জামায়াত আমিরের হুঁশিয়ারি

ফ্যাসিবাদ কায়েম করলে জনগণ আপনাদেরও তাড়াবে

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম

সরকারের উদ্দেশে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যেমন জনগণ ক্ষমতা থেকে সরিয়েছে, তেমনি বর্তমান সরকারও ফ্যাসিবাদ কায়েম করলে জনগণ আপনাদেরও তাড়াবে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে যারা সরকার পরিচালনা করছেন, তারাও একসময় নির্যাতিত ছিলেন। কিন্তু এখন তারা সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গিয়ে আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থার পথেই হাঁটছেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দলীয়করণ ও দুর্নীতির বিস্তার ঘটছে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করব না। জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে বেইমানি করব না। ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে বেইমানি করব না।

গণভোটের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, পরিবর্তন ও সংস্কারের পক্ষে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ মত দিয়েছেন। সেই গণরায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে অসম্মান করা হবে। তিনি বলেন, আমরা গণভোটকে অপমান করতে দেব না। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না।

সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের পথ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে জনগণ তা মেনে নেবে না। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে জনগণ বিদায় করেছে। যদি আপনারাও ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, তাহলে জনগণ আপনাদেরও ছাড় দেবে না।

সিলেটবাসীর প্রতি আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সামনে আন্দোলনের ডাক আসবে। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দূর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের বহু ন্যায্য দাবি বছরের পর বছর ধরে ঝুলে আছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়নি। পাশাপাশি ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের কথাও তুলে ধরে তিনি দ্রুত সড়কটির কাজ শেষ করার দাবি জানান। তার ভাষায়, সমুদ্রের ঢেউ দেখতে বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, ঢাকা থেকে সিলেট এলেই তা বোঝা যায়।

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে রাজশাহী থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন ছিল সিলেটের এ সমাবেশ।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী, খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আমজাদুল ইসলাম চান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত