পাখিদের আত্মহত্যা

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৪ এএম

ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামের ডিমা হাসাও জেলার পাহাড়ঘেরা সুন্দর গ্রাম জাতিঙ্গা। একটা নির্দিষ্ট সময় এখানে এমন ঘটনা ঘটে, যা পৃথিবীর মানুষকে অবাক করে। সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসে জাতিঙ্গার আকাশ অদ্ভুত রূপ নেয়। কুয়াশা ঢাকা অমাবস্যার রাতে, আকাশ থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি মাটিতে পড়ে। পাখিগুলো খুব দ্রুতগতিতে উড়ে এসে ঘরের ছাদ, গাছপালা বা বাঁশঝাড়ে ধাক্কা খেয়ে নিচে পড়ে। মনে হয়, তারা চোখের দৃষ্টি বা ওড়ার দিক হারিয়ে ফেলেছে। ঘটনাটি পুরো গ্রামে ঘটে না। মাত্র দেড় কিলোমিটারের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পাখিগুলো পড়ে। তার বাইরে গ্রামের সবকিছু স্বাভাবিক। যে পাখিগুলো রাতে পড়ে, তারা নিশাচর নয়। কারণ এরমধ্যে মাছরাঙা, বক, ফিঙেসহ প্রায় ৪০টি প্রজাতির পাখি রয়েছে। যারা দিনের আলোয় চলাফেরা করে, তারাই এসবের শিকার। দেখা গেছে, বয়স্ক পাখির চেয়ে তুলনামূলকভাবে কমবয়সী পাখিরা বেশি পড়ে। ১৯৬০-এর দশকে বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে গবেষণা শুরু করেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এটি অলৌকিক কোনো ঘটনা বা পাখির ‘আত্মহত্যা’ নয়। আসলে এই সময় পাহাড়ে প্রচণ্ড কুয়াশা থাকে এবং জোরে বাতাস বয়। কম উচ্চতায় ওড়ার সময় পাখিরা কুয়াশার কারণে দিক হারিয়ে ফেলে। তখন গ্রামের ঘরবাড়ির উজ্জ্বল আলো দেখে, তারা সেদিকে আকৃষ্ট হয় এবং কুয়াশার মধ্যে দেয়াল বা গাছে ধাক্কা খেয়ে পড়ে। অনেকে মনে করেন, এই অঞ্চলের মাটির ভেতরের কোনো চৌম্বকীয় পরিবর্তনের কারণে, পাখিদের দিক চেনার ক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট হয়। ফলে এই ঘটনা। যদিও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান আসেনি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত