জামায়াত আমির বললেন

‘এই এলাম’ বলে শেখ হাসিনা ১৩ বার ফেল করেছেন

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৮:২০ এএম

‘এই এলাম’ বলে বলে শেখ হাসিনা ১৩ বার ফেল করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে পালানোর পর তিনি ‘এই এলাম’ বলে এসেছেন প্রতিনিয়ত। এভাবে তিনি ১৩ বার ফেল করেছেন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আসুন, যুবসমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়। তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে। এ সময় তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর-১০, ফলপট্টিসংলগ্ন এলাকায় ঢাকা মহানগরী উত্তরের মিরপুর জোন আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবিতে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও ডিএনসিসিতে জামায়াত মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান, মহানগরী উত্তরের নায়েবে  আমির আব্দুর রহমান মূসা, শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান, ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, মহানগরী পশ্চিম শিবির সভাপতি মুহিবুল্লাহ আল হোসাইনি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি শান্ত তালুকদার প্রমুখ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা বুকিংয়ের পর অনেকের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল হতাশা। কিন্তু আল্লাহতায়ালা তার রহমত থেকে হতাশ হতে নিষেধ করেছেন। এরপরই জুলাই দেশ ও জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসেছিল। মূলত জুলাই এসেছিল ঘূর্ণিঝড় হয়ে। বৈষম্যমুক্ত ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা; সর্বোপরি খুন, গুম,  হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘর থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই এসেছিল। আর এ ঝড়েই ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল। তাই সরকারকে জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে বলেন, শুধু বিচার নয়; বরং জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসা এবং তারা যাতে সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারেন সে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই। জুলাই শহীদদের দিতে হবে জাতীয় বীরের মর্যাদা। তাদের পরিবারে সদস্যদের প্রতিও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। কারণ জুলাই যোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি জুলাই শহীদদের নামে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কের নামকরণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। যাতে তাদের স্বজনরা তাদের জন্য গর্ববোধ করতে পারেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার এখন গণভোটের রায়কে অবৈধ বলছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী গণভোটে হ্যাঁ’র পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন। আমরাও করেছি। গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদ সবই অবৈধ। গোশত হালাল হলেও ঝোল হারাম হওয়ার সুযোগ নেই। তাই গণভোট হারাম হলে সরকারও হারাম। আর সরকার হারাম হলে দেশে কোনো বৈধ সরকার নেই।

তিনি সরকারকে টালবাহানা পরিহার করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। অন্যথায় এ জন্য তাদের চড়ামূল্য দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত