টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৫ ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক দুর্ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও ১১ জন।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টা থেকে শুক্রবার বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার থলপাড়া, মন্দিরাপাড়া, কোদালিয়া এবং কাটরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, শেরপুর সদর উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে জিকুল হোসেন (১৮), নীলফামারী সদর উপজেলার বেংমারী সাহাপাড়া গ্রামের আজাহার মিয়ার ছেলে সামসুর রহমান সাজ্জাত (৩১), মির্জাপুর উপজেলার বহুরিয়া গ্রামের সুজন রাজবংশীর ছেলে সুশান্ত রাজবংশী (১৮), গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের রুস্তম আলী (৬৫), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের মৃত হারুন মোল্লার ছেলে জুলহাস মোল্লা (৪৮)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুরের ভাওয়াল মির্জাপুর এলাকা থেকে প্রায় ৪০ জন যুবক একটি নৌকা নিয়ে মির্জাপুরের মহেড়া জমিদারবাড়ি পিকনিক স্পটে বেড়াতে যান। সেখান থেকে ফেরার পথে ফতেপুর ইউনিয়নের থলপাড়া এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এলে ছয়জন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই দুইজন অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কুমুদিনী হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুইজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান বলেন, এঘটনায় আহত রবিন মিয়া, লিটন মিয়া, রানা আহমেদ, মেহেদী হাসানসহ ৪ জন কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে উপজেলার বহুরিয়া গ্রামের সুশান্ত রাজবংশী বেড় জাল দিয়ে মাছ মারতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু হয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, সুশান্তসহ ৮জন জেলে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মন্দিরাপাড়া বিলে বেড় জাল দিয়ে মাছ ধরতে যায়। এসময় বিলের ওপর বৈদুৎতিক খুটিতে সংস্পর্শ লেগে সুশান্ত পানিতে ডুবে যায়। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুই ঘন্টা চেষ্টার পর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এঘটনায় বিলের পানিতে পড়ে রতন, লিটন, গোলক, আশিক, প্রদীপ, লোকনাথ ও প্রকাশ রাজবংশী আহত হয়।
অপরদিকে শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের কাটরা লৌহজং নদীতে ভাসমান অবস্থায় জুলহাস মোল্লা নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন পুলিশ। পরে মরদেহটি টাঙ্গাইল সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক নাইমুল হক।
এছাড়া শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে গোড়াই ইউনিয়নের কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী (৬৫) বাড়ির পাশে খালে পাট জাগ দিতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, রুস্তম আলী সকালে বাড়ির পাশের খালে পাট জাগ দিতে যান। প্রথম দফায় এক বোঝা পাট জাগ দিয়ে দ্বিতীয়বার আবার আরেক বোঝা পাট জাগ দিতে গিয়ে ফিরে না আসায় বাড়ির লোকজন তাকে খুঁজতে বের হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়ে ডুবুরি দল গিয়ে ৪৫ মিনিট চেষ্টার পর তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
মির্জাপুর উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, ডুবুরি দল চেষ্টা চালিয়ে মন্দিরাপাড়া বিল ও কোদালিয়া খাল থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
মির্জাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, নিহতদের মরদেহগুলো আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর হবে। আহতদের চিকিৎসা চলছে।