চাঁদা না পেয়ে যুবদল নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল নেতাদের হামলার অভিযোগ

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২৬ এএম

রাজশাহীর বাগমারায় চাঁদা ও ব্যবসার অংশীদারিত্ব না পেয়ে এক যুবদল নেতার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিনগত রাতে উপজেলার গোয়ালকান্দি বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহত গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সদস্য আসাদুল ইসলামকে (৩৮) শুক্রবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) ভর্তি করা হয়েছে।

এই ঘটনায় তিন ছাত্রদল নেতার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করে বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী যুবদল নেতা। অভিযুক্তরা হলেন- নর্থ বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি পারভেজ রানা, হামিরকুৎসা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সুমন এবং গোয়ালকান্দি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শাহীন আলম।

অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসাদুল ইসলাম গোয়ালকান্দি বাজার ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ভুক্তভোগীর দাবি, সম্প্রতি অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতারা তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা এবং ব্যবসার অংশীদারিত্ব দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে আসাদুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চড়াও হন। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা দোকানে ভাঙচুর চালান এবং আসাদুলকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শুক্রবার সকালে তাকে রামেকে স্থানান্তর করা হয়।

আহত যুবদল নেতা আসাদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করেন, অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা পারভেজ ও তার সহযোগীরা এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম ও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে তার ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা পারভেজ রানা। উল্টো পাল্টা দাবি করে তিনি বলেন, ‌২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আসাদুল ইসলাম এক নারীর ডিশ ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করে নেন। ওই নারীর পাওনা টাকা বা ব্যবসা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি, কেবল সামান্য বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, যুবদল নেতার ওপর হামলার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত