লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) চলতি আসরে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেই না। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়েও বাইরের নানান অব্যবস্থাপনা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের পেশাদারিত্ব নিয়ে। তারই সূত্র ধরে এবার লজিস্টিক ও প্রশাসনিক ভুলের চরম খেসারত দিতে হলো পাকিস্তানি পেস তারকা শাহীন শাহ আফ্রিদিকে। টিম ম্যানেজমেন্টের বড়সড় ভুলে ম্যাচ খেলার সুযোগ হারিয়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছিলেন এই বাঁহাতি পেসার।
ভারতীয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘আউটলুক স্পোর্টস’-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলম্বো ক্যাপসের বিপক্ষে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে ক্যান্ডি রয়্যালস টিম ম্যানেজমেন্ট শাহীনকে জানায় যে, তাকে আজকের (১৯ জুলাই) ম্যাচে ‘ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে খেলানো হবে। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, ইনিংসের মাঝপথে কোচিং স্টাফের লোকজন এসে তাকে জানান যে, ম্যাচ অফিশিয়ালদের কাছে জমা দেওয়া মূল টিম শিটে নাকি তার নামটাই নেই! নিয়মবহির্ভূত এই মারাত্মক ভুলে দলের সঙ্গে মাঠে থেকেই দর্শক হয়ে থাকতে হয় তাকে।
এমন অপেশাদার আচরণে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন শাহীন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তিনি হাল্কাভাবে নেননি; বরং কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে টুর্নামেন্টের দুর্নীতিবিরোধী ইউনিট (এসিইউ) ও ম্যাচ রেফারির কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। শুধু তাই নয়, এই অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে লঙ্কা ছেড়ে সরাসরি পাকিস্তান ফিরে যাওয়ারও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন তিনি।
অবশ্য পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নড়েচড়ে বসে আয়োজকরা। এলপিএল কর্তৃপক্ষ ও ক্যান্ডি রয়্যালস টিম ম্যানেজমেন্ট ভুল টিম শিট জমা দেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে নেয়। পরবর্তীতে শাহীনের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়ে টুর্নামেন্টে খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানায় তারা। শেষ পর্যন্ত ফ্র্যাঞ্চাইজির দুঃখপ্রকাশ ও আশ্বাসে রাগ ভাঙলে টুর্নামেন্ট না ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন এই পাকিস্তানি গতি তারকা।
এদিকে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকেই নানামুখী বিতর্কে জর্জরিত এলপিএল। এর আগে আসর শুরুর আগেই ফিক্সিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে জাফনা কিংসের সহ-মালিক ও অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মনজোত কালরাকে গ্রেপ্তার করে শ্রীলঙ্কার বিশেষ তদন্তকারী দল। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত জাফনা ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বাতিল করে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি)।
পিসিবি থেকে বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে ক্যান্ডি রয়্যালসে যোগ দেওয়া শাহীন মাঠের লড়াইয়ে আছেন দারুণ ছন্দে। সাকিব আল হাসান-তাওহীদ হৃদয়দের জাফনা কিংসের বিপক্ষে আজ (শনিবার) ৪ ওভারে ২৭ রান নিয়েছেন দলীয় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। এতে ৪ ম্যাচের তার উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৭-এ। তবে তার দল ক্যান্ডি রয়্যালস বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের একদম তলানিতে ধুঁকছে। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে দলের ভেতরের এমন প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এখন টুর্নামেন্টের মান নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।