স্পেনের 'লাকি চার্ম' ইয়ামাল গড়লেন অনন্য কীর্তি

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৬, ০১:১৬ পিএম

বিশ্বকাপের ফাইনাল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে স্পেনের ২-১ গোলের জয় কেবল তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপাই এনে দেয়নি, বরং বিশ্ব ফুটবলে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। আর সেই নতুন যুগের মহানায়ক ১৯ বছর বয়সী লামিন ইয়ামাল।

দুই বছর আগে ইউরো জয়ের পর এবার বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরে ইয়ামাল যেন মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ‘ফুটবল কমপ্লিট’ করে ফেলেছেন। একদিকে ৩৯ বছর বয়সী লিওনেল মেসির অশ্রুসজল বিদায়, অন্যদিকে ১৯ বছরের ইয়ামালের বিশ্বজয়—ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করল এক ঐতিহাসিক ব্যাটন বদল।

পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ইয়ামাল একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন। 

ইউরো ও বিশ্বকাপ জয়ের কনিষ্ঠতম রেকর্ড

মাত্র ১৯ বছর ৬ দিন বয়সে ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ফুটবলের দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক শিরোপা (উয়েফা ইউরো এবং ফিফা বিশ্বকাপ) জেতার অনন্য রেকর্ড গড়লেন ইয়ামাল।

পেলের পর ফাইনালের কনিষ্ঠতম বিজয়ী

১৯৫৮ সালে ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি পেলে, ১৯৮২ সালে ইতালির জুসেপ্পে বারগোমি এবং ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের পর ফুটবল ইতিহাসে মাত্র চতুর্থ ও পঞ্চম টিনএজার (কিশোর) হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা এবং জেতার কীর্তি গড়েছেন লামিনে ইয়ামাল ও তাঁর স্প্যানিশ সতীর্থ পাউ কুবারসি।

ছোটো ভাইকে নিয়ে লামিন ইয়ামাল

মেসি-রোনালদোকে পেছনে ফেলে কনিষ্ঠতম গোলদাতা

গ্রুপ পর্বে সৌদি আরবের বিপক্ষে গোল করে স্পেনের ইতিহাসের কনিষ্ঠতম বিশ্বকাপ গোলদাতা হন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সেই নিজের প্রথম বিশ্বকাপ গোল করে তিনি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পেছনে ফেলেন (যদিও সর্বকনিষ্ঠের রেকর্ডটি এখনো পেলের দখলে)।

টুর্নামেন্টের সেরা ড্রিবলার

বিশ্বের বাঘা বাঘা তারকাদের পেছনে ফেলে ২০২৬ বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ৩০টি সফল ড্রিবলিং করেছেন ইয়ামাল, যা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দিতে স্পেনের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল।

নকআউটে পেনাল্টি ও সেমিফাইনালের রেকর্ড

নকআউট পর্বে মাত্র ১৯ বছর ১ দিন বয়সে পেনাল্টি জিতেন তিনি। গত ৬০ বছরের ইতিহাসে ইংল্যান্ড কিংবদন্তি মাইকেল ওয়েনের (১৯৯৮ বিশ্বকাপ) পর এটিই কোনো টিনএজারের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম পেনাল্টি আদায়ের রেকর্ড।

ফুটবল ইতিহাসের মাত্র ৭ জন টিনএজারের মধ্যে ইয়ামাল ও কুবারসি অন্যতম, যাঁরা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছিলেন।

স্পেনের ‘লাকি চার্ম’: অপরাজেয় ইয়ামাল

লামিনে ইয়ামাল স্পেনের জাতীয় দলের জন্য এক পরম সৌভাগ্যের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। পরিসংখ্যান বলছে:

জাতীয় দলের হয়ে খেলা ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের একটিতেও হারেননি ইয়ামাল!

বড় টুর্নামেন্টে (ইউরো ও বিশ্বকাপ) যে ১৩টি ম্যাচে তিনি শুরুর একাদশে ছিলেন, তার সবকটিতেই জিতেছে স্পেন। ইউরোপীয় কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এটিই টানা ১০০% জয়ের দীর্ঘতম রেকর্ড।

'সে শুধু মাঠের চাপ সামলায়নি, বরং প্রতিপক্ষের আগ্রাসনের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯ বছর বয়সেই ও ফুটবলকে কমপ্লিট করে ফেলেছে', বলেছেন জো হার্ট, সাবেক ইংল্যান্ড গোলরক্ষক ও বিবিসি স্পোর্টস পণ্ডিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত