চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) জমা দেওয়া ওই লিখিত অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার সন্দ্বীপ থানার মগধরা গ্রামের সন্তান ও বর্তমানে বনানীর বাসিন্দা লিয়াকত আলী খান ২০১৫-২০১৬ সালে ডিএফপির মহাপরিচালক থাকাকালে ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার ও রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। তিনি পত্রিকার ছাড়পত্র ও মিডিয়া ভুক্তির বিনিময়ে অসাধু উপায়ে নগদ অর্থ গ্রহণ করতেন। এমনকি ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন না করলেও টাকার বিনিময়ে পত্রিকার বিজ্ঞাপন রেট বাড়িয়ে দিতেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ডিএফপির মহাপরিচালক থাকাকালে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং সরকারি কোষাগারের টাকায় দলীয় প্রকাশনা তৈরি করেছেন। এসব দুর্নীতির অর্থে তিনি রাজধানীর উত্তরা ও বনানীতে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন এবং স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য আমেরিকায় স্থায়ী নিবাস গড়ে তুলেছেন। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম কাভারেজের জন্য এক সেট ডিজিটাল ক্যামেরা আনতে জার্মানি যান তিনি, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
সংবাদ সংস্থা ও দুদকে দেওয়া চিঠিতে লিয়াকত আলী খানকে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের আপন খালাতো ভাই এবং তাঁর অবৈধ সম্পদের ‘রক্ষক’ হিসেবে দাবি করা হয়। আউয়ালের অবৈধ উপার্জিত সব অর্থ তাঁর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সিইসিকে দিয়ে তদবির করিয়ে তিনি অঢেল টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠে আসে। বর্তমানে কারাগারে থাকা হাবিবুল আউয়ালকে মুক্ত করতে লিয়াকত আলী খান বিভিন্নভাবে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও জানানো হয়।
অভিযোগের শেষ অংশে দাবি করা হয়, লিয়াকত আলী খান বর্তমানে দেশ অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজধানীতে নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে অর্থ জোগান দিচ্ছেন। সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাঁর অর্জিত সম্পদের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান এবং বর্তমান গতিবিধি নজরদারিতে এনে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।