‘ক্রসফায়ারে’ কাউন্সিলর একরাম হত্যা

শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ

আপডেট : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফে ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তৎকালীন সরকারের মাদকবিরোধী অভিযানের নামে ঘটা এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১১ জনকে অভিযুক্ত করে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনটি আদালতের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে দীর্ঘ ৬ বছর পর এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া এক নতুন মোড় নিল।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় র‍্যাবের তথাকথিত ‌‘বন্দুকযুদ্ধে’ টেকনাফ পৌরসভার তিনবারের কাউন্সিলর ও সাবেক যুবলীগ নেতা একরামুল হক নিহত হন। শুরু থেকেই এই ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিল তার পরিবার।

হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন পর এক সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী আয়েশা বেগম পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেন। সেই সঙ্গে তিনি সেদিনের অভিযানের সময় মোবাইলে রেকর্ড হওয়া বেশ কিছু গা শিউরে ওঠা অডিও ক্লিপ সাংবাদিকদের সামনে প্রকাশ করেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই অডিও রেকর্ডে স্পষ্টভাবে বন্দুকের ট্রিগার টানার শব্দ, তার পরপরই একাধিক গুলির শব্দ এবং একপর্যায়ে এক ব্যক্তির গোঙানির করুণ আর্তনাদ শোনা যায়। রক্ত হিম করা সেই অডিও ক্লিপগুলো প্রকাশ্যে আসার পর সারা দেশে তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দার ঝড় উঠেছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত