বর্ষায় আপন রূপে ধরা দিল ঝরনাগুলো, পর্যটকের ঢল

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৪ এএম

টানা বর্ষণের পর পাহাড় বেয়ে নেমে আসা সাদা জলধারা, পাথুরে ঝিরিপথ আর প্রকৃতির মনোমুগ্ধকর আবহে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের ঝরনাগুলো। অতিবৃষ্টিতে সাময়িক পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার পর বৃষ্টিপাত কমায় আবার চালু হয়েছে বারৈয়াঢালা রেঞ্জের সব ঝরনা। বর্ষার পূর্ণ রূপে সেজে ওঠা এসব ঝরনা এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে হাজারো মানুষ ছুটে আসছেন ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

‘ঝরনার রাণী’ হিসেবে পরিচিত মিরসরাইয়ে রয়েছে রূপসী ঝরনা, হরিণাকু- ঝরনা, নাপিত্তাছড়া ঝরনা, সোনাইছড়ি ঝরনা, বোয়ালিয়া ঝরনা, খৈয়াছড়া ঝরনা ও জনপ্রিয় মেলখুম ট্রেইল। বছরের অন্য সময় ঝরনায় পানিপ্রবাহ কম থাকলেও বর্ষায় সেগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। তাই এ সময়টিই প্রকৃতিপ্রেমী ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষদের কাছে সবচেয়ে কাক্সিক্ষত।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আওতাধীন বারৈয়ারঢালা জাতীয় উদ্যানের প্রায় ২ হাজার ৯৩৫ একর বনাঞ্চলজুড়ে রয়েছে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া, রূপসী, সোনাইছড়ি ও বাওয়াছড়া ঝরনা। আকৃতি, সৌন্দর্য ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে খৈয়াছড়া, নাপিত্তাছড়া ও রূপসী ঝরনায় পর্যটকের ভিড় সবচেয়ে বেশি।

সম্প্রতি সরেজমিন দেখা গেছে, রূপসী, নাপিত্তাছড়া ও খৈয়াছড়া ঝরনার প্রবেশপথে সারি সারি বাস, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে। পর্যটকের চাপ বাড়ায় স্থানীয়ভাবে খাবার, পানীয়, ট্রেকিং সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্যের বিক্রিও বেড়েছে।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা সুবিক নামে এক পর্যটক বলেন, ‘মিরসরাইয়ের ঝরনার কথা খুব শুনতাম লোকমুখে। সেখান থেকেই ঝরনাগুলো দেখতে আসার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। প্রথমবার খৈয়াছড়া ঝরনায় এলাম। পথটা যদিও একটু দুর্গম। কিন্তু ঝরনার যত নিকটে যাচ্ছিলাম, ততই মুগ্ধ হচ্ছিলাম। যখনই ঝরনার কাছে গেলাম পথের সব কষ্ট এক মুহূর্তেই মুছে গেল। এত সুন্দর এ ঝরনা, আমার কল্পনাকেও ছাড়িয়েছে।’

চট্টগ্রাম থেকে আসা ফাহাদ বলেন, ‘আমরা কয়েকজন কলিগ ঝরনা দেখতে এসেছি। এর আগেও বেশ কয়েকবার খৈয়াছড়া ঝরনায় গিয়েছিলাম। আজ নাপিত্যাছড়া ঝরনা দেখলাম। দুটি ঝরনার সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য একেবারেই ভিন্ন।’ তবে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি ঝরনায় রয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

ঝরনাগুলোয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ২০১০ সাল থেকে ঝরনাগুলো ইজারা দিয়ে আসছে বন বিভাগ। চলতি বছরের ২৩ মে থেকে ২০২৭ সালের ২৪ মে পর্যন্ত এক বছরের জন্য ৪০ লাখ ১০০ টাকায় ঝরনাগুলোর ইজারা পেয়েছে থ্রি-বি নামের একটি প্রতিষ্ঠান। থ্রি-বির কর্মকর্তা এসএম হারুন বলেন, বর্ষাকালে পর্যটকের চাপ সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই প্রবেশপথে কাউন্সেলিং, সচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার টানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং সব পর্যটককে গাইড সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে ঝরনাগুলো সাময়িক বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় গত পরশু থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। পর্যটকের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

মিরসরাই ইউএনও সোমাইয়া আক্তার বলেন, নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থার কারণে মিরসরাইয়ের পাহাড়ি ঝরনাগুলো দিন দিন আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক আসছেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, বন বিভাগ ও ইজারাদার সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত