নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। বৈরী আবহাওয়া ও ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত জারি থাকলেও পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বেড়েছে পর্যটকদের আনাগোনা। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে উত্তাল ঢেউ উপভোগ করতে সৈকতের জিরো পয়েন্টসহ পূর্ব ও পশ্চিম অংশে ভিড় করেন অসংখ্য পর্যটক। অনেককে সমুদ্রে নেমে গোসল ও ঢেউয়ের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাস করতে দেখা যায়।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘দুবার কুয়াকাটায় এসেছি, কিন্তু এত বড় ঢেউ আগে কখনো দেখিনি। পরিবারের সবাই মিলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ বেশ উপভোগ করছি।’ এদিকে সকাল থেকেই কুয়াকাটায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে দেখা গেছে। আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও সৈকতের জিরো পয়েন্ট, ঝাউবন এলাকা এবং পূর্ব-পশ্চিম সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে সমুদ্রের উত্তাল অবস্থা ও বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সৈকতসংলগ্ন কয়েকটি প্রথম সারির হোটেলে সন্তোষজনক বুকিং থাকলেও শহরের ভেতরের ও অপেক্ষাকৃত দূরের অধিকাংশ হোটেলে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। এ ব্যাপারে কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল ফরাজী বলেন, ‘সৈকতসংলগ্ন কিছু হোটেলে ভালো বুকিং রয়েছে। তবে আশপাশের অধিকাংশ হোটেলে এখনো প্রত্যাশিত বুকিং নেই। বৈরী আবহাওয়া ও সমুদ্রের উত্তাল অবস্থার কারণে অনেক পর্যটক শেষ মুহূর্তে ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করেছেন বলেও আমরা ধারণা করছি। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে আগামী কয়েক দিনে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি।’ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কে এম বাচ্চু। তিনি বলেন, ‘উত্তাল সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই পর্যটক আসছেন। কিন্তু সৈকতে পর্যাপ্ত সতর্কবার্তা, লাইফগার্ড, ফায়ার সার্ভিস কিংবা ট্যুরিস্ট পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। পর্যটকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হাসান বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। নিম্নচাপের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় আমরা মাইকিং করে পর্যটকদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার অনুরোধ করছি। পাশাপাশি সৈকতের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।’