খুলনায় চলছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৃক্ষমেলা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সাধারণ মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এই মেলায় ফলদ, বনজ, ঔষধি এবং বিরল প্রজাতির অর্কিডসহ হাজার হাজার গাছের সমাহার ঘটানো হয়েছে। মেলায় আসা দর্শনার্থীর জন্য গাছের সঠিক পরিচর্যা ও চারা রোপণের আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্টলে সুলভ মূল্যে উন্নত জাতের চারা বিক্রি করা হচ্ছে। সবুজে ঘেরা এই মেলা শুধু চারা কেনাবেচার কেন্দ্র নয়, বরং এটি খুলনাবাসীর মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা সৃষ্টি এবং নগর বনায়ন বাড়াতে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
খুলনার সার্কিট হাউজ মাঠে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বিভাগীয় বৃক্ষমেলা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বৃক্ষমেলা চলবে আগামী ১১ আগস্ট পর্যন্ত। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ সবার আগে বাংলাদেশ’ এই প্রতিপদ্য সামনে রেখে খুলনা জেলা প্রশাসন ও সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় মোট ৬২টি স্টলের ৫৭টি নার্সারি প্রতিষ্ঠান, চারটি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও একটি স্টলে বন্যপ্রাণী প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই মেলা দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের মেলায় বনজ, ফলদ, ঔষধি, শোভাবর্ধক গাছের চারার পাশাপশি ছাদ বাগানের উপযোগী গাছও পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি সৌখিন ক্রেতাদের জন্য থাই-ভিয়েতনামি হাইব্রিড কাঁঠাল, জাপানি পার্সিমন ও রামবুটান, এবোকাডো, লঙ্গান, থাই ভেরিয়েন্ট আঁশফল, থাই সফেদা, গোলাপজামের মতো বিদেশি ফলের গাছও স্থান পেয়েছে।
বন বিভাগ আরও জানিয়েছে, বৃক্ষমেলায় দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার প্রজাতির গাছ পাওযা যাবে। এর মধ্যে বনজ (সেগুন, মেহগনি, অর্জুন, রেইনট্রি); ফলদ (আম, কাঁঠাল, মাল্টা, ড্রাগন); ঔষধি (তুলসী, নিম, অ্যালোভেরা, থানকুনি); শোভাবর্ধক (আর্কিড, পাতাবাহার, বনসাই মানিপ্ল্যান্ট, রাবার প্ল্যান্ট, ক্যাকটাস, বাগান বিলাস); ফুল (গোলাপ বেলি, স্বর্ণচাঁপা, দোলনচাঁপা, শে^তচাঁপা, ক্যামেলিয়া) পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ড্রামে বারোমাসি কাঁঠাল ও ছোট টবে ফল ধরা গাছ পাওয়া যাচ্ছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, এবারের বৃক্ষমেলার নার্সারির স্টলগুলোতে দেশি-বিদেশি হরেক জাতের বনজ, ফলদ, ঔষধি, শোভাবর্ধকসহ বিভিন্ন ফুলের চারার এক অপূর্ব সবুজের সমারোহ ঘটেছে। মেলার শুরুতে নারী ও তরুণ-তরুণীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। মেলায় ফলদ চারার মধ্যে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, মাল্টা, ড্রাগন, করমচা, শরিফা ও বিভিন্ন থাই বারোমাসি ফল। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও দীর্ঘমেয়াদি বনায়নের জন্য মেলায় মেহগনি, রেইনট্রি, সেগুন ও অর্জুনের মতো ঐতিহ্যবাহী বনজ চারা রাখা হয়েছে।
মেলার মৌসুমি ও হামিদ নার্সারিতে বারোমাসি, থাই, কাটিমন, মিয়াজাকি, কিউজায়, পালমাল, চ্যাংমাই, চাকাপাত, গৌরমতি ও ব্যানানা জাতের আমের কালেকশন রয়েছে। করিম নার্সারি সূত্রে জানা গেছে, খুলনার বৃক্ষপ্রেমীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন। জনপ্রিয় এবং সুস্বাদু পার্সিমন ফলটি এখন বাংলাদেশে চাষ হচ্ছে। কলমের চারা রোপণের পর দুই বছরের মধ্যে গাছে ফলন আসে। ফলসহ একটি চারার দাম ৩০ হাজার টাকা। খুলনা নার্সারি মালিক সমিতির সভাপতি এসএম বদরুল আলম রয়েল বলেন, খুলনার বৃক্ষমেলা খুবই জমজমাট হয়। বাংলাদেশের এক মাসব্যাপী বৃক্ষমেলা কোথাও হয় না। এ বছর আড়াই হাজার প্রজাতির প্রায় ২০ লাখের বেশি চারা নিয়ে মেলা শুরু করেছি।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেএম হাসানুর রহমান বলেন, খুলনা বিভাগীয় বৃক্ষমেলা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বৃক্ষমেলা। ঘূর্ণিঝড়, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকটের মুখে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।