মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিমুলিয়া ঘাটে অতিরিক্ত টোল আদায়কে কেন্দ্র করে ইজারাদারের লোকজনের হামলায় ৪ জন পর্যটক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পার্কিং ইয়ার্ডের পাশাপাশি ঘাটের সংযোগ সড়কে নতুন করে টোল বসানো এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পর্যটকদের সঙ্গে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। পরে ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাস থেকে বিআইডব্লিউটিএ নিয়মিত পার্কিং ইয়ার্ড টোলের বাইরেও শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাওয়া-লৌহজং প্রধান সড়ক পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য বিআইডব্লিউটিএ নতুন করে আরেকটি টোল ইজারা দেয়। অভিযোগ উঠেছে, ইজারাদারের লোকজন নির্ধারিত হারের তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছেমতো পর্যটক ও স্থানীয় যানবাহন থেকে মোটা অঙ্কের টোল আদায় করছে। মাত্র ৫০০ মিটারের ব্যবধানে দুটি ভিন্ন স্থানে ডাবল টোল দিতে বাধ্য হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল ঘুরতে আসা পর্যটক ও স্থানীয় অধিবাসীদের মনে। এ নিয়ে প্রায়শই ইজারাদারের লোকজনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বাগ্বিত-া ও ঝামেলার সৃষ্টি হচ্ছিল।
গত বৃহস্পতিবার রাতের টোল আদায়কারীদের অন্যায্য দাবির প্রতিবাদ জানালে পর্যটকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ইজারাদারের বলয়। এতে চারজন পর্যটক আহত হন।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা আদিলুর রহমান নামে একজন পর্যটক জানানÑ মাত্র আধা কিলোমিটার রাস্তার জন্য আলাদা করে আবার টোল দেওয়া পুরোপুরি অযৌক্তিক। টোল আদায়ের নামে মূলত পর্যটকদের হয়রানি ও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে পর্যটকা শিমুলিয়া ঘাট বিমুখ হবে। দ্রুত এই ইজারা বাতিল না করলে শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটক আসা একদম বন্ধ হয়ে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, মাত্র আধা কিলোমিটার দূরত্বে দুটি পৃথক টোল আদায় কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। এতে পর্যটকদের হয়রানি বাড়ছে এবং শিমুলিয়া ঘাটে বেড়াতে আসা মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দ্রুত বিষয়টি তদন্ত করে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ঘাটের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নওয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ সড়কটি, পার্কিং ইয়ার্ড বৈধভাবে ইজারা দিয়েছেন। সেখান থেকে ইজারাদার টোল আদায় করছে। এটি সম্পর্ক বৈধ প্রক্রিয়া। আধা কিলোমিটারে দুবার টোল আদায়ের বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের রাস্তা আমরা কী করব সেটা আমাদের একান্ত সিদ্ধান্ত। রাস্তা ব্যবহার করলে টোল দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।
লৌহজং থানার ওসি মো. বোরহান উল ইসলাম জানান, ৯৯৯-এ কল পেয়ে এসআই আজাদকে ঘটনাস্থলে পাঠাই। সেখানে আহত পর্যটকদের প্রথমে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেন এসআই। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু বলেন, এ বছরই নতুন রাস্তা ব্যবহারের জন্য টোল ধার্য করে ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ। তবে এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। খুব কাছাকাছি দুটি টোল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। আমরা এ টোলটি বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলছি। স্থানীয় এমপি আব্দুস সালাম আজাদ ও আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় এ নিয়ে কাজ করছেন, যাতে এখানে দুটি টোল না করে পূর্বের মতো একটি টোলই থাকে। আশা করছি দ্রুতই আমরা এর সমাধান করতে পারব।
মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসনের সাংসদ অ্যাড. আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, সরকারের ভেতরে থেকে বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসৎ কর্মকর্তা বিএনপি সরকারকে বিব্রত করতে এ টোল ব্যবস্থার আয়োজন করেছেন। নয়তো মাত্র ৫০০ মিটার জায়গার মধ্যে দুটি টোল কীভাবে হয়।