেজনার পেছনে মার্কিন উসকানি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে হরমুজ এবং বাব-এল-মান্দেব- দুই প্রণালিই একসঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। আর এমনটি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে বলে হুথি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গবেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি হলেও বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টির জন্য বাব-এল-মান্দেব প্রণালি তাদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। তেহরান মূলত ওয়াশিংটনকে এই বার্তা দিতে চায় যে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত যেতে প্রস্তুত। এর ফলে চলমান সংঘাত কেবল নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত