ইরানি স্কুলে মার্কিন বিমান হামলা; তদন্ত ফাইল ধামাচাপা দিচ্ছে সেন্টকম

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩০ এএম

ইরানের একটি স্কুলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল বেশ কয়েক মাস আগে। কিন্তু মার্কিন সামরিক কমান্ড মাসের পর মাস এই ঘটনার তদন্ত ফাইল চেপে ধরে রেখেছে এবং কী ঘটেছিল তা নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত একটি গোয়েন্দা পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে মার্কিন হামলার পর প্রথম এক সপ্তাহের মধ্যেই 'ব্যাটল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট' বা রণাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের প্রথম দুটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছিল। এই প্রাথমিক পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য ছিল একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা- হামলাটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হেনেছে কি না। সেই প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইরানের মিনাব এলাকায় অবস্থিত ‘শাজারেহ তাইয়্যিবা’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীই এই ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় ধাপটি পরিচালনার জন্য এখনো কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপে সাধারণত ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) বিশ্লেষকরা সংশ্লিষ্ট এলাকার স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সমস্ত ছবি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করেন। এর মাধ্যমে হামলাটি কেন হলো এবং এটি সামগ্রিক সামরিক অভিযানের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়। যেকোনো বড় ধরনের বা উল্লেখযোগ্য হামলার পরপরই এই ধরনের নিয়মিত পর্যালোচনা করা বাধ্যতামূলক হলেও, চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরু পর্যন্ত এই তদন্ত প্রক্রিয়াই শুরু করা হয়নি।

এদিকে গত মার্চ মাসে এই হামলার ঘটনায় একটি পৃথক ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে হামলার সঙ্গে জড়িত সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো সামরিক কমান্ডারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত, যাতে তারা ইরানে চলমান অন্যান্য হামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের মারাত্মক ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পারেন। কিন্তু মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন বা ‘লকডাউন’ করে রেখেছে। মাত্র কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এই তথ্য দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, এই হামলার বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা করা হয়নি। সেন্টকম পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটি চেপে ধরেছে এবং কেউ যাতে এটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে না পারে, সেজন্য সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

এই বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। এই মুহূর্তে আমাদের নতুন করে ঘোষণা করার মতো আর কোনো তথ্য নেই।’ তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, এই তদন্তের মাধ্যমেই মূলত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে যে, কার বা কাদের ভুলের কারণে একটি স্কুলে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো।

প্রথম সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার জন্য একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, ডিআইএ-কে দিয়ে তৃতীয় ধাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ গোয়েন্দা পর্যালোচনা করানো যাবে না। কর্তৃপক্ষ চাইলে এই দুটি প্রক্রিয়াই একই সাথে সমান্তরালভাবে চলতে পারত। ডিআইএ-র এই অতিরিক্ত পর্যালোচনা সরাসরি কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করত না, তবে এটি তদন্তের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত জোরালো প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারত।

অবশ্য পেন্টাগনের আরেকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএন-এর কাছে দাবি করেছেন, প্রথাগত তৃতীয় ধাপের মূল্যায়নের পরিবর্তে পেন্টাগন একটি বড় আকারের অভ্যন্তরীণ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালানো সম্ভব ছিল না, কারণ প্রাথমিক পর্যালোচনার পরই এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সেন্টকমের বাইরে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কোনো সংস্থাকে দিয়ে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করানো প্রয়োজন, যারা এই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গত এপ্রিল মাসেই স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সেন্টকমের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও যে বিলম্ব হচ্ছে, তার কারণ হলো ঘটনাটি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভুল হামলার পেছনে যে সমস্ত পদ্ধতিগত ব্যর্থতা ছিল, তা কয়েক বছর পুরনো এবং এর সঙ্গে সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের একাধিক স্তরের ভুলভ্রান্তি জড়িত।

সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, হামলার এক সপ্তাহ পর প্রাথমিক দুটি ধাপের পর্যালোচনার সময়ই প্রমাণিত হয়েছিল যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঐ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্যটি ছিল বহু পুরনো এবং সেই তথ্য অনুযায়ী ওই স্থানটিকে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি নৌঘাঁটি মনে করা হয়েছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই ভয়াবহ ও ভুল বিমান হামলায় ১৬৮ জন শিশু এবং ১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক নিহত হন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, জুলাই মাসের শুরু পর্যন্ত পেন্টাগন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি-কে (ডিআইএ) ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পর্যালোচনার কাজ শুরু করার কোনো অনুরোধই জানায়নি, যা অত্যন্ত নজিরবিহীন। সাধারণত এই ধরনের বড় ঘটনার ক্ষেত্রে ডিআইএ স্বউদ্যোগেই এই ভূমিকা পালন করে থাকে। ডিআইএ-কে শুধুমাত্র প্রাথমিক ও উপরিভাগের পর্যালোচনার কাজে যুক্ত করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলার পেছনে কী ভুল ছিল তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজেই দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হতো। বিশেষ করে, যে পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এবং পেন্টাগনের টার্গেটিং ডেটাবেসের বড় ধরনের ত্রুটি এই দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী ছিল, তা সংশোধন করার সুযোগ তৈরি হতো।

এর আগে সিএনএন এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল যে, শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা তাদের ডেটাবেসে থাকা সতর্কতা সংকেতগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল যে, ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যগুলো মারাত্মকভাবে পুরনো ও আপডেটেড নয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ বা তালিকা প্রস্তুত করার তাগিদে এবং নিজেদের সুবিধার্থে কমান্ডাররা সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে হামলার অনুমোদন দেন, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে এই স্কুলটিতে আঘাত হানা হয়।

একটি সূত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সিএনএন-কে বলে, ‘পেন্টাগন আসলে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার বা 'ড্যামেজ কন্ট্রোল' করার চেষ্টা করছে।’ পেন্টাগন এবং সেন্টকমের শীর্ষ নেতারা কোনোভাবেই চান না যে, বছরখানেক আগের একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটুক। 

উল্লেখ্য, গত বছর সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে ডিআইএ-র একটি মূল্যায়ন ফাঁস হয়েছিল, যেখানে দেখা যায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলায় দেশটির সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। ঐ প্রতিবেদনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমক্ষে করা দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল, যা হোয়াইট হাউস এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিল।

ঐ সময়ে সেন্টকমের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ছাড়াই ডিআইএ প্রথাগত নিয়ম মেনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির গভীর বিশ্লেষণ (ফেজ-৩ বিডিএ) করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে চলে আসায় এবং ট্রাম্পের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ডিআইএ নেতৃত্বের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে ডিআইএ-র তৎকালীন পরিচালক জেনারেল জেফরি ক্রুসকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন যে, স্কুলে হামলার ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব সেন্টকমের বাইরের একজন মার্কিন জেনারেলের হাতে দেওয়া হয়েছে যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। তবে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ওই তদন্ত কর্মকর্তা এপ্রিল মাসেই তদন্ত প্রতিবেদনের প্রাথমিক খসড়া জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেন্টকম তখন থেকেই প্রতিবেদনটি নিজেদের হেফাজতে আটকে রেখেছে।

তদন্ত শেষ করতে এবং প্রতিবেদন প্রকাশে এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ক্যাপিটল হিলে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বারবার পেন্টাগনের কাছে এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি হস্তান্তরের দাবি জানালেও তা দেওয়া হচ্ছে না।

সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রায় দুই ডজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, "হামলার পর চার মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে এবং এপ্রিল মাসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার খবর আসার পরও কংগ্রেস বা আমেরিকার সাধারণ মানুষ পেন্টাগনের তদন্তের ফলাফল জানতে পারেনি। এই ঘটনায় কী ভুল ছিল, কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে পেন্টাগন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার একটি অবিকৃত ও উন্মুক্ত প্রতিবেদন আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।"

অন্য একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ সফলভাবে চলছে—হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে এমন প্রমাণ দেওয়ার তীব্র চাপ রয়েছে হেগসেথ ও কুপারের ওপর। এই চাপের কারণেই তারা যুদ্ধের কোনো নেতিবাচক বা সংবেদনশীল তথ্য সামরিক বাহিনীর অন্য কোনো বিভাগ বা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে ভাগাভাগি করতে চাচ্ছেন না।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, পেন্টাগন এবং সেন্টকম এখন সাধারণ সামরিক পরিকল্পনা বা মৌলিক তথ্যের ক্ষেত্রেও এমন ধরনের উচ্চ গোপনীয়তার ক্ষমতা (ক্লাসিফিকেশন পাওয়ার) ব্যবহার করছে, যা সাধারণত অত্যন্ত সংবেদনশীল বা বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে।

একটি সামরিক সূত্র হতাশা ব্যক্ত করে বলে, ‘আমি আমার পুরো ক্যারিয়ারে এই ধরনের সাধারণ তথ্যের ওপর এতটা গোপনীয়তার কড়াকড়ি কখনো দেখিনি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সফলতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমরা সমস্ত বিভাগ মিলে একসাথে কাজ করি। কিন্তু আপনি যখন আমাদের একে অপরের থেকে এভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখবেন, তখন আমরা কেউ কারও শক্তি বাড়াতে পারব না বা একে অপরের দুর্বলতাগুলো ঢেকে দিতে পারব না। এমনটি তখনই করা হয় যখন আপনি অন্ধভাবে পারানোইড বা সন্দিহান হয়ে ওঠেন যে আপনার অধস্তনরা আপনার আদেশ মানবে না, অথবা আপনি তাদের বিশ্বাস করেন না।’

এদিকে চলতি সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তিনি এই তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দেবেন কি না। ট্রাম্প বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমাকে জেনারেলদের সাথে কথা বলতে হবে... আমার মনে হয় না সেখানে আসলে কী ঘটেছিল তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে।’

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে বারবার চাপ দেওয়া হলে ট্রাম্প যোগ করেন, ‘আমি মনে করি না কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব।’ এরপর তিনি আবারও একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আমি জানি না, আমাকে সামরিক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে।’

অবশ্য ট্রাম্প পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের একটি অত্যন্ত সক্রিয় ও উত্তপ্ত মুহূর্তে মার্কিন বাহিনীর কোনো ভুল বা পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহারের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকা ‘সম্ভব’। তবে একই সাথে তিনি জনসমক্ষে থাকা প্রমাণগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের যে স্যাটেলাইট ছবি পাওয়া গেছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন যে, সেই ছবিগুলো হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

ইরানি স্কুলে মার্কিন বিমান হামলা; তদন্ত ফাইল ধামাচাপা দিচ্ছে সেন্টকম

ইরানের একটি স্কুলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল বেশ কয়েক মাস আগে। কিন্তু মার্কিন সামরিক কমান্ড মাসের পর মাস এই ঘটনার তদন্ত ফাইল চেপে ধরে রেখেছে এবং কী ঘটেছিল তা নির্ধারণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নিয়মিত একটি গোয়েন্দা পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেওয়া থেকে বিরত রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানে মার্কিন হামলার পর প্রথম এক সপ্তাহের মধ্যেই 'ব্যাটল ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট' বা রণাঙ্গনে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের প্রথম দুটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছিল। এই প্রাথমিক পর্যালোচনার মূল লক্ষ্য ছিল একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খোঁজা- হামলাটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে সঠিকভাবে আঘাত হেনেছে কি না। সেই প্রাথমিক তদন্তেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইরানের মিনাব এলাকায় অবস্থিত ‘শাজারেহ তাইয়্যিবা’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীই এই ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তৃতীয় ধাপটি পরিচালনার জন্য এখনো কোনো আদেশ দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, তৃতীয় ধাপে সাধারণত ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির (ডিআইএ) বিশ্লেষকরা সংশ্লিষ্ট এলাকার স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত সমস্ত ছবি এবং অন্যান্য গোয়েন্দা তথ্য সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করেন। এর মাধ্যমে হামলাটি কেন হলো এবং এটি সামগ্রিক সামরিক অভিযানের ওপর কী প্রভাব ফেলেছে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা হয়। যেকোনো বড় ধরনের বা উল্লেখযোগ্য হামলার পরপরই এই ধরনের নিয়মিত পর্যালোচনা করা বাধ্যতামূলক হলেও, চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরু পর্যন্ত এই তদন্ত প্রক্রিয়াই শুরু করা হয়নি।

এদিকে গত মার্চ মাসে এই হামলার ঘটনায় একটি পৃথক ও স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই তদন্তের অংশ হিসেবে হামলার সঙ্গে জড়িত সামরিক কর্মকর্তা ও সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, জিজ্ঞাসাবাদ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো সামরিক কমান্ডারদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত, যাতে তারা ইরানে চলমান অন্যান্য হামলার ক্ষেত্রে এই ধরনের মারাত্মক ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে পারেন। কিন্তু মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ গোপন বা ‘লকডাউন’ করে রেখেছে। মাত্র কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এই তথ্য দেখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র সিএনএন-কে জানিয়েছে, এই হামলার বিষয়ে কোনো বিস্তারিত বিশ্লেষণ বা পর্যালোচনা করা হয়নি। সেন্টকম পুরো তদন্ত প্রক্রিয়াটি চেপে ধরেছে এবং কেউ যাতে এটি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে না পারে, সেজন্য সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে।

এই বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা সিএনএন-কে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে। এই মুহূর্তে আমাদের নতুন করে ঘোষণা করার মতো আর কোনো তথ্য নেই।’ তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জোর দিয়ে বলেছে, এই তদন্তের মাধ্যমেই মূলত নির্ধারণ করা সম্ভব হবে যে, কার বা কাদের ভুলের কারণে একটি স্কুলে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হলো।

প্রথম সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এই ঘটনার জন্য একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অর্থ এই নয় যে, ডিআইএ-কে দিয়ে তৃতীয় ধাপের পুঙ্খানুপুঙ্খ গোয়েন্দা পর্যালোচনা করানো যাবে না। কর্তৃপক্ষ চাইলে এই দুটি প্রক্রিয়াই একই সাথে সমান্তরালভাবে চলতে পারত। ডিআইএ-র এই অতিরিক্ত পর্যালোচনা সরাসরি কাউকেই দোষী সাব্যস্ত করত না, তবে এটি তদন্তের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত জোরালো প্রমাণ হিসেবে কাজ করতে পারত।

অবশ্য পেন্টাগনের আরেকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএন-এর কাছে দাবি করেছেন, প্রথাগত তৃতীয় ধাপের মূল্যায়নের পরিবর্তে পেন্টাগন একটি বড় আকারের অভ্যন্তরীণ তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুটি প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালানো সম্ভব ছিল না, কারণ প্রাথমিক পর্যালোচনার পরই এটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সেন্টকমের বাইরে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ কোনো সংস্থাকে দিয়ে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করানো প্রয়োজন, যারা এই হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, গত এপ্রিল মাসেই স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সেন্টকমের কাছে জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরপরও যে বিলম্ব হচ্ছে, তার কারণ হলো ঘটনাটি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই ভুল হামলার পেছনে যে সমস্ত পদ্ধতিগত ব্যর্থতা ছিল, তা কয়েক বছর পুরনো এবং এর সঙ্গে সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের একাধিক স্তরের ভুলভ্রান্তি জড়িত।

সূত্রগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, হামলার এক সপ্তাহ পর প্রাথমিক দুটি ধাপের পর্যালোচনার সময়ই প্রমাণিত হয়েছিল যে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ঐ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। মার্কিন বাহিনীর কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্যটি ছিল বহু পুরনো এবং সেই তথ্য অনুযায়ী ওই স্থানটিকে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একটি নৌঘাঁটি মনে করা হয়েছিল।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এই ভয়াবহ ও ভুল বিমান হামলায় ১৬৮ জন শিশু এবং ১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক নিহত হন।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, জুলাই মাসের শুরু পর্যন্ত পেন্টাগন ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি-কে (ডিআইএ) ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত পর্যালোচনার কাজ শুরু করার কোনো অনুরোধই জানায়নি, যা অত্যন্ত নজিরবিহীন। সাধারণত এই ধরনের বড় ঘটনার ক্ষেত্রে ডিআইএ স্বউদ্যোগেই এই ভূমিকা পালন করে থাকে। ডিআইএ-কে শুধুমাত্র প্রাথমিক ও উপরিভাগের পর্যালোচনার কাজে যুক্ত করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই হামলার পেছনে কী ভুল ছিল তা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলে মার্কিন সামরিক বাহিনী নিজেই দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হতো। বিশেষ করে, যে পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার এবং পেন্টাগনের টার্গেটিং ডেটাবেসের বড় ধরনের ত্রুটি এই দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি দায়ী ছিল, তা সংশোধন করার সুযোগ তৈরি হতো।

এর আগে সিএনএন এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছিল যে, শীর্ষ মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা তাদের ডেটাবেসে থাকা সতর্কতা সংকেতগুলো সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছিলেন। সেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল যে, ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যগুলো মারাত্মকভাবে পুরনো ও আপডেটেড নয়। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে দ্রুত লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ বা তালিকা প্রস্তুত করার তাগিদে এবং নিজেদের সুবিধার্থে কমান্ডাররা সেই সতর্কতা উপেক্ষা করে হামলার অনুমোদন দেন, যার চূড়ান্ত পরিণতিতে এই স্কুলটিতে আঘাত হানা হয়।

একটি সূত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সিএনএন-কে বলে, ‘পেন্টাগন আসলে পুরো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার বা 'ড্যামেজ কন্ট্রোল' করার চেষ্টা করছে।’ পেন্টাগন এবং সেন্টকমের শীর্ষ নেতারা কোনোভাবেই চান না যে, বছরখানেক আগের একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটুক। 

উল্লেখ্য, গত বছর সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে ডিআইএ-র একটি মূল্যায়ন ফাঁস হয়েছিল, যেখানে দেখা যায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলায় দেশটির সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা যায়নি। ঐ প্রতিবেদনটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমক্ষে করা দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত ছিল, যা হোয়াইট হাউস এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছিল।

ঐ সময়ে সেন্টকমের কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ ছাড়াই ডিআইএ প্রথাগত নিয়ম মেনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির গভীর বিশ্লেষণ (ফেজ-৩ বিডিএ) করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিবেদনটি গণমাধ্যমে চলে আসায় এবং ট্রাম্পের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় হোয়াইট হাউস ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ ডিআইএ নেতৃত্বের ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে ডিআইএ-র তৎকালীন পরিচালক জেনারেল জেফরি ক্রুসকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।

পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তারা এর আগে জানিয়েছিলেন যে, স্কুলে হামলার ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্ব সেন্টকমের বাইরের একজন মার্কিন জেনারেলের হাতে দেওয়া হয়েছে যাতে নিরপেক্ষতা বজায় থাকে। তবে ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন, ওই তদন্ত কর্মকর্তা এপ্রিল মাসেই তদন্ত প্রতিবেদনের প্রাথমিক খসড়া জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু সেন্টকম তখন থেকেই প্রতিবেদনটি নিজেদের হেফাজতে আটকে রেখেছে।

তদন্ত শেষ করতে এবং প্রতিবেদন প্রকাশে এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ক্যাপিটল হিলে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা বারবার পেন্টাগনের কাছে এই সংক্রান্ত সমস্ত নথি হস্তান্তরের দাবি জানালেও তা দেওয়া হচ্ছে না।

সম্প্রতি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সেন্টকম কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রায় দুই ডজন ডেমোক্র্যাট সিনেটর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, "হামলার পর চার মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে এবং এপ্রিল মাসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার খবর আসার পরও কংগ্রেস বা আমেরিকার সাধারণ মানুষ পেন্টাগনের তদন্তের ফলাফল জানতে পারেনি। এই ঘটনায় কী ভুল ছিল, কী ঘটেছিল এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি রোধে পেন্টাগন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার একটি অবিকৃত ও উন্মুক্ত প্রতিবেদন আটকে রাখার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।"

অন্য একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ সফলভাবে চলছে—হোয়াইট হাউসের কাছ থেকে এমন প্রমাণ দেওয়ার তীব্র চাপ রয়েছে হেগসেথ ও কুপারের ওপর। এই চাপের কারণেই তারা যুদ্ধের কোনো নেতিবাচক বা সংবেদনশীল তথ্য সামরিক বাহিনীর অন্য কোনো বিভাগ বা গোয়েন্দা সংস্থার সাথে ভাগাভাগি করতে চাচ্ছেন না।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, পেন্টাগন এবং সেন্টকম এখন সাধারণ সামরিক পরিকল্পনা বা মৌলিক তথ্যের ক্ষেত্রেও এমন ধরনের উচ্চ গোপনীয়তার ক্ষমতা (ক্লাসিফিকেশন পাওয়ার) ব্যবহার করছে, যা সাধারণত অত্যন্ত সংবেদনশীল বা বিশেষ অভিযানের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এর ফলে বিভিন্ন সামরিক বাহিনীর নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বয় ব্যাহত হচ্ছে।

একটি সামরিক সূত্র হতাশা ব্যক্ত করে বলে, ‘আমি আমার পুরো ক্যারিয়ারে এই ধরনের সাধারণ তথ্যের ওপর এতটা গোপনীয়তার কড়াকড়ি কখনো দেখিনি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সফলতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমরা সমস্ত বিভাগ মিলে একসাথে কাজ করি। কিন্তু আপনি যখন আমাদের একে অপরের থেকে এভাবে বিচ্ছিন্ন করে রাখবেন, তখন আমরা কেউ কারও শক্তি বাড়াতে পারব না বা একে অপরের দুর্বলতাগুলো ঢেকে দিতে পারব না। এমনটি তখনই করা হয় যখন আপনি অন্ধভাবে পারানোইড বা সন্দিহান হয়ে ওঠেন যে আপনার অধস্তনরা আপনার আদেশ মানবে না, অথবা আপনি তাদের বিশ্বাস করেন না।’

এদিকে চলতি সপ্তাহে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, তিনি এই তদন্তের ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশ করার প্রতিশ্রুতি দেবেন কি না। ট্রাম্প বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ‘আমাকে জেনারেলদের সাথে কথা বলতে হবে... আমার মনে হয় না সেখানে আসলে কী ঘটেছিল তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে।’

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়ে বারবার চাপ দেওয়া হলে ট্রাম্প যোগ করেন, ‘আমি মনে করি না কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব।’ এরপর তিনি আবারও একই কথার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ‘আমি জানি না, আমাকে সামরিক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে।’

অবশ্য ট্রাম্প পরোক্ষভাবে স্বীকার করেছেন যে, যুদ্ধের একটি অত্যন্ত সক্রিয় ও উত্তপ্ত মুহূর্তে মার্কিন বাহিনীর কোনো ভুল বা পুরনো গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহারের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকা ‘সম্ভব’। তবে একই সাথে তিনি জনসমক্ষে থাকা প্রমাণগুলোর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ঘটনাস্থলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের যে স্যাটেলাইট ছবি পাওয়া গেছে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন যে, সেই ছবিগুলো হয়তো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি করা হতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত