বানের পানিতে ধসে পড়ল ঘর 

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৯ এএম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর সাগর উপকূলীয় খানখানাবাদের ডোংরা গ্রামের সহজ-সরল মো. কালু মিয়া। চাষাবাদসহ নানাবিধ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। স্ত্রীসহ ৩ ছেলে ও ৪ মেয়ে নিয়ে মাটির দেয়ালের একটি টিনশেডের বাড়িতে সুখেই চলছিল তাদের সংসার। এলাকায় পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় সোলার দিয়ে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার আলোর ব্যবস্থা করেন। গত ১১ জুলাই হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কবলে পড়ে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও স্মৃতিতে গড়া বাড়িটি। হঠাৎ করেই পানির তোড়ে ধসে যায় ঘর। সেই থেকে প্রতিবেশী এয়ার মোহাম্মদের বাড়িতে কোনো রকমে রাতযাপন করছেন কালুর পরিবার।

গত বুধবার বিকালে সিপিপি কর্মী আবুল কালামসহ ডোংরা গ্রামে সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে মো. কালু বলেন, ‘জীবনে অনেক দুর্যোগের সম্মুখীন হয়েছি। কিন্তু এত পানি আগে কখনো দেখেনি। বানের পানিতে আমার সব তলিয়ে গেল। বিশেষ করে আমাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার বইপত্রগুলোর জন্য বড় কষ্ট হচ্ছে।’

চট্টগ্রামের মহসিন কলেজে পড়–য়া বড় ছেলে ইফতেখার বলেন, ‘আমাদের এ বাড়ি ঘিরে অনেক স্মৃতি ছিল। এই উঠানেই আমাদের শৈশব কেটেছে। ভাই-বোনদের হাসি-আনন্দ আর নানা উৎসবের স্মৃতি জড়িয়ে আছে বাড়িটির সঙ্গে। হঠাৎ করে বানের পানিতে সবকিছু ধসে যেতে দেখে আমরা অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম। আমাদের অনেক স্মৃতি আর স্বপ্নও যেন বানের পানির সঙ্গে ভেসে গেছে।’

বাঁশখালী উপকূলীয় কলেজে পড়–য়া মেয়ে সুমাইয়া বলেন, ‘আমাদের স্বপ্নের বাড়িটি ভেঙে যাওয়ার পর চাচা এয়ার মোহাম্মদের বাড়িতে একটা খাট নিয়ে সবাই কোনোরকমে সময় পার করছি। এ অবস্থায় লেখাপড়ায় মন বসানো কঠিন হয়ে পড়েছে।’ খানখানাবাদের প্যানেল চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সিকদার বলেন, ‘বন্যায় আমার ইউনিয়নের ৫ শতাধিক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার মধ্যে দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ও ২০০ শতাধিক ঘরবাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডোংরা গ্রামের মো. কালুর বাড়ির বিষয়টিও আমরা জেনেছি। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত