বাগেরহাটে আইনজীবী হত্যা: গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

বাগেরহাটে আইনজীবী নিজাম উদ্দীন শান্ত হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—বাগেরহাট পৌরসভার আলিয়া মাদরাসা সড়কের শেখ আবু দাউদের ছেলে শেখ মুরাদ (৪১), বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের পিসি ডেমা গ্রামের আবু দাউদের ছেলে আবু তাহের দীপু ওরফে দিপু (২৯), একই উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মোকসুদ আলীর ছেলে মো. হাফিজুর রহমান (৪৮) এবং মির্জাপুর গ্রামের এসকেন্দার শেখের ছেলে শিপন শেখ (২৮)।

হত্যার পরদিন শনিবার রাতে নিহতের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বলেন, গত শুক্রবার দিবাগত রাতে বাড়ি ফেরার পথে আইনজীবী নিজাম উদ্দীন শান্তকে পথরোধ করে একদল দুর্বৃত্ত ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় হত্যাকাণ্ডের ৫০ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন মুরাদ। হত্যার দিন রাত ১০টা থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় পর্যন্ত মুরাদ আইনজীবী নিজামের সঙ্গে ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর মুরাদের সহযোগীরা মোটরসাইকেল ও পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রবিবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তারা আইনজীবী নিজামের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। গভীর রাত পর্যন্ত তারা একসঙ্গে আড্ডা দিতেন। তবে তাদের মধ্যে মতবিরোধ ছিল এবং কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তারা নিজাম উদ্দীনকে দোষারোপ করে আসছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানান পুলিশ সুপার।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার গভীর রাতে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে আইনজীবী নিজাম উদ্দীন শান্তকে বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় পথরোধ করে দুর্বৃত্তরা ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

নিহত নিজাম উদ্দীন শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমভাগ গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে। তিনি বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত