‘আমার কথা কইবে পাখি করুণ করুণ ভাষে
আমার দুঃখ রইবে লেখা শিশিরভেজা ঘাসে
আমার গান গাইবে দুঃখে পথ হারানো হাওয়া
আমার নাম বলবে মুখে মেঘের আসা যাওয়া
ইন্দ্রধনু লিখবে লিখন কেমন ভালোবাসে
দীঘল নদী করবে রোদন সমাধিটির পাশে।’
মৃত্যুর ২৫ বছর পরে আহমদ ছফার কবর মিরপুরের সাধারণ কবরস্থান থেকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্থানান্তর করা হলো এই সপ্তাহে। ছফা যেখানে শায়িত ছিলেন ও যেখানে নতুন করে শায়িত হলেন, তার খুব কাছেই শাহ আলী বাগদাদীর মাজার। একদা ওখানে একটি লোক সর্বদা ঘোরাফেরা করত। নাম তার আলি কেনান। আহমদ ছফার একজন আলি কেনানের উত্থান পতন উপন্যাসের প্রতিনায়ক।
আলি কেনানের বড় উপজীব্য ছিল মাজার। কেনান লক্ষ করেছিলেন যে বুজুর্গ ব্যক্তিদের কবর রাজনৈতিকভাবে বড়ই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ‘মাজারে শায়িত মহাপুরুষদের বংশধরদের মধ্যে মাজারের দখল নেওয়ার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা’ প্রায়ই রাষ্ট্র ও আদালতের দরবারে গড়াত। মৃতের মাজার নিয়ে জীবিতদের নানাবিধ দ্বন্দ্ব সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ মাজারে অকাতরে আসত, কারণ ‘স্বর্গবাসী পুরুষের মুক্ত চেতনার সঙ্গে পৃথিবীর শকুনিদের লোভ লালসা এক করে না দেখার আশ্চর্য ক্ষমতা মানুষের আছে।’
তার অনেকদিন পরে, ২০২৬ সালে শাহ আলীর মাজারে একদল লোক লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। তার অল্প কিছুদিন পরে ছফার কবর স্থানান্তরিত হলো। বিশ বছর আগে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের কবর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আনার পরে এটা সম্ভবত বাংলাদেশে বড় লক্ষণীয় কবর প্রতিস্থাপনের ঘটনা।
পাঠক, লক্ষ করবেন যে, আলি কেনান মজিদ নয়। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর লালসালুতে ধর্মতান্ত্রিক ক্ষমতার পরিগঠন উন্মোচন করার জন্য মাজারকে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ধর্ম সামাজিক ছলাকলার হাতিয়ার হয়েছে, যার বিপরীতে একটি আধুনিক ও যৌক্তিক সমাজের দিগন্ত টেলিওলজির মতো হাতছানি দেয়। অন্যদিকে আহমদ ছফার কেনানের গল্পে রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও রুহানি বা ধর্মতান্ত্রিক সার্বভৌমত্ব দুইটি পাশাপাশি বা মিলেঝুলে একাকার হয়ে যায়। আলি কেনানের কাহিনির মূল বিষয় পবিত্রতার ‘ছলাকলা’। সেই ছলাকলা একইসঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার ছলাকলারও মেছাল হয়ে ওঠে।
আলি কেনানের কাহিনিটা এক ভণ্ড ফকিরের ভণ্ডামির উন্মোচন নয়। ছফা ফকিরবিদ্বেষী ছিলেন না মোটেই। বরং নিজেকে ‘ফকির কিসিমের লোক’ মনে করতেন, লিখেছেন নুরুল আনোয়ার। ছফার পূর্বপুরুষ ছিলেন আজিজ ফকির, যিনি বনে-পাহাড়ে সাধনা করতেন। বাঘ তার বশ ছিল, এমন কথা জনশ্রুতিতে আছে। আজিজ ফকিরের ওরসও নাকি ওই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয় বলেছেন নুরুল। ছফার অবশ্য ওরস হয় না। ছফা নিজের মরণোত্তর ইষ্টক্রিয়া বলতে তার লেখার দিকেই নজর ফেরাতে বলেছিলেন : ‘আজ থেকে যদি দশ বছর, বিশ বছর, একশ পঞ্চাশ বছর বাদে, আমার মৃত্যুর পরে কোনো প্যাশনেট তরুণ যদি আমার কাজের মধ্যে কোনো একটা অর্থ খুঁজতে চেষ্টা করে, তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করা উচিত।’
ছফার কাছে মনুষ্য জীবন নিজেই পবিত্র—শস্য কিংবা স্বপ্ন যে রূপেই মানুষ সাধনা করুক না কেন। কে বা বুদ্ধিজীবী, কে বা পীর আর কে বা চাষা? যিনি হোমো ফাবের তিনিই হোমো সাপিয়েন্স।
‘অঙ্গুলি নির্দেশে দেখিয়ে দাও সেই সব পবিত্র স্থান
যেখানে মনুষ্য জীবন জন্ম নিয়েছে বুনো আগাছার মতো
কর্মিষ্ঠ কৃষক শস্যক্ষেত্রে
সোনালি ধানের মঞ্জরিতে ফলবান করেছে জীবনস্বপ্ন
এবং কানে কানে বলো—
এইখানে তোমার জন্ম, এইখানে তোমার বিলয়
এই তোমার পৃথিবী, এই তোমার স্বর্গ’
তো কেনানের কাহিনি ফকিরির ভণ্ডামির গল্প নয় বরং রাজনৈতিক রুহানিয়াতের গঠন ও ছলাকলার কাহিনি। ছফা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদ্মানদীর মাঝির হোসেন মিয়া চরিত্রটিকে একটি ইউটোপীয় চরিত্র আকারে পাঠ করেছিলেন। হোসেন মিয়া কিংবা মজিদ দুইটা চরিত্রই ছফার বন্ধু ও সমালোচক ফরহাদ মজহারের ভাষায় ‘গঠন’ করার কাজে লিপ্ত অর্থাৎ তারা নানা তৎপরতা ও ছলাকলার মধ্য দিয়ে সমাজের সঞ্চয়ন ও প্রযত্ন [কিউরেশন] করে। ছফা এই কাহিনিগুলোকে রাজনৈতিক রূপকালেখ্য [এলিগরি] আকারে পাঠ করেছেন। ছফার আলি কেনানের কাহিনিতে এই রূপক চরিত্র আরও স্পষ্ট। বাঙালি মুসলমান সমাজের ভদ্রলোক শ্রেণির রাষ্ট্রগঠনের ব্যর্থতার যে সাবজেক্টিভ ক্রিটিক ছফা ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ লেখাটিতে করেছেন, সেটারই ফিকশনালাইজেশন পাওয়া যায় আলী কেনানের কাহিনিতে।
মাজার-উপজীবী আলি কেনান কী ‘গঠন’ করে?
আধা-উত্তর-উপনিবেশি আর আধা-উপনিবেশি যে পাকিস্তান রাষ্ট্র, তাতে ক্ষমতা ও জনতার যে মস্ত ফাঁক, সেই ফাঁকে প্রথম আলি কেনানের আবির্ভাব ঘটে। পাকশাহীর স্থানীয় প্রশাসক মোনেম খাঁ দেশ সফরে বের হয়ে গ্রামবাংলার জনতার ধাওয়া খায়। পুলিশ নামক দমনযন্ত্রও তাকে রক্ষা করতে পারে না। প্রায় গণঅভ্যুত্থানের মতো ব্যাপার-স্যাপার। এই বিপন্ন মুহূর্তে গভর্নর সাহেবকে রক্ষা করতে আবির্ভূত হয় তরুণ প্রজন্ম। আলি কেনান নামক এক সাবল্টার্ন বংশোদ্ভূত যুবক। জনসম্মতিহীন উত্তর-ঔপনিবেশিক ক্ষমতাকাঠামোর যে নাজুক সার্বভৌমত্ব, সেই কাঠামোর সঙ্গে সমাজের মধ্যস্থতা করতে কেনানকে বগলদাবা করে ঢাকায় নিয়ে আসেন মোনেম খাঁ। এভাবেই ঢাকা শহরে ‘সাবল্টার্ন’ কেনানের আবির্ভাব।
তবে ক্ষমতার দালালি বড় নাজুক ব্যবসা। মোনেম খাঁ নিজেই বাইরের প্রভুর অনুগ্রহ-আশ্রিত। নিজেই নাজুক, সেখানে কেনানের নাজুকতা তো বলাই বাহুল্য। আলি কেনান ক্ষমতার জনসংযোগ কর্মকর্তা বা বিজ্ঞাপন সংস্থা হিসাবে দ্রুতই বিপদ পাকিয়ে ফেলে। মোনেম খাঁর উষ্টা খেয়ে সে ঢাকার জনারণ্যে নিক্ষিপ্ত হয়। কিন্তু তাতে সে দমে যাওয়ার পাত্র নয়। খুব শিগগিরই একটা কবর কব্জা করে কামব্যাক করে সে। মাজারে জাঁকিয়ে বসে। জীবন্ত প্রভুকে নিয়ে ব্যবসা করা কঠিন, কিন্তু মৃত বুজুর্গকে নিয়ে জনসংযোগে ঝুঁকি অপেক্ষাকৃত কম। মৃতকে আশ্রয় করে জনসম্মতি উৎপাদনের কলাকৌশলই কেনানের পাথেয় হয়ে ওঠে।
কবর জবর দখল করে আলি কেনান হয়ে ওঠে মানুষের ‘বাবা’। কবরে শায়িত পীর যদি বাবা হয়, তাহলে পীরের মাজারের খাদেম হিসাবে কেনানও এক সাধিত বাবা। বাবা হতে বেশি একটা বেগ পেতে হয় না তার। দাবি করলেই চলে। টাকাও দাবি করলে পাওয়া যায়। বাবা সেজে হাত বাড়ালেই মানুষ টাকা দিতে রাজি। ক্রমে ছলাকলায় তুখোড় হয়ে ওঠে কেনান। সে সাজে গরম দরবেশ, মানে যে দরবেশের ভেতর জালালি বেশি, মাধুরী বা জামালি কম। ছলাকলার জন্য সে পবিত্রতার নানা চিহ্ন ও কলকব্জা [সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার অব স্যাংক্টিটি] নিয়ে কাটুমকুটুম [লেবিস্ত্রসের ভাষায় ব্রিকোলাজ] শুরু করে। রংকরা ঘণ্টা পরা কুকুর ও ভেড়া চরানো শুরু করে, বাছাবাছা শিষ্যসামন্ত সংগ্রহ করে, গল্প ও গানের ঝুলি রচনা করে, ভিক্ষা ও ওরসের দাতা-চিহ্নিতকরণ করে, তাবিজদাতা ওহাবিকে নিজ দলে ভেড়ায়। এভাবে নানা জায়গা থেকে নানা কিছু সংগ্রহ করে জাঁকিয়ে বসে সে। রাজনৈতিক-চিহ্নতান্ত্রিক নানা চিহ্ন কুড়িয়ে-বাড়িয়ে পল্লবগ্রাহিতা করে আস্ত এক বাবা হয়ে বসে।
জীবিত ও মৃতের মধ্যস্থ সেজে কেনান হয়ে ওঠে এক মোলায়েম বুজরুক।
কিন্তু রাষ্ট্র নিয়ে ফিকশন লিখতে ছফা কেন মাজারের গল্প ফাঁদলেন? এমনিতেও বাঙালি মুসলমানের ইতিহাসে মাজার বড়ই গুরুতর জিনিস। রিচার্ড ইটন বা অসীম রায়ের আলোচনায় দেখা যায় কীভাবে অনেক গয়ের-সুফিকেও মরণের পরে বা লোককল্পনায় পীর হিসাবে লোকে কল্পনা করেছে। মৃত পবিত্র সত্তা সমাজের গঠনে গুরুতর ভূমিকা পালন করেছে। ইটনের আলোচনায় পাচ্ছি যে রাজনৈতিক বা সামাজিক-অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা শক্তি কীভাবে পটে জনসাধারণের স্মৃতি, ভক্তি ও সামাজিকতার কলকব্জা হয়ে ওঠে। পবিত্রতার কলকব্জার প্রযত্ন কেবল আধ্যাত্মিক বুজরুকরাই করে না, বরং রাজনৈতিক বুজুর্গরাও সার্বভৌম ক্ষমতার চিহ্নতন্ত্রের সঞ্চয়ন একই কায়দায় করে থাকে।
ক্ষমতা ও জনতার মধ্যে জবরদস্তির সম্পর্ক না সম্মতি/রাজিখুশির সম্পর্ক থাকবে, সেই ফাঁকতালে আলি কেনানের অধিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধের প্রবল জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে উত্তর-উপনিবেশি বাংলাদেশ রাষ্ট্র কায়েম হয়, কী আশ্চর্য, সেখানেও জনসম্মতি দ্রুতই আধিপত্যের সম্পর্কে দানা বাঁধে। ফলে আলি কেনানের প্রাসঙ্গিকতা ফুরায় না। যে ছিল মোনেম খাঁর জনসংযোগ, সে হয়ে ওঠে জয়বাংলার পীর।
উত্তর-উপনিবেশি সমাজেও রাজনৈতিক পবিত্রের ধারণাটি কেন্দ্রীয়। শহীদ ধারণাটি সেই রাজনৈতিক আনক্যানিকে ধারণ করে যাকে ছাড়া উত্তর-উপনিবেশি রাষ্ট্রের গঠন করা মুশকিল। শহীদরা অমর। শহীদরা সাক্ষী। মরেও তারা বেঁচে আছেন। তাকিয়ে আছেন। তাদের গায়েবি দৃষ্টি জীবিতদের যাপনকাঠামোর ভেতর এক নিত্য অস্থিতি, গহন ক্ষত। না-মেটানো বাসনার ক্ষত। রাষ্ট্র বিচার, স্বীকৃতি ও আনুষ্ঠানিকতার দ্বারা শহীদি ক্ষতকে মোচন করার প্রয়াস করে। শহীদকে দরকার হয় রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রমাত্রই নেক্রোপলিস। কিন্তু শহীদকে ধারণ-মোচন করা যায় না বলেই তার নির্ঘুম চোখ চেয়ে থাকে। শহীদ মানে স্রেফ জুলুমে নিহত নয়। শহীদ মানে এই দুর্মর নির্ঘুম চোখের নিত্য ক্ষতের অস্থিতি। শহীদের স্মরণ রাষ্ট্রের পত্তনি দায়। কিন্তু জমানা বদলের পরে শহীদকে স্মরণ কেমন? যুগ বদলায়। শহীদি অমর রহে।
কিন্তু শহীদকে নিয়ে মাজার বসে। ক্ষমতা ও পবিত্রতা। বুজরুকি ও হেজেমনি। এই লক্ষণ বাঙালি মুসলমানের ইতিহাসের প্রাতিস্বিক নয়। রাজনৈতিক শক্তি কীভাবে পবিত্রতার কলকব্জা দিয়ে ছলাকলা করে, ছফা এর এক উদাহরণ আকারে সোভিয়েত রাশিয়ায় লেনিনের মাজারেরও উল্লেখ করেছেন।
ছফার কাছে কমিউনিজম কী ছিল? ছোটবয়সে বাপের সঙ্গেই ছফা কমিউনিস্ট পার্টির অনুষ্ঠানে যাওয়া শুরু করেন। ষাটের দশকে তিনি কমিউনিস্ট পার্টি করতেন। পরে জাসদ হয়ে তার পথ আরও বিস্তৃত হলেও, মানুষের মুক্তির প্রকল্পে তার আস্থা ছিল। কিন্তু একইসঙ্গে তিনি ভাবাদর্শের মোহমায়া মানুষের ওপর আস্ত চাপিয়ে দেওয়া যে গোলমেলে, সেই হুঁশও রাখতেন।
‘সোভিয়েতের আজব খবর
যাদুর ঘোড়ায় নবীন চীন
সাক্ষী তুমি শুনছে তারা
ভাবছে এলো নতুন দিন।
এমনি করে, এমনি করে
দিনের পরে দিন গিয়েছে
নতুন কথার প্রেমে পড়ে
গাঁয়ের কিষাণ মার খেয়েছে।’
ক্ষমতা কীভাবে জনতার মধ্যে সম্মতি উৎপাদন করে, সেখানে পবিত্রের ধারণাকে বুঝতে ১৯৯৯ সালে প্রকাশিত ছফার ‘লেনিন ঘুমোবে এবার’ কবিতাটি আলি কেনানের আলোচনার অপর পিঠ। এই কবিতা শাহ আলীর মাজার নিয়ে নয়, ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিনের মমিকৃত দেহ নিয়ে।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো যে, ইউরোপীয় চিন্তায় জীবিত ও মৃতের দ্বিভাজনটি বেশ গুরুত্ব রাখে। কার্তেসীয় দর্শনে রুহ-দেহের বিভাজন এবং আধুনিক বিজ্ঞানবাদে প্রকৃতি বনাম সংস্কৃতির বিভাজনের ধারাতেই জীবিত ও মৃতের দ্বিভাজনের এই গুরুত্ব। হেগেলীয় চিন্তায়, জর্জ বাতাই যেমন বলেছেন, মানুষ নিজের ভেতর মৃত্যুকে ধারণ করে বলেই সে পশু না হয়ে মানুষ। খোদ মার্কসবাদেও জীবিত ও মৃতের সম্পর্ক গভীর। পুঁজি মূলত মৃত শ্রমের ঘনীভূত, দ্রবীভূত, সঞ্চয়িত রূপ, যা জীবিত শ্রম ও শ্রমিকের ঘাড়ে বসে রাজত্ব করে। মার্কসের অন্যতম গরজ জ্যান্ত শ্রমিককে পুঞ্জীভবনের গ্রাস থেকে মুক্ত করা। এই প্রকল্প রাজনৈতিক হয়ে ওঠে লেনিনের হাতে, যিনি মার্কসবাদকে রাষ্ট্র কায়েমের লড়াইয়ে অনুবাদ করেন।
লেনিনকে ছফা জানতেন জীবিত মানুষের মুক্তির পয়গামবাহী হিসাবে। ছফাকে লেনিনের যে কথাটি প্রথম উত্তেজিত করেছিল সেটি গ্যোতের একটি উক্তি, ‘Theory, my friend, is grey, but green is the eternal tree of life’। আদতে, জারতান্ত্রিক রাশিয়ায় গণতান্ত্রিক বিপ্লবের কথা বলতে গিয়ে লেনিন জোর দিয়ে বলেছিলেন যে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এই বর্তমানের জীবিত মানুষের লড়াই, কোনো জীবাশ্মীভূত মমির চিরকেলে সত্যের আলাপ নয়। অর্থাৎ জীবিত মানুষের গরজ থেকে তত্ত্বকে ভেঙেচুরে ভিন্ন করে নেওয়া ছিল মানুষের ইতিহাসে লেনিনের বড় হস্তক্ষেপ।
কিন্তু লেনিনের হাতে যে সোভিয়েত রাষ্ট্রের জন্ম হলো, সেখানে লেনিনের মাজার এক গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রবস্তু হয়ে উঠল। লেনিন মরণের পরে পিটার্সবারগে নিজ মা-ভাইয়ের পাশে সমাধিস্থ হওয়ার ইচ্ছা পুষেছিলেন। কিন্তু ১৯২৪ সালে লেনিনের মরণ হলে, জোসেফ স্তালিন অন্য নেতাদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে লেনিনের লাশটিকে একটি মমিতে পরিণত করেন। মমীকৃত লেনিনের কবর নবীন সোভিয়েত রাষ্ট্রের রাজনৈতিক মাজারে পরিণত হলো। রাষ্ট্রের মহান নায়কদের শাশ্বত রাজনৈতিক মাজার বা নেক্রোপলিস তৈরির সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ পাওয়া যায় ইহজাগতিক রাষ্ট্রকল্পের ফরাশি বিপ্লবের পরে।
ছফার কবিতাটি স্তালিনের হাতে লেনিনের মরদেহকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মাজার নির্মাণের আখ্যানকে আশ্রয় করেই রচিত। কবিতাটিতে যে কূটনীতি, তার একদিকে আছে মা, আরেকদিকে বাবা-তন্ত্র বা রাষ্ট্র। লেনিনের মরণশীল সত্তা রাষ্ট্রের হেফাজতে ন্যস্ত, কিন্তু লেনিন তো মাতৃগর্ভ-সম্ভূত সত্তা। ছফার লেনিন হলেন মায়ের পুত নশ্বর, শরীরী, দুনিয়াবি সত্তা। দুনিয়ার বাপেরা তো বীর্যস্খলন করে খালাস। মায়ের শরীর জাতককে দেয় রক্ত-মাংস ও ভ্রূণরূপে বিকাশের আশ্রয়। মাটির কবরের মতোই মায়ের গর্ভ সস্নেহ, রহম-পূর্ণ। ছফা লিখেছেন:
‘লেনিন ঘুমোতে চায়
লেনিন ধূলির শিশু ভূমিশয্যা বড় ভালোবাসে
সিমেট্রির গভীর থেকে জননীর ডাক ভেসে আসে
আয় জাদু ফিরে আয়। ডেকে ডেকে ভাইটি অস্থির;
মা ও ভায়ের মাঝে ভাইজান পেতে দাও নশ্বর শরীর।’
আহমদ ছফা লেনিনকে মায়ের পুত বানাতে গেলেন কেন? মহাপুরুষেরা পুরুষ বটেন, পুরুষতন্ত্রের নায়কও বটেন, কিন্তু তারাও মায়ের পুত। গৌতম বুদ্ধের মতো, যার নাম তার পালিকা মা গৌতমীর নামে রাখা হয়েছিল বলে শোনা যায়।
অন্যদিকে জোসেফ স্তালিনের গরজ হলো নবীন ও নাজুক সার্বভৌম সোভিয়েত রাষ্ট্রটিকে কায়েম-দায়েম করা। এমন এক রাষ্ট্র, যা সারা দুনিয়ায় রুহানি নেতৃত্ব দেবে। তাই স্তালিন মায়ের পুত লেনিনের নশ্বর দেহটিকে এক অবিনশ্বর ডিউটিতে নিয়োজিত করলেন। যেখানে সবাই জিয়ারত করতে আসবে।
‘জেগে জেগে লেনিনের দুচোখে ভ্রূকুটি
রাত নেই দিন নেই একঘেয়ে অক্লান্ত ডিউটি।’
স্তালিন এক বক্তৃতায় বলেন, লেনিনের মহত্ত্ব এই যে তিনি দুনিয়ার শ্রমজীবীকে এই তালিম দিয়ে গেছেন যে শ্রমিকের রাজ বেহেশতে নয় বরং এই দুনিয়াতেই কায়েম করতে হবে। তিনি তাই তামাম দুনিয়ার শ্রমিক-কৃষকের পরানে মুক্তির তামান্না জাগ্রত করেছেন। কিন্তু স্তালিন এই পরানের তালিম ও তামান্নাই যথেষ্ট মনে করেননি। লেনিনের দেহী মূর্তিটিকেও সাক্ষীগোপাল বানিয়ে রাখা চাই। স্তালিন বড়াই করে বলেন, দেখেছ তো হাজার হাজার শ্রমজীবী লোক লেনিনের লাশ জিয়ারত করতে আসছে। অচিরেই দেখবে নিযুত নিযুত শ্রমজীবী মানুষের প্রতিনিধি তার দরগা জিয়ারত করতে আসবে সারা দুনিয়া থেকে। সারা দুনিয়ার এই প্রতিনিধিরা সাক্ষ্য দেবে যে, লেনিনই তামাম দুনিয়ার সর্বহারার নেতা।
এভাবে কমরেড স্তালিন সোভিয়েত রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিপ্লবের একটি সুতা হিসেবে চিহ্নিত করে, লেনিনের লাশ জিয়ারতের আমানতি ও রিচুয়াল মূল্য তুলে ধরেন। দরগা, জিয়ারত, সাক্ষ্য [শাহাদাত] এসব আচারিক ও পবিত্রকরণমূলক কাজ রাজনীতির পরিসরে কলকব্জা হয়ে ওঠে।
লেনিনবাদের সমালোচক পল ম্যাটিক ১৯৩৩ সালে ‘দ্য লেনিন লিজেন্ড’ প্রবন্ধে লেনিনের মাজারের রহস্যমূল্য সম্পর্কে লিখেছেন:
‘লেনিনের মমির চামড়া যতই হলদেটে ও পোস্তাটে হয়ে উঠছে আর জিয়ারতকারীর পরিসংখ্যান হুড়হুড় করে বাড়ছে, ততই লোকে বাস্তব লেনিন ও তার ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে বেগরজ হয়ে পড়ছে। তার স্মরণে একের পর এক মনুমেন্ট উঠছে, বই আর ছবি হচ্ছে তাকে কেন্দ্র করে।... মস্কোর লেনিন ইনস্টিটিউট তার রচনাসমগ্র প্রকাশ করেছে বটে, কিন্তু সেসব তার নামে প্রচারিত নানা কল্পকাহিনির অনুষঙ্গ বাদে আর কিছু হতে পারছে না। ... রাশিয়ার অনেক চাষার কাছে এই নতুন ‘ছোট জার’ মরেন নাই, জিন্দাপীরের মতো চিরকাল তিনি ফয়তা-উচ্ছুগ্যু আদায় করে চলেছেন। অনেকে তার মাজারে মোমবাতি জ্বালান, তার কাছে দোয়া করলে নাজাত মেলে।... আর এদিকে দুনিয়ায় চাউর হচ্ছে একমাত্র লেনিনের আশ্চর্য মেধার কারণেই রুশ বিপ্লব সফল হয়েছে।’
রাষ্ট্রের বনিয়াদে যে ক্ষমতার জবানি থাকে সেটাই তার অফিশিয়াল রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব। তবে জনতাও সেই ধর্মতত্ত্বে অংশ নিলেই সেটা হেজেমনিক আকারে কায়েম হয়। রাষ্ট্রের প্রযোজিত রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব কীভাবে মাজারকে কেন্দ্র করে জনজীবনে পোষিত হলো, তা ম্যাটিক দেখিয়েছেন।
ছফা কঠিন তীক্ষ্ণ ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে কশাঘাত করে বলেছেন, আধুনিক ফারাও লেনিনকে সং আকারে নিযুক্ত করেছেন।
‘দোর্দণ্ড পাশব ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষায় প্রভু হতে চায়
লেনিন বইবে কেন সেই সব ক্রূরকর্মা ঠগীদের দায়
কেন লেনিনকে সাজতে হবে আধুনিক ফারাওর সঙ
বুকে পিটে পাথর ইস্পাত বর্ম এবং এবং।’
রাষ্ট্রচিহ্ন ও ক্ষমতার ঠেকনা হওয়ার অক্লান্ত ডিউটি দিতে দিতে মায়ের পুত নশ্বর লেনিনের ক্লান্তি আসে। মমীভূত লেনিনের সাধ হয় ঘুমাবার বা মরিবার। ‘লেনিন ঘুমাবে এবার’। জীবনানন্দের ‘আট বছর আগের একদিন’ কবিতার নায়কেরও নাকি মরিবার হয়েছিল সাধ।
ভাষা মানুষকে অমর করে, আবার ভাষার ভেতরেই মানুষ মৃত্যুর জ্ঞান ধরে, মৃত্যুর সাধও ধারণ করে। মানুষ নিজের জন্তু বা প্রাণী সত্তারও সন্ধান করতে পারে বটে। জীবনানন্দের প্রতি সেলাম ঠুকে ছফা আট বছর আগের একদিনের প্যাঁচা ও ইঁদুরদের ধার করে এনে লিখেছেন :
‘প্যাঁচা আর ইঁদুরেরা যেই পথে যাওয়া আসা করে,
লেনিনও পালাতে চায় সেই পথ ধরে।
কঠিন ইস্পাত ভল্ট নড়ে ওঠে,
আকাঙ্ক্ষার তীব্র তাপে ফেটে যেতে চায়
নিস্পন্দ পাষাণ মমি থরথর কাঁপে।
নিশ্চল সান্ত্রীর দল আগ্নেয়াস্ত্র হাতে হাঁকে হুঁশিয়ার
থিরে রহ—খাড়া হয়ে ইস্পাত জঠরে,...
ভুলভ্রান্তি মেনে নিয়ে লেনিন জানাতে চায় সহজ ভাষায়
বিপ্লবের লাল স্বপ্ন—তার মৃত্যু নাই।’
ছফার লেনিন মুক্তিকামী আমমানুষের পরানের তামান্না আকারে ফিরতে চান। তিনি ওই দায়েমি রাষ্ট্রের সিমেট্রির ইস্পাতের আগারে মমীভূত জিন্দা পীরবাবা, বাকা-বাবা হয়ে থাকতে চান না আর।
লেনিনের ফানা হওয়া প্রসঙ্গে ছফা গৌতমীপুত্রের জবান থেকে নিয়ে ‘পরিনির্বাণ’, পুনর্জন্ম, সহজ ও বোধিসত্ত্বের ধারণা আমল করেছেন। এর দ্বারা ছফা ইউরোপীয় জিন্দা-মরার পরম দ্বিভাজনের খোলস ভেঙেছেন। ছফার মতে, ফানা হওয়া বা নিভে যাওয়াও হতে পারে সার্থকতা। মৃত্যুতে নিভে যাওয়াই হতে পারে অন্যভাবে ফিরে আসার শর্ত। জন্ম-জন্মান্তরে অপরকে মুক্তির ওয়াদা নিয়ে বোধিসত্ত্ব ফিরে আসে বারবার। ছফার এসব রূপক সহি দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদী চিন্তাও নয় আবার বিশুদ্ধ বৌদ্ধ চিন্তাও নয়। বরং ওইসব চিন্তার একধরনের পুনঃসৃজন—মায়ের সন্তান, মাটির মানুষকে কেন্দ্রে রেখে।
‘কোটাল স্রোতের মতো পরিনির্বাণের বেগ অন্তরে ঘনায়
লেনিন মানুষের ইতিহাসে মানুষের শিশু হতে চায়
তার আগে শুধু একবার মা ও ভায়ের পাশে
বিছায়ে শরীর—পেতে চায় মানবিক উত্তাপের স্বাদ
লেনিন ঘুমাবে এবার।’
পুনশ্চ তিনি লেখেন:
‘লেনিন সঠিক জানে মানবিক সম্ভাবনার
অনন্য সম্ভবা বীজ শক্তির ভাণ্ডার তিনি,
মাটিই গন্তব্য তার। মাটির সে উর্বরতা আছে,
নবজন্মে ঝলসে তোলা শুভ্রবুদ্ধ নবীন মানুষ। [...]
সর্বাঙ্গীণ বিপ্লবের বোধিসত্ত্ব হয়ে লেনিন জন্মাতে চায় আরও একবার।
তাই তুষারের ফাঁকে ফাঁকে পথ চিনে চিনে
লেনিন পালাতে চায় মাটির গহিনে।
জননী ডেকেছে তাকে ভাই পাশে চায়
লম্বা ঘুম দিতে হবে পৃথিবীর পুণ্য মৃত্তিকায়
লেনিন ঘুমাবে এবার।’
মুক্তিযুদ্ধকে নিছক বাঙালির মুক্তি অথবা জুলাইকে বাঙালি মুসলমানের মুক্তি আকারে যারা দেখেছেন তারা ছফা-কথিত মুমুক্ষু মানুষের বোধিসত্ত্ব ভাবকে উপেক্ষা করেছেন। অপরকে মুক্ত করেই মানুষ নিজেকে মুক্ত করতে পারে। মহাঘটনাকে পরিচয়বাদী প্রভুত্ব অর্জনের বাসনা আকারে দেখা বিপদের জন্ম দেয়।
রাষ্ট্রের সঙ্গে মাজারের সম্পর্ক কী তাহলে? রাষ্ট্রের প্রয়োজনে নাপলিয়ন বা লেনিন মরণোত্তরকালে নতুন গণদেবতা, রাজনৈতিক আউলিয়া হয়ে উঠেছিলেন। ফরাশি বিপ্লব বা রুশ বিপ্লবে রাষ্ট্র ও মাজারের যে সংশ্লেষ, সেটা আলি কেনানের বেলায়ও দেখা যায়। আলি কেনানের বাগানো মাজার সরাসরি রাজনীতির ক্ষেত্রে লগ্নিকৃত হয়। শেখ মুজিবুর রহমান যখন পূর্ব বাংলার প্রধান রাজনৈতিক নেতা হন, তখন উপন্যাসের আলি কেনান নিজেকে জয় বাংলার পীর বলে মনে করতে থাকে। বাঙালিদের প্রতি প্রবল বীতশ্রদ্ধা থাকলেও, জনসাধারণের মুক্তিসংগ্রামের প্রবল তোড়ে, অনেকটা ইতিহাসের বুদবুদ কিংবা সন্তানের মতোই সে ও তার শিষ্যরাও গলা মেলায়। তারপর উনিশশ পঁচাত্তরে শেখ মুজিব নিহত হওয়ার পর আলি কেনান আবার গা-ঢাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাষ্ট্র, ক্ষমতা, আধিপত্য ও হেজেমনির অনেক ঊর্ধ্বে তবু থেকে যেত মাটিতে শায়িত মৃতের এলাকা। পবিত্র-অপবিত্রের ঊর্ধ্বে ওঠে সবাইকে আশ্রয় দেওয়াই তার কাজ। আলি কেনান শাহ আলীর মাজারে নানা কিসিমের লোক দেখত। ‘ওদের কেউ স্বভাব ভিখিরি। কেউ মস্তান, লুচ্চা, বদমায়েশ [...]। মাজারে অবস্থান করে এমন দু-তিনটা জাত খানকির সঙ্গেও তার চেনাজানা হয়েছে। এখানে সংসার বিরাগী স্বর্গ পাগল মানুষ সে দেখেছে। দেখেছে ধর্মপ্রাণ মানুষ। ধর্মকর্মের ধার ধারে না মেয়ে মানুষ নিয়ে অবৈধ ব্যবসা চালায়, তেমন মানুষও মাজারে থাকে। কেউ আপত্তি করে না। অন্ধ নুলা বোবা খঞ্জ পাপীতাপী সবাইকে মাজার সমান স্নেহে আদরে লালন করে। মাজারের ছায়া অনেক দূর প্রসারিত। এখানে সবাই আশ্রয় পায়।’ ক্ষমতার পবিত্রায়ন ও শাসনের প্রকল্পের বাইরে, সাধারণ ও বুজুর্গের হিসাবের বাইরে রয়ে যায় ভালোবাসার এক এলাকা।
‘ভালোবাসা অন্তঃস্থ স্রোতের বেগে পথ কেটে চলে
ফুটন্ত উত্থানমন্ত্র জেগে রয় মানুষের প্রাণের অতলে।’
প্রচ্ছদ রচনা
অমৃত ও মৃত : রাষ্ট্র ও মাজার
বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আহমদ ছফার কবর স্থানান্তরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে লেখক দেখেছেন রাষ্ট্র, স্মৃতি ও ক্ষমতার জটিল সম্পর্কের এক প্রতীকী প্রকাশ হিসেবে। সেই সূত্রে ফিরে দেখা হয়েছে ছফার সাহিত্যজগৎ—বিশেষ করে তার উপন্যাস একজন আলী কেনানের উত্থান পতন এবং দুটি কবিতা ‘লেনিন ঘুমোবে এবার’ ও ‘প্রবীণ বটের কাছে প্রার্থনা’। মাজার, কবর, শহীদ, রাষ্ট্র ও মানুষের স্মৃতিকে ঘিরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক নির্মাণকে ছফার রচনা কীভাবে প্রশ্ন করে, সেই অনুসন্ধানই এই লেখার মূল সুর
তাহমিদাল জামি
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:২২ এএম
আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫২ এএম
গ্রাফিক্স : দেশ রূপান্তর
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০