বাঁশখালীর জলকদর খাল

৮৯ স্লুইসগেটের অধিকাংশই অচল জরাজীর্ণ

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যা ও জলাবদ্ধতার পেছনে ৮৯টি সøুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশনে বাধাকেই প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, বাঁশখালীর পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম জলকদর খাল। এই খালের নাব্য হারিয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, চিংড়ি চাষের নামে প্রভাবশালী মহল কর্তৃক স্লুইসগেট আটকে রাখা এবং সøুইসগেটে জাল বসিয়ে মাছ শিকারের কারণে পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানি নামতে পারে না। ফলে পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। পানিবন্দি হয়ে পড়ে উপজেলার কয়েক লাখ বাসিন্দা। এছাড়া স্লুইসগেটের অধিকাংশই এখন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে নির্মিত এসব সøুইসগেটের অধিকাংশেরই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। তহবিল সংকটের কারণে নিয়মিত সংস্কার না হওয়ায় এবং জলকদর খালসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক নিষ্কাশন পথে অবৈধ বাঁধ দেওয়ায় পানি চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এছাড়া খালগুলো পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় এবং অবৈধ স্থাপনা তৈরির ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে।

ব্যক্তিগত স্বার্থে মাছের ঘের তৈরির জন্য সরকারি সøুইসগেটগুলো অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ করে বাঁশখালীর এমপি মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘যথাযথ তদারকির অভাবেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।’ তবে পানি চলাচলের সুবিধার্থে ২০টি স্থানে বাঁধ কেটে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল জানান, অধিকাংশ সøুইসগেট বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ৩৩টি সøুইসগেট প্রতিস্থাপন, জলকদর ও ছোট ছনুয়া খাল পুনঃখনন এবং বাঁধ পুনর্বিন্যাসের একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত