সেনাবাহিনীর অনুসন্ধান

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা: নগরীতে ৬ কারণে জমছে পানি

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০১:০৩ এএম

সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচটি এলাকায় সৃষ্টি হওয়া দীর্ঘস্থায়ী ও সাময়িক জলাবদ্ধতার পেছনে ৬টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

অননুমোদিত জলাধার ভরাট, খাল ও নালা দখল, সড়ক উঁচু না করা এবং ক্রস-কালভার্ট বন্ধ থাকার মতো অব্যবস্থাপনার কারণে মূলত এই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সেনাবাহিনীর এই প্রতিবেদনটি শিগগিরই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।

জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে প্রকল্পের পরিচালক ও ৩৪ নম্বর প্রকৌশল নির্মাণ ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী জানান, দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় ভোগা এলাকাগুলোতে টেকসই পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে। সেনাবাহিনী ও বিশেষজ্ঞ দলের অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতার ৬টি প্রধান কারণে উঠে এসেছে, আবাসন প্লটের নামে নিচু জমি, প্রাকৃতিক জলাভূমি ও ডোবা ভরাট করে ফেলা; নালার ওপর দোকানঘর, গুদাম ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ; ড্রেন নির্মাণ করা হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী মূল সড়ক উঁচু না করা; ব্যয় সংকোচনের অজুহাতে প্রকল্প থেকে পরিকল্পিত জলাধার বাদ দেওয়া; হালদা নদী রক্ষায় বিকল্প ব্যবস্থা না করেই খালের প্রবাহ আটকে দেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খাল সংস্কার না করায় নাব্যতা হ্রাস পাওয়া।

গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, যার সঙ্গে যুক্ত হয় জোয়ারের পানি। এতে কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, সিঅ্যান্ডবি মোহরা এবং কুয়াইশ এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সেনাবাহিনীর ১৬টি ‘কুইক রিয়্যাকশন’ (কিউআর) টিম ও চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ মাঠে কাজ করে।

আগাম প্রস্তুতি ও পাম্পিং কার্যক্রমের কারণে কাতালগঞ্জ ও কাপাসগোলায় বৃষ্টি থামার দেড় ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে গেলেও আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় রাস্তা নিচু থাকায় প্রায় একদিন দুই থেকে আড়াই ফুট পানি জমে ছিল। অন্যদিকে সিঅ্যান্ডবি মোহরা ও কুয়াইশ-অক্সিজেন এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয় প্রায় এক সপ্তাহ।

প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী জানান, অনন্যা আবাসিক এলাকা আগে প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে কাজ করলেও সেটি ভরাট হওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্প থেকে কয়েকটি পরিকল্পিত জলাধার বাদ দেওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে। পাম্প করে সাময়িক পানি সরানো হলেও বিকল্প জলাধার নির্মাণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। পরবর্তীতে সিঅ্যান্ডবি এলাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে ও সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি অপসারণ করা সম্ভব হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত